হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

রাজনীতির ধারাপাত এবং এর পিচ্ছিল পথ

মিনার রশীদ

মিনার রশীদ

আমাদের প্রজন্ম কিংবা তার আগের প্রজন্মের লেখাপড়ার শুরু বা হাতেখড়ি হতো সহজ ধারাপাত আর বাল্যশিক্ষা দিয়ে। বর্তমান সময়ের মতো এত বাহারি আয়োজন ছিল না। সেই সহজ-সরল আয়োজনের মাধ্যমেই অক্ষর চেনানোর সঙ্গে সঙ্গে ছন্দ, নীতি আর শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো আমাদের। সহপাঠীদের সঙ্গে সুর করে তিনেকে তিন, তিন দুগুণে ছয়, তিন তিরিক্কা নয়-এই ছড়াগুলো এখনো আমাদের নস্টালজিক করে তোলে।

শিক্ষাব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে আধুনিক হয়েছে, পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে, বইয়ের নামও বদলেছে। একসময় যে কাজটি সহজ ধারাপাত ও বাল্যশিক্ষা করত, আজ তা করছে ভিন্ন নামে, ভিন্ন কাঠামোয়। কিন্তু মূল বিষয়টি রয়ে গেছে একই—হাতেখড়ি, ভিত্তি, প্রাথমিক বোধ তৈরি করা।

আজকের প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলা প্রথম বই, আনন্দপাঠ, বাংলা সহপাঠ, কিংবা আজকের ইংরেজি (English for Today)। নামগুলো আধুনিক, ছাপা ঝকঝকে ও ছবি রঙিন। কিন্তু ভেতরের উদ্দেশ্য সেই পুরোনোই—ভাষার সঙ্গে পরিচয়, ভাব প্রকাশের ক্ষমতা, নৈতিক বোধ আর চারপাশের বাস্তবতা বোঝা।

আগে যেমন ছড়া ও গল্পের মাধ্যমে শেখানো হতো কী ঠিক, কী ভুল—আজও গল্প আছে, চরিত্র আছে, প্রশ্ন আছে। আগে যেমন অক্ষর শেখানোর মধ্য দিয়ে চিন্তার শৃঙ্খলা তৈরি করা হতো, আজও তাই করা হয়—শুধু পদ্ধতিটা বদলেছে। অর্থাৎ ধারাপাত বদলায়নি, বদলেছে শুধু তার নাম ও মোড়ক।

এ বাস্তবতাই রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ‘তিন তিরিক্কা নয়’-এর মতো রাজনীতিরও একটা ধারাপাত রয়েছে! রাজনীতির ধারাপাতের বইয়ের নাম বদলাতে পারে-কেউ একে কৌশল বলে, কেউ জনসম্পৃক্ততা বলে, কেউ আবার রাজনৈতিক যোগাযোগ বলে। কিন্তু মূল বিষয়টি একই থেকে যায় : মানুষের মন বোঝা, মানুষের ভয় অনুধাবন করা এবং মানুষের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত থাকা।

শিক্ষায় যেমন ধারাপাত ছাড়া সামনে এগোনো যায় না, রাজনীতিতেও তেমনি প্রাথমিক পাঠ এড়িয়ে গেলে পরিণতি অনিবার্য। আধুনিক নাম, আধুনিক ভাষা কিংবা বড় মঞ্চ—কিছুই সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি। কারণ ভিত দুর্বল হলে, যত আধুনিকই হোক না কেন, কাঠামো একসময় না একসময় ধসে পড়ে।

কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো, এ দেশের রাজনীতিতে এমন অনেকেই প্রবেশ করেছেন, যারা রাজনীতির সেই প্রাথমিক ধারাপাতটাই কখনো পড়েননি। আদর্শ, সাংগঠনিক বাস্তবতা, জনমানুষের মনস্তত্ত্ব—এই মৌলিক পাঠগুলো না নিয়েই তারা সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে উঠে এসেছেন।

