হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

অপরাজেয় ইরান ও মুসলিম নেতৃত্ব

মেহেদী হাসান

ইরান আগ্রাসনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি, ইরান আর্মি ও পুলিশের প্রতি একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন। তাতে তিনি বলেন, ‘তোমরা অস্ত্র নামিয়ে রাখ, আত্মসমর্পণ কর। আত্মসমর্পণ করলে তোমাদের পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হবে, অন্যথায় নিশ্চিত ‍মৃত্যু।’

কেন আর কীসের জন্য এই আত্মসমর্পণের আহ্বান? এই আত্মসমর্পণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কতগুলো চাওয়া মেনে নিতে হবে ইরানকে। এগুলো হলো, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে এবং ইরানে সরকার পরিবর্তন করে সেখানে তাদের অনুগত একটি পুতুল সরকার বসানো হবে।

ইরানি নেতৃত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের এ আহ্বান দ্বিধাহীন চিত্তে প্রত্যাখ্যান করে নিশ্চিত মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছে। ফলে এ যুদ্ধ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের পাতায় ইরান বিজয়ী আর পরাজিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম লেখা হয়ে গেছে।

সামরিক শক্তির দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি ইসরাইলের সঙ্গেও ইরানের সামরিক শক্তির তুলনা চলে না। পারমাণবিক বোমার বাইরে ইসরাইলের কাছে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিশ্বের সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান ফিফথ জেনারেশন স্টেলথ ফাইটার এফ-৩৫। রয়েছে শক্তিশালী মিসাইলসহ তিন স্তরের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তির অনেক অস্ত্র ও সিস্টেম। বর্তমান যুগে একটি দেশ সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন শাখায় যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের যদি শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম না থাকে, তাহলে যুদ্ধের শুরুতেই সেই দেশটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে ধরাশায়ী হবে। প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার মিসাইল ও ড্রোন ছাড়া ইরানের কাছে নেই উপযুক্ত কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। নেই এমন কোনো যুদ্ধবিমান, যা দিয়ে তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ চালাতে পারে অথবা আকাশে প্রতিপক্ষের কোনো আক্রমণ ঠেকাতে পারে। ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান হলো রাশিয়ার তৈরি পুরোনো মিগ-২৯, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আধুনিক যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বর্তমানে সম্পূর্ণ অকার্যকর। একইভাবে নৌশক্তিতেও ইরান খুবই ‍দুর্বল। সামরিক দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিপরীতে এ রকম দুর্বল একটি দেশ যখন প্রতিপক্ষের আত্মসমর্পণের আদেশ অমান্য করে মৃত্যুর পথ বেছে নেয়, তখন তার দিক থেকে এর যে মানে দাঁড়ায়, তা হলা—তোমার শক্তি আছে, তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারবে। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত কিন্তু আমি তোমার অন্যায় দাবি মেনে নিয়ে তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করব না। আমি তোমাকে ভয় পাই না এবং তুমি জোর করে আমার মাথা কেটে ফেলতে পারবে; কিন্তু আমার মাথা নোয়াতে পারবে না।

এ অবস্থায় শক্তিমান যখন দুর্বলকে হত্যা ও ধ্বংসের জন্য আঘাত করে, তখন সঙ্গে সঙ্গে মাথা উঁচু করে রাখা দুর্বলই বিজয়ী আর আক্রমণকারীই হলো প্রকৃত অর্থে পরাজিত। চলমান এ যুদ্ধে ইরান যদি সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যায়, ইরান নামক কোনো দেশের অস্তিত্বও যদি আর পৃথিবীতে না থাকে, তবু ইরানই জয়ী এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরাজিত। কারণ পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন ইতিহাসে লেখা থাকবে ইরান বিশ্বের সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের পালিত ও গায়ের জোরে সৃষ্ট রাষ্ট্র ইসরাইলের অন্যায় দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি; বরং বিশ্বশক্তির অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল, মাথা উঁচু করেই তাদের সব শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক নেতারা মৃত্যুবরণ করেছেন।

