আজকের লেখাটির শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছি। আমার মনে হয় এ ঘটনা অন্য কোথাও কেউ লেখেননি। আমিও অনেক দিন আগে ঘটনাটি শুনেছি। তবে পাবলিকলি প্রকাশ করা ঠিক হবে কি নাÑতা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে জনগণকে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে এটি জানিয়ে দেওয়া দরকার।
এক ভদ্রলোক নেহাত এক প্রয়োজনে ইসকান্দার মজুমদার সাহেবের শরণাপন্ন হয়েছেন। স্রেফ মানবিক ব্যাপারÑনির্দোষ সামাজিক সহযোগিতা। মজুমদার সাহেব ভাবলেন, এটি বললে হয়তো প্রেসিডেন্ট জামাই রাগ করবেন না। প্রেসিডেন্ট লাঞ্চে বাসায় আসবেন এবং তিনি তখন নিজ মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথাটি সারবেন । এ রকম হিসাব করেই তিনি মেয়ের জামাইয়ের মইনুল হোসেন রোডের বাড়িতে গেলেন। প্রেসিডেন্ট বাসায় এলেন। যথারীতি সালাম এবং কুশলবিনিময় হলো। যথারীতি সমীহের সঙ্গেই শ্বশুরের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করলেন। এরপর দুজনেই দুপুরের খাবার খাওয়া শুরু করলেন। ইসকান্দার সাহেব একটু আমতা আমতা করে শুরু করলেন, বাবা, কী বলব লোকজন বলে প্রেসিডেন্টের শ্বশুর। এটুকু শুনেই প্রেসিডেন্টের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। বললেন, ওহ তাহলে আপনিও তদবির শুরু করে দিয়েছেন?
পরিবেশ কোন দিকে যাচ্ছে, এটি টের পেয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যে এডিসি ঢুকেছিলেনÑতিনি দৌড়ে ডাইনিং রুম থেকে বের হয়ে আসেন। ওই এডিসি সাহেবই ওই ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে তার নিকটজন এবং বন্ধু-বান্ধবের কাছে বর্ণনা করেছেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তদবিরের বিরুদ্ধে কতটুকু সতর্ক ও কঠোর ছিলেনÑউপরের ঘটনার মাধ্যমে তা আঁচ করা যায়। একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য তিনি এই কঠোরতাটি অবলম্বন করেছিলেন। কে ডান, কে বাম এটি তিনি দেখতেন না । কে নিজ দলের আর কে বিরোধী দলের, সেটিও তিনি দেখতেন না। তিনি শুধু দেখতেন প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতা।
আজকে জিয়ার সৈনিক হিসেবে দাবি করে বড় বড় পদ বাগিয়েছেনÑতারা কেউ কি নিজের শ্বশুর মশায়ের মুখের ওপর এ রকম শক্ত কথা বলার সাহস দেখাতে পারবেন? দলটির অনেক মুনশি জানেনও না যে উনি কার শিরনি খাচ্ছেন । যে জিয়ার সততার গল্প শুনে এ রকম ধাক্কা খেতামÑএখন সেই দলের জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলের আইএসসি পাসের খবর শুনে ততোধিক বড় ধাক্কা খেতে হয়।
বিএনপির সাইকোলজি বা মনস্তত্ত্বে একসময়ের জোটের জুনিয়র পার্টনার জামায়াতকে প্রতিপক্ষ বা একই লেবেলের বিরোধী দল হিসেবে মেনে নেওয়া কষ্টকর বৈকি। এর একটা মনস্তাত্ত্বিক কিংবা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যেতে পারে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য একটি দলের টেনশন বা প্রতিযোগিতা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু একটি দলের সঙ্গে একটি কাগজের টেনশন কিছুটা অস্বাভাবিক লাগছে। কোনো একটা জায়গা থেকে এই টেনশনটি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বা তাতে হাওয়া দেওয়া হচ্ছে।
আমার দেশ-এর বর্তমান ভূমিকা নিয়ে বর্তমান শাসক দলটির একটি অংশের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বা ক্ষোভ লক্ষ করা যাচ্ছে। আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে এই হতাশা বা ক্ষোভটি বিএনপির কোনো স্তরের নেতৃত্বের মাঝে দেখা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত মাত্র দুজন মাঝারি গোছের হাইব্রিড নেতা কাগজটির ওপর মনের ঝাল মিটিয়েছেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপির প্রক্সিদের একটা সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