এই তালিকায় এমন মানুষও আছেন, যারা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী, সংবিধানপ্রণেতা হিসেবে পরিচিত। অথচ ঢাকার একটি সাধারণ সংসদীয় আসনে গিয়ে তারা একজন অখ্যাত প্রার্থীর কাছেই জামানত হারিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনের উদাহরণ এখানে আলাদা করে বলার কিছু নেই—তিনি একা নন, আরো অনেকেই এই বাস্তবতার শিকার।

২০১৮ সালের আগে আগে সেই ড. কামাল হোসেন হঠাৎ করে এ দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন! তাকে রাজনৈতিক ‘পৌরোহিত’ মেনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি এবং জামায়াতসহ সব বিরোধী রাজনৈতিক দল। মনে হচ্ছিল কেউ যেন বেঁধে এই দলগুলো সেদিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তাছাড়া হাসিনা সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ১৮-দলীয় জোট যে ভুল করেনি-সেটা প্রমাণের তাগিদ থেকেও ২০১৮ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। তবে নতুনত্ব হলো ড. কামাল হোসেনের পৌরোহিত্য মেনে নেওয়ার বিষয়টি। এতে নিঃসন্দেহে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার বিশেষ ভূমিকা ছিল! সেই নির্বাচন ছিল এমন এক নাটকের মঞ্চ, যেখানে ড. কামাল হোসেনের পীরত্ব কিংবা পৌরোহিত্য নিরঙ্কুশ করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে কার্যত অন্তরীণ করে রাখা হয়েছিল। তার বাসার সামনে ফেলে রাখা বালুর ট্রাক সরানোও সম্ভব হয়নি—এ দৃশ্যই তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক হয়ে আছে।

আজ যখন সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবই আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্রের সঙ্গী হিসেবে পেতে আবেগঘন আহ্বান জানান, তখন স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো সন্দেহগুলো নতুন করে দানা বাঁধে। প্রশ্ন ওঠে—এটি কি রাজনৈতিক কৌশল, নাকি সেই ধারাপাত না পড়ারই ফল?

সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো, এই মানুষটিকেই আমরা দেখেছি আজকের গণতান্ত্রিক স্বপ্নসঙ্গী আওয়ামী জমানায় নিজের নেতাকর্মীদের অসহায়ত্ব দেখে ক্যামেরার সামনে হাউমাউ করে কাঁদতে। সেই কান্না ছিল বাস্তব, না কি রাজনীতির আরেকটি দৃশ্য-সেই প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে পাচ্ছি না।

রাজনীতি কোনো আবেগি বক্তৃতার মঞ্চ নয়, আবার শুধু আইনি ব্যাখ্যার খাতাও নয়। রাজনীতি হলো মানুষের সঙ্গে থাকা, বাস্তবতা বোঝা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—রাজনীতির ধারাপাত ঠিকভাবে আয়ত্ত করা। যে সেই প্রাথমিক পাঠ এড়িয়ে যেতে চায়, ইতিহাস বারবার তাকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করায়—পরাজয়ের সামনে।

গোল্ডফিশ মেমোরির রাজনীতি ও আত্মবিস্মৃতির বিপদ

বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হলো আমাদের গোল্ডফিশ মেমোরি—স্বল্প স্মৃতিশক্তি। ইতিহাসের ভয়াবহ অধ্যায়গুলো বারবার ভুলে যাওয়ার এই প্রবণতাই কিছু রাজনৈতিক নেতাকে এমন স্বপ্ন দেখার সাহস দেয়, যেখানে আওয়ামী লীগ আবার ‘গণতন্ত্রের সঙ্গী’ হয়ে উঠতে পারে। মির্জা ফখরুলদের সেই আকাঙ্ক্ষার পেছনে হয়তো কূটনৈতিক হিসাব আছে, কিন্তু ইতিহাসের আদালতে সেই আকাঙ্ক্ষা বড়ই দুর্বল।

এ কারণেই আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া জরুরি—আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক চর্চার প্রকৃত ইতিহাস।

বাকশাল-১ : একদলীয় শাসনের নগ্ন রূপ

১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাকশাল ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রীয় কবর। চারটি পত্রিকা রেখে দেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করা হয় রাষ্ট্রীয় ঘোষণার মাধ্যমে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে কাগজে রেখে বাস্তবে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়।

