হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

ভূরাজনীতিতে ক্রমেই গুরুত্ব হারাচ্ছে ভারত

মন্তব্য প্রতিবেদন

মাহমুদুর রহমান

ইসলামাবাদ বৈঠক সফল হয়নি। সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা ব্যর্থ করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবার যুদ্ধাবস্থায় ফিরে গেছে। হয়তো একটি বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার প্রায় পঞ্চাশ বছরের বৈরিতার অবসান হওয়া সম্ভবও ছিল না। যাই হোক, আমি আজ বৈঠকের ফলাফলের বিশ্লেষণ নয়, পাকিস্তানের রাজধানীতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজনের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে কী প্রভাব রাখতে পারে সে সম্পর্কে লিখতে বসেছি।

১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইরানে সফল ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে গত ৪৭ বছরে বৈরী দুই দেশের এতটা উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ কোনো ফোরামে মুখোমুখি বসেননি। সেদিক দিয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তান অসাধ্য সাধন করেছে বলা যেতে পারে। গত শনিবার বিশ্বের নজর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকেই ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্থায়ী যুদ্ধ বিরতি আলোচনায় দেশ দুটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যথাক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। আলোচনা পুরোপুরি সফল না হলেও এখন পর্যন্ত মন্দের ভালো হলো যে, আবার নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়নি।

ইসলামাবাদ বৈঠকে প্রত্যাশিত ফলাফল না আসায় আমার ধারণা, তিনটি দেশ ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের মানুষ হতাশ হয়েছে। উল্টো চিন্তার তিন দেশ হলো— ইসরাইল, আরব আমিরাত এবং ভারত। এদের মধ্যে ইসরাইল এবং আমিরাত যেহেতু ইরানকে একেবারে ধ্বংস করে দিতে চায় তাই এই বিরোধের কোনো কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান তাদের কাম্য নয়। অপরদিকে ভারতের মর্মযাতনার কারণ হলো, বৈঠক পুরোপুরি সফল হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তানের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হতো। নিজ দেশে বৈঠক আয়োজন করে পাকিস্তান যতটা গুরুত্ব পেয়েছে সেটাই হজম করা ভারতের পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল প্রচারের মাধ্যমে ভারতকে ‘সুপার পাওয়ার’ বানিয়ে দেশটির মিডিয়া যে বেলুন তৈরি করেছিল সেটি পাকিস্তান ফুটো করে দিয়েছে।

বিগত এক দশক ধরে ভারতীয় মিডিয়া তাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘বিশ্বগুরু’ বলে অবিরাম প্রচার চালিয়েছে। দেশটির অধিকাংশ মিডিয়াই আদানি এবং আম্বানির মতো মোদির অতি ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেগুলোর দৈনিক প্রচারণায়, বাস্তবতাবিবর্জিত ও নির্লজ্জভাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ব ভূরাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সরকার প্রধানের অনুরূপ অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখানো হয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হলে দিল্লির ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রচারযন্ত্র এক বিজ্ঞাপনচিত্র বানিয়ে সেখানে দেখিয়েছিল যে, রাশিয়া ও ইউক্রেনে আটকেপড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপে নাকি সেই যুদ্ধ কয়েকদিনের জন্য পুতিন এবং জেলেনেস্কি থামিয়ে দিয়েছিলেন! ভারতীয় চাপাবাজির আসলেই কোনো তুলনা হয় না।

নরেন্দ্র মোদির অফিসিয়াল টুইটার এবং ইন্সটাগ্রামে এখনো এই বিজ্ঞাপনচিত্র দেখা যায়। এসব হাস্যকর বিজ্ঞাপনচিত্র নিয়ে এখন খোদ ভারতেই বেশ ঠাট্টা-মশকরা চলে। ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক রাভীশ কুমারের ইউটিউব চ্যানেলে কদিন আগেই আমি ওটা দেখেছি। আকাশ ব্যানার্জী এবং ধ্রুব রাঠীর মতো জনপ্রিয়, নিরপেক্ষ ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সারদের কনটেন্টেও কথিত ‘বিশ্বগুরু’ নিয়ে তির্যক আলোচনা প্রায়ই শুনবেন। দিল্লিতে এমন এক ‘বিশ্বগুরু’ থাকতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট সেখানে না গিয়ে ইসলামাবাদে শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে শলাপরামর্শ করছেন, এই দৃশ্য ভারত সরকার এবং ‘গোদি মিডিয়ার’ পক্ষে হজম করা সম্ভব হয়নি।

উল্লিখিত বিজেপিপন্থি মিডিয়ার এক অ্যাংকর সাংবাদিকতার সব নিয়ম ও ভব্যতা বিসর্জন দিয়ে লাইভ অনুষ্ঠানে বৈঠকের আগের দিন প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন, ‘মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সকে বহন করা বিমান যেন ইসলামাবাদে না পৌঁছায়’। কট্টর হিন্দুদের কোনো কোনো মন্দিরে এই জাতীয় উদ্ভট প্রার্থনা নিয়ে পূজার আয়োজনও করা হয়েছে। এসব পূজা-অর্চনায় তেমন কোনো কাজ হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এক দিনের জন্য ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এবং দীর্ঘ ও অসফল আলোচনা সমাপ্ত করে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে গেছেন।