এই প্রক্সিরা হলেন কনের সইদের মতোÑকনে কবুল বলতে না পারলে কনের কোনো সই কবুল বলে দেন এবং খাজেগানে মজলিশ তা কনের কবুল ধরে ‘মাশাল্লাহ-মাশাল্লাহ’ বলা শুরু করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ‘খাজেগানে মজলিশ’রা আবার সক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কাজেই সাধু সাবধান।
দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। একই সঙ্গে বিরোধী দলের কাজ সরকারকে ঠিক ট্র্যাকে রাখা। ফলে প্রত্যেকটি ম্যাচিউরড গণতন্ত্রে গণমাধ্যম কিছুটা বিরোধী দলের পক্ষে কাজ করে ।
আমার কেন যেন মনে হচ্ছেÑবিএনপি আজ যে চোখে আমার দেশকে দেখছেÑ১১ দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় এলে অনেকটা কাছাকাছি দৃষ্টিতে তারা আমার দেশকে দেখতেন। আর আমরাও ‘গুপ্ত বিএনপি’ হিসেবে বিবেচিত হতাম। ইসলামবিরোধী ট্যাগও হয়তোবা জুটে যেত।
মিডিয়ার সত্যকথন বা বস্তুনিষ্ঠতা ততটুকুই ভালোবাসি, যতটুকু নিজের পক্ষে যায়। একটু বিপক্ষে গেলেই আগের সবকিছু ভুলে গ্রামের বাতাসীর মায়ের মতো ‘গোলামের-পুত-গোলাম’ ডেকে বসি।
সরাসরি জিয়া পরিবার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা দিয়ে যে সুশীল পত্রিকাগুলো বিএনপিকে ডোবানোর জন্য অজস্র মিথ্যা বলে গেছেÑসেগুলো নিয়ে এদের মনে কোনো ক্ষোভ বা খেদ নেই। জজ মিয়া মহানাটকের জজ মিয়াকে এরা ভুলে গেছেন। অথচ বিএনপিকে পিউরিফাই বা ভাসানোর নিয়তে আমার দেশ-এর সত্য রিপোর্টগুলো এরা সহ্য করতে পারছেন না।
আর এ সুযোগটি গ্রহণ করছে আমার দেশ এবং বিএনপির কমন শত্রুটি। কৌশলগত কারণেই তারা বিএনপির নতুন সুহৃদ সেজে গেছে। সমালোচনার এসব ছোটখাটো বন্যাকে বাধা দিলে সামনে ভয়ংকর সুনামিকে মোকাবিলা করতে হতে পারে।
আমার দেশ ছিল বিএনপির ধানক্ষেতের সঙ্গী এবং বর্তমান সুহৃদ এই ‘খাজেগানে মজলিশ’রা বিএনপির কুঞ্জবনের সাথি। সেই কুঞ্জবনের সাথিদের প্ররোচনায় বা উৎসাহে সেই ধানক্ষেতের সাথিদের ঘায়েল করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বিশেষ করে, যেই সাথি যাকে নড়ানো যাবে না, টলানো যাবে না, ভাঙা যাবে না, মচকানো যাবে নাÑঅন্য কোনো ইশারা দিলেও কাজ হবে না।
সরকারি দলটির প্রতি একটাই পরামর্শÑএসব গঠনমূলক সমালোচনা থেকে বেনিফিট নিতে চেষ্টা করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা যুদ্ধে কয়েক স্তরে বহু সংবাদপত্র ছিল। এত কিছুর পরও আওয়ামী লীগের পতন ঠেকাতে পারেনি। এত বড় মিডিয়া শক্তি ও সমর্থন নিয়েও কেন এই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হলো? পদার্থবিদ্যার সেই বিখ্যাত সূত্র দিয়েও আমার মনে হচ্ছে এর অন্তর্নিহিত কারণটি ব্যাখ্যা করা যায়। আমরা জানি E=mc2. এখানে E শক্তি, m ভর, আর c হলো আলোর বেগ। সত্য হলো আলো আর মিথ্যা হলো এর বিপরীত অন্ধকার। কাজেই মিথ্যার ভর যত বিশাল হোক না কেনÑওর গতি নেগেটিভ থাকায় কম ভরের সত্যের সামনে টিকতে পারে না।
কাজেই আমার দেশসহ যারাই সত্য কিংবা বস্তুনিষ্ঠতার পক্ষে দাঁড়াবে, তারা মিথ্যার পক্ষের বিশাল বিশাল মিডিয়া শক্তিকে নৈতিকভাবে পরাজিত করবে ওপরের এই ফর্মুলাটি মেনেই। সত্যের খুব বেশি ভর বা সঙ্গী লাগে না। কুষ্টিয়ায় যখন একাকী ও নিঃসঙ্গ মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিবাদের দোসর কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছিলেন, তখন ওনার এই সামান্য ভরের সঙ্গে ছিল সত্যের সেই অপরিসীম গতি।