এ সময়েই সিরাজ শিকদারকে হত্যা করে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল-‘কোথায় আজ সেই সিরাজ শিকদার?’ এটি শুধু একটি বক্তব্য নয়, এটি ছিল রাষ্ট্রীয় শক্তির দম্ভপূর্ণ স্বীকারোক্তি—ভিন্নমতকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা।

রক্ষীবাহিনী ও রাজনৈতিক নিধনযজ্ঞ

রক্ষীবাহিনীর হাতে জাসদের প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মী নিহত হওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায়। বিচারহীনতা, গুম, হত্যাকাণ্ড—সবকিছুই ঘটেছে ‘বিপ্লব রক্ষা’ বা ‘রাষ্ট্র রক্ষা’-এর নামে। এগুলো কি গণতান্ত্রিক মানসিকতার নমুনা?

১৯৯১-৯৬ : গণতন্ত্রকে অচল করার শপথ

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে দেশ ও জনগণের বিপদ বাড়ে, বিরোধী দলে থাকলে বাড়ে আপদ!

১৯৯১ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার প্রকাশ্য প্রতিজ্ঞা করেছিল আওয়ামী লীগ। লাগাতার হরতাল, অবরোধ, সংসদ বর্জন—সব মিলিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, নির্বাচনে হেরে গিয়ে রাজপথে রাষ্ট্র অচল করাকে কি গণতন্ত্র বলা যায়?

বাকশাল-২ (২০০৯-২৪) : আরো পরিশীলিত, আরো ভয়াবহ

২০০৯ থেকে ২০২৪—এই সময়টিকে অনেকেই যথার্থভাবেই বাকশাল-২ বলেন। এখানে আর একদলীয় শাসনের ঘোষণা ছিল না, কিন্তু বাস্তবে ছিল একদলীয় নিয়ন্ত্রণ।

নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু ভোট হয়নি। সংসদ ছিল, কিন্তু বিরোধী কণ্ঠ ছিল না। বিচার বিভাগ ছিল, কিন্তু স্বাধীনতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মিডিয়া ছিল, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভয় ছিল সর্বত্র। গুম, খুন, ক্রসফায়ার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার—সব মিলিয়ে এটি ছিল ভয়কে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করার সময়কাল।

ইতিহাস ভুলে গেলে ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়

মির্জা ফখরুলরা এসব ভুলে যেতে পারেন, কূটনৈতিক বাস্তবতায় চোখ বন্ধ রাখতে পারেন। কিন্তু দেশবাসী ভুলে যায়নি। ভুলবেও না। কারণ যারা এই দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের স্মৃতি কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় মুছে যায় না।

গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের নাম নয়। গণতন্ত্র মানে ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা, ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া এবং রাষ্ট্রকে দল নয়—জাতির সম্পত্তি হিসেবে দেখা। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়। এই বাস্তবতা অস্বীকার করা মানে ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা করা। আজ যদি আমরা আবার সেই প্রতারণায় পা দিই, তাহলে সংকটে শুধু বিএনপিই পড়বে না, পড়বে সারা দেশ।

‘ভয়ের পরিবেশ’ নাকি জনগণের জবাবদিহির চাপ?

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আনাম নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেন বাংলাদেশের গণমাধ্যম সংকটের একমাত্র ভুক্তভোগী তিনিই। ভয়, চাপ, হুমকি—এই শব্দগুলো বারবার এসেছে। কিন্তু তার উচ্চারণে যেটি অনুপস্থিত, সেটি হলো আত্মসমালোচনা। ভিক্টিমহুডের আবরণে তিনি এমন এক দীর্ঘ ও বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন, যা আজ আর ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

প্রথমেই স্পষ্ট করে বলা দরকার—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরাও বলি কথার জবাব কথা দিয়ে দিতে হবে, লেখার জবাব লেখা দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু একটি নিন্দনীয় ঘটনার ওপর ভর করে নিজেকে নৈতিক উচ্চাসনে বসানো এবং অতীতের সব দায় ঝেড়ে ফেলা গুরুতর অসততা। এই কাজটিই মতি-মাহফুজ চক্র অনবরত করে যাচ্ছেন! আগুনের ঘটনার নিন্দা যেমন জরুরি, তেমনি এটিকে রাজনৈতিক ও নৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাও অগ্রহণযোগ্য।