আকাশ-কুসুম কল্পনায় বলিউডের সিনেমা অবশ্য আদানি আম্বানির মালিকানাধীন সব মিডিয়ার প্রচারকে ছাড়িয়ে গেছে। ওরা কেবল প্রাচীন ইতিহাসই পাল্টাচ্ছে না, সাম্প্রতিক ঘটনাকেও সেলুলয়েডের পর্দায় বেমালুম উল্টে দিচ্ছে। বলিউডের গল্প অনুযায়ী ট্রাম্প, পুতিন, শি জিন পিংরা তো নস্যি, সারা বিশ্ব এখন নাকি নরেন্দ্র মোদি এবং ‘র’-এর প্রধান অজিত দোভালের অঙ্গুলি হেলনেই চলছে। চরম হিন্দুত্ববাদী দেশটির বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর এমন মাত্রায় মগজধোলাই করা হয়েছে যে, তারাও নেশাগ্রস্তের মতো এসব কল্পকাহিনিতেই বুঁদ হয়ে আছে। ভারতে বক্স অফিসে সফল সিনেমা তৈরির অব্যর্থ ফর্মুলা হলো, মুসলমানদের ভিলেন এবং পাকিস্তানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র দেখানো। এই জাতীয় অধিকাংশ ভারতীয় সিনেমায় নায়ককে ‘র’-এর এজেন্ট রূপে দেখানো হয়ে থাকে যে, ‘সুপারম্যান’ একাই পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের পুরো সেনা বাহিনীকে অহরহ নাস্তানাবুদ করে ফেলে।

আশা করি, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এই কোটি কোটি কল্প জগতের ‘জম্বি’ বাসিন্দাদের নেশা খানিকটা হলেও কেটেছে। অবশ্য, এ ব্যাপারে একেবারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এমনও হতে পারে যে, লজ্জাহীন বলিউডের আগামী কোনো সিনেমার কাহিনিতে দেখা যাবে, পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পরিবর্তে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান ইরান-মার্কিন আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন। স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির আলোচনা ইসলামাবাদে নয়, সেটা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বলিউডের গঞ্জিকাসেবী কাহিনিকার ও পরিচালকদের পক্ষে সর্বপ্রকার ইতিহাসবিকৃতি সম্ভব। যাকগে, বলিউডের বানোয়াট গল্প ছেড়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা যাক।

গত বছর মোদির অনেক ঢাকঢোল পেটানো ‘অপারেশন সিন্দুরের’ চমকপ্রদ ব্যর্থতাই পাকিস্তানকে নতুন করে আন্তর্জাতিক পাদপ্রদীপের আলোয় আনার প্রেক্ষাপট রচনা করেছিল। মাত্র চার দিনের আকাশ যুদ্ধে ভারতীয় বিমান বাহিনী চীনের সহায়তায় গড়ে তোলা পাকিস্তানের উন্নততর প্রযুক্তি ও মিসাইলের কাছে পর্যুদস্ত হলে রাতারাতি সারা বিশ্বে পাকিস্তানের সম্মান বেড়ে যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানি সেনাপ্রধান, আসিম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে ডেকে নিয়ে তাকে ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ সম্বোধন করে বসেন।

তার কিছুদিনের মধ্যে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি সম্পাদন করলে একে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুসলিম ন্যাটোর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাকিস্তান সুন্নি সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হলেও দেশটির সঙ্গে শিয়া ইরানের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি। বরং, রাষ্ট্র হিসেবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং অন্যান্য নানারকম সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে পারমাণবিক শক্তি, পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবস্থান ভারত ব্যতীত প্রায় সবাই মেনে নেয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক রাতের মধ্যে মানবসভ্যতার প্রাচীনতম, পারস্য সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন হুমকিতে সারা বিশ্ব যখন মহা বিরক্ত এবং চরম উদ্বিগ্ন বোধ করছিল সেই মুহূর্তে, পাকিস্তান অপর বিশ্বশক্তি চীনের সমর্থন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে হলেও পৃথিবীকে এক মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়।

গত শনিবারের ইসলামাবাদ আলোচনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এই চেষ্টার প্রথম পর্যায় ছিল সৌদি আরব, তুরস্ক এবং ইজিপ্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একযোগে পাকিস্তান সফর। এরপর থেকে চারটি দেশ যুদ্ধবিরতির জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করে। অপরদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসীম মুনিরের সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের জের ধরে ইরানের স্পিকার বাগের গালিবাফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় ইরান কখনই আলোচনার বৃত্তের বাইরে থাকেনি। উল্লেখ্য, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাগের গালিবাফ গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ হলেও তার বর্ণাঢ্য সামরিক অতীত রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গালিবাফ ১৯৮১ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডে কর্মরত থাকা অবস্থায় ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।