মিডিয়া জগতে এ রকম কয়েক সারির যোদ্ধা থাকলেও তারা আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত পতন থামাতে পারেনি। কারণ এদের সবার সঙ্গে ‘আমি খাড়ায়ে পড়লে তুমি বসাইয়া দিবা’Ñলীগের এ রকম একটা বোঝাপড়া ছিল। অন্যদিকে, আমার দেশ জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তির জন্য একটা ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করেছে। কাজেই ব্রাদার, এখন শরীর বা গতরটা একটু চুলকালেও শেষদিকে লীগের মতো দেশ ছাড়তে হবে না।
শেখ হাসিনার সময় দেখা গেছেÑএকটা বিশেষ কিসিমের মোসাহেব গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে। এরা ছিল অধিকতর চতুরÑএরা চারপাশের বাস্তবতাকে স্বীকার করত, অনিয়ম-দুর্নীতির কথাও তুলে ধরত। কিন্তু সবশেষে কনক্লুসন টানত, সবাই খারাপ; কিন্তু হাসিনা ভালো।
জনগণের ক্ষোভের উত্তাপ এরা হাসিনাকেও বুঝতে দেয়নি। হাসিনার চারপাশে এরা একটা ‘ইনসুলেটিং শিল্ড’ তৈরি করে ফেলেছিল। হাসিনার ইমেজ বৃদ্ধির জন্য ১০ টাকা দিয়ে চোখের ডাক্তারের টিকিট কেনার গল্প করত, দৈনিক মাত্র তিন-চার ঘণ্টা ঘুমানোর গল্প শোনাত, তার তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার গল্প করত, রবীন্দ্রসংগীত শোনার গল্প করত। হাসিনা অবশ্য অন্যের প্রশংসার জন্য অপেক্ষা করতেন না। নিজের প্রশংসার ঢুলটি নিজেই বাজাতেন। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে নিজ হাতে লাইট-ফ্যানের সুইচ বন্ধ করার কথা জানাতেন। জনগণকে কাঁঠালের বার্গার, পেঁয়াজ ছাড়া তরকারি খাওয়ার রেসিপি দিলেও নিজে খেয়েছেন দৈনিক ১০ কোটি টাকার খাবার।
শেখ হাসিনার এসব কাজের সঙ্গে একটা ডিএনএর প্রভাব লক্ষ করা যায়। একই হৃদমে ওনার বাবাও বলতেন, আমার ডানে চোর, বামে চোর। অথচ সেই চোরদের একটাকেও পাকড়াও করেননি। বরং সবচেয়ে বড় চোরটিকে (রেডক্রসের তখনকার চেয়ারম্যান) নিজের ক্যাশিয়ার বানিয়েছিলেন। একইভাবে নিজের দুই মেয়েও দুই মহাচোরকে নিজেদের ক্যাশিয়ার বানিয়েছিলেন।
দরিদ্রতম এবং কনিষ্ঠতম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে নিজস্ব বিমানে করে এবং ‘হেভি একটা ভাব’ নিয়ে কানাডার অটোয়ায় কমনওয়েলথ সম্মেলনে গেলেন ১৯৭৩ সালে । সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউয়ের বর্ণনায়, He arrived in style at Ottawa in his own aircraft. বিমানটি নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল আট দিন । আমাদের দুর্ভাগা কিংবা সৌভাগ্য যে এই দৃশ্যটি ধরা পড়ে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়কের চোখেÑএ যেন ‘পড়বি তো পড় মালীর ঘাড়ে’। তিনি তার বিশ্ব বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে এ ঘটনাটি আমাদের তখনকার সরকারপ্রধানের নামসহ উল্লেখ করে গেছেন। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লি কুয়ান ইউ নিজে গিয়েছিলেন সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানে চড়ে । তিনি যখন বিদায়ের সময় এয়ারপোর্টের দিকে রওনা হয়েছেন, তখন দেখেন খয়রাতের জন্য আবেদনকারী এই ড্যাশিং নেতার বিশেষ বিমানটিতে দুটি বড় বস্তা লোড করা হচ্ছে।
বিশ্বসভায় এ রকম করুণভাবে ধরা খাওয়াসহ এই দেশটির ইতিহাস গল্পের নেংটা রাজার কাহিনিতে ভরপুর। মোসাহেব দল পোশাকবিহীন রাজার পোশাকের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। আজব এক দেশ, রাস্তায় যেই দেখে সেই রাজার পোশাকের প্রশংসা করে। শেষমেশ এক বাচ্চা ছেলে জানিয়ে দেয়, রাজার গায়ে কোনো পোশাক নেই।
সব সিম্পটম দেখে মনে হচ্ছে তারেক রহমানকে ঘিরে এ রকম একটা মোসাহেব গোষ্ঠীর জন্ম সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু এর সব দায় যে প্রধানমন্ত্রীর তা এরা বুঝতে দিচ্ছে না।