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাহফুজ আনামের নেতৃত্বাধীন পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতৃত্ব ও জিয়া পরিবারকে লক্ষ করে শত শত অভিযোগ, অপপ্রচার ও চরিত্রহননমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আজ হঠাৎ করে সেই একই শক্তির প্রতি অতিরঞ্জিত প্রশংসা বিশ্বাসযোগ্যতার চরম সংকট তৈরি করে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নীতির এই ইউ-টার্ন কি সাংবাদিকতার আদর্শ, নাকি সুবিধাবাদী অবস্থান পরিবর্তন?

এর চেয়েও ভয়ংকর ভূমিকা ছিল তথাকথিত ‘জঙ্গিবাদবিরোধী’ বয়ানে। অসংখ্য নিরীহ মানুষ, মাদরাসাশিক্ষার্থী ও আলেম সমাজকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘জঙ্গি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে স্বাধীন সাংবাদিকতা নয়, বরং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে এমবেডেড জার্নালিজমই বেশি চোখে পড়েছে। ফ্যাসিবাদের ডিজাইনমতো রাষ্ট্রীয় বাহিনী-যা বলেছে, সেটিকেই সত্য ধরে নিয়ে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রশ্নগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে পাশ কাটানো হয়েছে। এই অপরাধের দায় শুধু রাষ্ট্রের নয়; সহায়ক গণমাধ্যমকেও এর নৈতিক দায় নিতে হবে। আলজাজিরার মতো গণমাধ্যম মাহফুজ আনামকে এই প্রশ্নগুলো কেন করেনি-সেটাও বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে!

মাহফুজ আনাম এখন যে ‘ভয়ের পরিবেশ’-এর কথা বলছেন, তা কোনো অদৃশ্য গোষ্ঠীর চাপ নয়। এটি জনগণের জবাবদিহির চাপ। মানুষ আজ প্রশ্ন করছে-কে কোন সময়ে ক্ষমতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে, কে রাষ্ট্রীয় অপকর্মকে বৈধতা দিয়েছে আর কে নির্যাতিতদের কণ্ঠ রোধ করেছে। জনগণের মনের এই প্রশ্নটিই মাহফুজ আনামের কাছে ভয় হয়ে ফিরে আসছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে দায়মুক্তি নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে সত্য বলা যেমন জরুরি, তেমনি ভুল স্বীকার করাও অপরিহার্য। কিন্তু মাহফুজ আনামের বক্তব্যে অনুশোচনা নেই, ক্ষমা নেই, আছে শুধু আত্মপক্ষ সমর্থন। এটি সাংবাদিকতার সংকট নয়, এটি বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম যদি সত্যিই আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে ভিক্টিমহুডের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আয়নায় তাকিয়ে নিজের ভূমিকার হিসাব দিতে হবে। আগুনের ঘটনায় সহানুভূতি পাওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাস বিকৃত করে নৈতিক দায় এড়ানো যায় না। জনগণ আর একমুখী বয়ান শুনতে প্রস্তুত নয়—এটাই আজকের বাস্তবতা।

এটি মেনে নিতেই মাহফুজ আনামদের কষ্ট হচ্ছে!

ইনসাফের দাবিতে অর্থনীতির ইনকিলাব

রাজনৈতিক সংস্কৃতির নবায়ন ও ‘হাদি মডেল’

হারজিতে জেনজি নাকি সুইং ভোট ফ্যাক্টর

বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির শাশ্বত শবেবরাত

ক্ষমতার হিসাব আছে, মানুষের জীবনের নেই

উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত একঘরে

প্রচারাভিযানে খালেদা জিয়াই সেরা

কমলার (হাসিনা) বনবাস ও লেন্দুপ দর্জি প্রসঙ্গ

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের প্রশ্ন

পিপিপি ও জি-টু-জি মডেল বন্দর ব্যবস্থাপনার টেকসই আধুনিকায়ন