তিনি কেবল একজন বৈমানিকই নন, ২০০৫ সালে বাগের গালিবাফ তেহরানের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই গালিবাফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ বৈঠকে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। মার্কিন এফ-১৬ এবং চীনা জেএফ-১৭ ও এওয়াক্স বিমানের সমন্বয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি শক্তিশালী বহর ইসরাইলকে চ্যালেঞ্জ করে গাল্ফ থেকে পাহারা দিয়ে ইরানি প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে নিয়ে আসে। অপরদিকে মার্কিন দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এবং বিশেষ সহকারী স্টিভ উইটকফও মার্কিন দলে ছিলেন। ইসলামাবাদ বৈঠকের একদিন আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপানসহ ইউরোপ এবং এশিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ দেশ যৌথভাবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসাবাচক বিবৃতি দেওয়ার মাধ্যমে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। শুধু তাই নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরক্ষণে কেবল দুজন বিদেশি নেতার সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন। এদের একজন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং অপরজন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

পাকিস্তান যখন আন্তর্জাতিক পাদপ্রদীপের আলোয় নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধি করছে, সেই সময় স্বঘোষিত ‘বিশ্ব গুরু’ ভারত কিংবা তার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ এবং জিডিপির হিসাবে পাকিস্তানের দশ গুণ বৃহৎ হলেও দেশটির নাম কোনো আলোচনায় উচ্চারিত হয়নি।

ভারত নিজেকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অন্যতম নেতা হিসেবে সর্বদা জাহির করতে চাইলেও সাম্প্রতিক কোনো আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশটির কোনো ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল না। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্যে ভারতের মর্মযাতনার বিষয়টি দেশটির উদ্ধত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকরের বক্তব্যের মধ্য দিয়েও প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতীয় সংসদের এক বিশেষ সভায় কংগ্রেসের সদস্যরা পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে বিরক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী উষ্মার সঙ্গে পাকিস্তানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দালাল দেশ বলে অকূটনৈতিক ভাষায় গালমন্দ করেছেন। অথচ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি মোদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বিশেষ বন্ধু’ রূপে প্রচার করেছে। ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় কট্টরপন্থি হিন্দুরা ট্রাম্পের বিজয়ের জন্য মন্দিরে মন্দিরে পূজা পর্যন্ত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেবতা বানিয়ে মূর্তি নির্মাণ করেছে। গত বছর যুদ্ধের ময়দানে এবং এবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের কাছে মার খেয়ে মোদির প্রচার বাহিনীর এখন মোহ ভঙ্গ হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, পররাষ্ট্র নীতিতে ভারতের অতি চালাকি সবার কাছে ধরা পড়ে গেছে। রাশিয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নিষেধাজ্ঞা দিলে দুই দেশ থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভারত লাভবান হয়েছে। অথচ, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল এবং মার্কিন যৌথ হামলা শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নরেন্দ্র মোদি ইসরাইল সফর করে ‘সেটলার-কলোনিয়াল’ দেশটির সব গণহত্যা ও আগ্রাসনকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে এসেছেন। ইসরাইলের সংসদে বক্তৃতা প্রদানকালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলকে ভারতীয়দের পিতৃভূমি ঘোষণা করে এসেছিলেন।

মোদি হয়তো ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে তার প্রভাব বৃদ্ধির আশা করেছিলেন। কিন্তু, পাকিস্তানের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান এবং একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক চলমান দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটিকে তার প্রতিবেশীর তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তাছাড়া, ১৯৭১ সালে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে পাকিস্তানের বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার কথা ওয়াশিংটন সম্ভবত ভুলে যায়নি। ৫৫ বছর আগে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুতিয়ালি করে পাকিস্তান সফল হলেও এবারের ফলাফল এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি আবারও বিপজ্জনক করে তুলেছেন। একমাত্র আশার কথা হলো, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এখনো উভয় দেশ মেনে চলছেন। দেখা যাক, শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির জুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারেন কিনা।

বিচার বিভাগ কেন স্বাধীন হয় না

ইসরাইলের নির্মমতা : গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ

বাংলা নববর্ষের ইতিহাস

বাংলার হারানো সনের কথা

চোরতন্ত্রের দেশে নেপোকিডরা

শিক্ষক প্রশিক্ষণ : চাই শ্রেণিকক্ষে বাস্তব পরিবর্তন

পাঁচ জেনারেল ও বাংলার ট্র্যাজেডি

আমেরিকা কি আরেকটি যুদ্ধে হেরে গেল

বৈশাখী নববর্ষ, লাল ঝুঁটির মোরগ, কী আনন্দ!

ভূমধ্যসাগরের নীল জলে ডুবছে কেন জেনজিরা