সব আলামত দেখে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার মতোই একই নেরেটিভ বানানোর পথে আমাদের এই প্রিয় ভাই সব যুক্ত হয়ে গেছেন। দেশের ব্যবসা এখনো সেই আগের অলিগার্কদের নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে। আমরা কিছু বিষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর পরও কোনো বিক্রিয়া বা ক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
জাতির প্রাণভোমরা হিসেবে বিবেচিত এনার্জি সেক্টর সেই আগের অলিগার্ক কিংবা তাদের পোষ্যদের হাতেই রয়ে গেছে। এসপিএম (Single Point Mooring) এবং এফএসআরইউ (Floating, Storage and Regasification Unit) নিয়ে দুটি কলাম আমিও লিখেছি। কিন্তু কোনোরূপ পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না।
বরং এসপিএম নির্মাণের অনিয়ম ঢাকতে অনেক কসরত করে ইন্দোনেশিয়ার একটা তৃতীয় শ্রেণির কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে। কাজ দেওয়ার পর নিয়মবহির্ভূতভাবে আবার সরকারি ট্যাক্সের ৩০০ কোটি টাকা সরকারের ওপর চাপানো হয়েছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সাপোর্টিং ডকুমেন্টসহ লেখা হয়েছে। তারপরও কোনো অ্যাকশন দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ট্রেন লাইন নির্মাণসহ আরো কিছু কাজের অর্ডার পাস হয়েছে। বিশ্বে এ রকম রাস্তা নির্মাণের তুলনামূলক খরচের হিসাবে দেখা যাচ্ছেÑআমাদের খরচ সর্বোচ্চ। এগুলো নিয়ে শেখ হাসিনার সময়ে আমরা অনেক সমালোচনা করেছি। এবার সেই খরচ না কমে আরো বেড়েছে। দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতি ও অদক্ষতার যে দুষ্টচক্রটি গড়ে উঠেছিল, তা শতভাগ মজুত রয়েছেÑশুধু কয়েকটি চেহারার পরিবর্তন হয়েছে মাত্র।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে একটা খণ্ড স্মৃতি এখনো হৃদয়ে গেঁথে আছে। ১৯৮০ সালের কোনো একটি দিন। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্ট জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেবেন। বয়েজ স্কাউট হিসেবে সেই ছোট মঞ্চে একপাশে আমি অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। একটু কান্নি দিয়ে দেখি, অন্যপাশে অনেকটা আমার মতোই অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ত্রিশালের তখনকার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল মনসুর আহমেদ।
কারো দিকে না তাকিয়ে প্রেসিডেন্ট মঞ্চে উঠলেন। তার এই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে এমপি সাহেব হাত মেলানোর সাহস দেখালেন না। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চের পাশে রাখা জিপটিতে গিয়ে চড়লেন। যে প্রেসিডেন্ট তার দলীয় এমপির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেন না। তিনিই জিপে চড়ে হাতটি বের করে দিলেন সাধারণ জনগণের উদ্দেশে। পুরো মাঠ ঘুরে অপেক্ষমাণ জনগণের সঙ্গে হাত মেলালেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ছিপছিপে শরীরটিতে যেমন কোনো মেদ জমতে পারেনি, তেমনি মোসাহেবরা তাকে ঘিরে ইনসুলেটিং শিল্ড তৈরি করতে পারেনি।
এই মাটির শ্রেষ্ঠ সন্তানটির সঙ্গে এই খণ্ড ও ছোট্ট স্মৃতিটুকু আমাকে নস্টালজিক করে তোলে। আজ এটি ভেবে ভালো লাগে যে সেই জিয়ার সন্তানই আমাদের সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার লাঞ্চ এবং সাধারণ জীবনযাপনের গল্প শুনে সবাই জিয়ার ছবিটি দেখতে পায়।
কিন্তু এই সুখের অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কেন হয় নাÑসেই কারণগুলো জরুরি ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা দরকার।
লেখক: কলামিস্ট