ইরান যুদ্ধ এমন একসময় শুরু হয়েছে, যখন বিশ্বের কোথাও মুসলমানদের কোনো অবস্থান নেই। সারা বিশ্বে তারা বিভিন্নভাবে পদানত, নিপীড়িত ও লাঞ্ছিত। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের পেট্রোডলার চুক্তির পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব রাজারা দেখিয়েছেন কীভাবে সিংহাসন রক্ষার জন্য নিজেদের পরাশক্তির দাসে পরিণত করতে হয়। অথচ যে পেট্রোলিয়াম ছাড়া অচল বর্তমান বিশ্বসভ্যতার চাকা, সেই পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র তাদের কাছে থাকার পরও তারা যুগ যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পদানত। তাদেরই চোখের সামনে তাদের বুকের মধ্যে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পোকামাকড়ের মতো পিষে মারছে । কিন্তু তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। একইভাবে ইসরাইল ধ্বংস করে চলছে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করেছে ইরাক, লিবিয়া ও আফগানিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গাজায় যখন ইসরাইল একের পর এক বর্বরতার নতুন রেকর্ড স্থাপন করে চলছে, তখন সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করেছে। এ সফরে তিনটি দেশ মিলে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চুক্তি করে। এর মাধ্যমে মূলত তারা গাজাসহ ফিলিস্তিনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরাইলের গণহত্যা, জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে উৎসাহিত করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব রাজারা যেমন গদি রক্ষায় নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের পদানত করেছে, তেমনি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাসন ক্ষমতায় রয়েছে নামেমাত্র মুসলিম নেতা ও সরকার। আমাদের দেশে যেমন শেখ হাসিনা ক্ষমতার জন্য দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলেন, তেমনি বিভিন্ন দেশে ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন মুসলিম নামধারী শাসকরা নিজেদের কোনো না কোনো শক্তির পদানত করেছেন। কোথাও বিদেশি প্রভুকে ম্যানেজ করে, কোথাও বন্দুকের জোরে, কোথাও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় রয়েছেন মুসলমান নামধারী শাসকরা। এসব শাসকের কেউ কেউ ক্ষমতায় থাকার জন্য নিজ দেশের মানুষের ওপর গণহত্যা পরিচালনায় দ্বিধা করেন না। বেশির ভাগ শাসকের চরিত্র বহুমাত্রিক কদর্যতার চাদরে আচ্ছাদিত। ‍দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া সার্বিকভাবে এই হলো কয়েক দশক ধরে বিশ্বে নামেমাত্র মুসলিম শাসকদের পরিচয়। ফলে ইরান আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সীমাহীন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইরানের পাশে দাঁড়ানো দূরে থাক একটি শক্ত বিবৃতি দেওয়ার হিম্মত পর্যন্ত নেই তাদের।

মুসলিম বিশ্বের দেশে দেশে নামেমাত্র এই মুসলিম সরকার ও নেতৃত্বের ফলে দশকের পর দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু মুসলমানরা বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক শাসক ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যম নির্যাতন, নিষ্পেষণ, দমন-পীড়ন, গণহত্যা, জাতিগত নিধন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে বাধাহীনভাবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের একের পর এক বিভিন্ন মুসলিম দেশে মিথ্যা অভিযোগে আগ্রাসন চালিয়ে ধ্বংস করে চলছে। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ গত প্রায় চার দশকে যেসব মুসলিম দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে, তাতে সহায়তা করেছে আরব রাজারাসহ অনেক নামধারী মুসলিম দেশের সরকার। অন্যদিকে সুদান, ইথিওপিয়াসহ দেশে দেশে যেখানে ক্ষমতার জন্য মুসলিম নামধারী শাসক ও নেতারা নিজ দেশের মানুষের ওপর পৈশাচিক বর্বরতা ও গণহত্যা চালান, সেখানে তাদের মতো কোনো নেতার পক্ষেই ইসরাইল এবং আমেরিকা কর্তৃক বিভিন্ন দেশে সাধারণ মুসলমান জনগোষ্ঠী হত্যা ও দেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

দশকের পর দশক ধরে বিশ্বব্যাপী মুসলিম নামক সম্প্রদায়ের এই যখন নতজানু, অপমান আর অমর্যাদাকর চিত্র, তখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরান জাতির শির উঁচু করে দাঁড়ানার এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সংজ্ঞা ও পরিচয় নতুনভাবে চিত্রিত করতে সহায়ক হবে। আর এটি এ সময় খুবই অপরিহার্য ছিল, যা করে দেখিয়েছে ইরান।

বস্তুত ইমাম খোমেনির পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্ব এই মানের কোনো প্রভাবশালী ও ঈমানি চেতনায় বলিষ্ঠ মুসলিম নেতা দেখেনি। ব্যতিক্রম ‍দু-একজন ছাড়া দুঃশাসন, দুর্নীতি, সীমাহীন ভোগ-বিলাস আর বহুমাত্রিক নৈতিক স্খলন—এই হলো দেশে দেশে মুসলিম শাসকদের বৈশিষ্ট্য। তার বিপরীতে ইমাম খোমেনি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যারা ইরানে প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা এসব থেকে যোজন যোজন দূরে। সিরিয়াসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে ইরানের সাম্প্রতিক নেতৃত্ব ভুলনীতি অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলসহ পশ্চিমাদের শত অন্যায়ের কাছে শির উঁচু রেখে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্ব ও জেনারেলদের আত্মত্যাগ শুধু মুসলিম বিশ্বে নয়; বরং পুরো বিশ্বে প্রেরণা ও প্রতিবাদের দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন। নিপীড়িত বিশ্ব যেন বহুকাল এ রকম দৃষ্টান্তের অপেক্ষায় ছিলেন।

যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী পশ্চিমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার জন্য মুসলিম বিশ্বে না আছে ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান কোনো নেতা আর না আছে তাদের উপযুক্ত সামরিক শক্তি। অথচ ১৯৭৪ সালের পর থেকে সৌদি আরবসহ আরবা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে পরিমাণ সমরাস্ত্র কিনেছে, সেই অর্থ নিজ দেশে সমরাস্ত্র শিল্প স্থাপনে ব্যয় করলে তারাই হতে পারত বিশ্বের সর্বাধুনিক সমরাস্ত্রের নির্মাতা ও বিশ্বব্যাপী সমরাস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা।

দশকের পর দশক ধরে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিশালী দেশগুলোর নেতৃত্বে মুসলমানসহ দুর্বল বিভিন্ন দেশ এবং জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে অন্যায়, অবিচার ও আগ্রাসন চলছে, তা প্রতিরোধ করার জন্য যা কিছুর প্রয়োজন ছিল, তার সবই ছিল মুসলমানদের; কিন্তু নেই উপযুক্ত নেতৃত্ব । ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, সুদান থেকে শুরু করে যেখানেই যে প্রান্তে যে দমনপীড়ন চলছে, তা বন্ধে যেসব দেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারত, তা হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো। কারণ তাদের কাছে ছিল তেল অস্ত্র, যার মাধ্যমে অচল করে দেওয়া যায় বিশ্ব। বস্তুত আরবরা যাতে তাদের এই তেল অস্ত্র পশ্চিমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে না পারে, সে জন্য ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সৌদি আরব এবং পরে অন্য আরবদের সঙ্গে পেট্রোডলার চুক্তি করে। পেট্রোডলার চুক্তির মূল কথা হলো—আরবদের রাজতন্ত্র রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিপরীতে আরবরা তাদের তেল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডলারে বিক্রি করবে । এ চুক্তির মাধ্যমে আরবদের তেলের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পক্ষ নেওয়ায় সৌদি বাদশাহ ফয়সালের নেতৃত্বে আরবরা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে তেল অবরোধ আরোপ করে। ফলে করুণ অবস্থার মুখোমুখি হয় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ তাদের মিত্ররা। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ পশ্চিমা বিশ্ব পরিকল্পনা করে আরবদের এই ভয়ংকর তেল অস্ত্র কীভাবে অকার্যকর করা যায়, তার উপায় নিয়ে। এই লক্ষ্যে গোপন মিশনে নামে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্স। তারা আরবদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি, কমিউনিজমভীতি জাগিয়ে পেট্রোডলার চুক্তি করাতে সক্ষম হয়।

অন্তত চার দশক ধরে মুসলিম বিশ্বের যেসব শাসক ক্ষমতার জন্য নিজেদের দানবে পরিণত করেছিলেন, তাদের প্রায় সবারই করুণ পরিণতি দেখেছে বিশ্ব। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ, আফগানিস্তানের আশরাফ গনির মতো অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং গণমানুষের ঘৃণা ছাড়া তাদের জন্য আর কিছু নেই। আবার ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার গাদ্দাফির করুণ পরিণতির পরও থেমে নেই দেশে দেশে ক্ষমতার জন্য তথাকথিত মুসলিম নেতাদের দানব ও দেশবিরোধী হয়ে ওঠা। ক্ষমতা এমনই এক বিষয়, যেখানে অন্যের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নেন, এমন শাসক খুব বিরল। ফলে ক্ষমতার জন্য অনেকেই নিজেকে দাসে পরিণত করেন। মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত এই মুসলিম নেতৃত্বের বিপরীতে ইরানের নেতারা দেখিয়েছেন তারা ক্ষমতার জন্য নিজেদের কারো দাসে পরিণত করেননি।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ

নদী-জলাশয় বাঁচলেই ঢাকা বাঁচবে

টেকসই উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনের চাবিকাঠি

একটি তপ্ত কেদারা এবং ডিজিটাল ফেতনা

শাপলার বেদনাবিধুর স্মৃতি ও নিভৃত বিচারের বাণী

গবেষণা হতে হবে বাস্তব চাহিদাভিত্তিক

সৌদির অর্থনীতি ঘায়েল করতেই ওপেক ছাড়ছে আমিরাত?

রাজনৈতিক দলের গড়ে ওঠা ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কথামালা

ভাইরাল ‘ভারচুয়াল’ সংস্কৃতির পথপরিক্রমা

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছেড়ে দিচ্ছে ইউরোপ

হাওরের হাহাকার