অন্যান্য দেশে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোয় ভারত সরকার হত্যা ও অপহরণে জড়িত—এমন জোরালো সন্দেহ রয়েছে। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোয় বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এবং রাজনীতি, নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়কে প্রভাবিত করতে অপহরণ, হত্যাকাণ্ড ও ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহারের মতো কাজ করে থাকে বলে ধারণা করা হয়। কানাডিয়ান সরকার ভারতের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে একজন শিখ কানাডীয় নাগরিককে হত্যার অভিযোগ এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এমন একটি হত্যাচেষ্টা সামনে এসেছে। অনেক দেশেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে।
এই পটভূমিতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। যদিও হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো বিদেশি সরকারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো প্রমাণ নেই, তবু ঘটনাটি নানামুখী জল্পনা-কল্পনা, রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতায় ভরা। সম্প্রতি ভারতে কিছু গ্রেপ্তারের ঘটনা, হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ এবং ভারতীয় রাজনীতিবিদদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমের শিরোনামে আবার নতুন করে উঠে এসেছে।
একটি হত্যাকাণ্ড, যা বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর বক্স কালভার্টের কাছে রিকশায় করে যাওয়ার সময় শরীফ ওসমান হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক মোটরসাইকেল আরোহী। হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুপরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। গুলি করার সময় শুটারের মাথায় হেলমেট ছিল।
হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এরপর নেওয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাদির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তার জানাজা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। সাধারণ বাংলাদেশিরা তার এই অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন; তারা মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ড সাদামাটা একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং তার রাজনীতি এবং আন্দোলনের কারণে এই হত্যাকাণ্ড। সমর্থকদের চোখে তিনি একজন ‘শহীদ’। হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ‘হাদি ইফেক্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত
এর পরপরই দেশজুড়ে পুলিশ বাহিনী বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটি মূলত ঢাকা মেট্রোপলিটন ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত করে। পুলিশ কর্মকর্তারা এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। গোয়েন্দারা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেই তদন্ত করেছেন।
শাহীন আহমেদ, যিনি ‘শাহীন চেয়ারম্যান’ নামে সমধিক পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে অর্থায়ন এবং নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ অভিযোগ করে, এই হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা একটি বিদেশি রাষ্ট্রে তৈরি হয়েছিল, যা সিঙ্গাপুর বলে তারা ধারণা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক প্রতিশোধ। শাহীনের বিরুদ্ধে বিদেশে বসে এই হত্যার পরিকল্পনা করা এবং তাতে অর্থ জোগানোর অভিযোগ আনা হয়। ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি ‘রাহুল’ এবং ‘দাউদ’ নামেও পরিচিত, তাকে পুলিশ শুটার বা গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। মাসুদের সহযোগী এবং মোটরসাইকেলের চালককে আলমগীর হোসেন (আলমগীর শেখ নামেও পরিচিত) হিসেবে শনাক্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর তারা আমদানি করা হ্যান্ডগান আগারগাঁওয়ে লুকিয়ে রাখে এবং পরে অস্ত্রগুলো নরসিংদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশ ছাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সীমান্তের ওপারে গ্রেপ্তার
এই মামলার সবচেয়ে বড় অগ্রগতি আসে ২০২৬ সালের ৭ মার্চ, যখন দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, সন্দেহভাজনরা মেঘালয় দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং পশ্চিমবঙ্গ হয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ভারতীয় কর্মকর্তারা দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজনরা স্বীকার করেছে, তারা সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল।
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের বিধাননগরের একটি আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) সন্দেহভাজনদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিষয়টি মূলত বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণভাবে সামলানোর বিষয় থাকলেও এই গ্রেপ্তারের ঘটনা তদন্তকে আন্তর্জাতিক রূপ দেয়। এখন দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ এই সন্দেহভাজনদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
আর্থিক লেনদেনের সূত্র এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্ক
কর্তৃপক্ষের পরিচালিত তদন্তে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং হাদি হত্যায় অভিযুক্ত অন্যদের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের চিত্রও উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তারা ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকারও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের সন্ধান পেয়েছেন। লেনদেনে জড়িত এই বিপুল অর্থ স্বভাবতই প্রশ্ন তুলেছে, কোনো রাজনৈতিক বা অপরাধী সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডে মদত দিয়েছিল কি না।
যদিও তারা নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের ওপর আলোকপাত করেছেন, তবু গোয়েন্দারা মনে করেন, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অর্থের সব উৎস এবং অর্থগ্রহণকারীদের বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। অর্থের এই সন্দেহজনক গতিপথ অনুসরণ করার মাধ্যমে যারা এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল, তাদের উন্মোচন করা সম্ভব হতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক দাবি
সম্ভবত সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বোমাটি এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের সদ্যবিদায়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ হাদি মামলার সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অমিত শাহ আমাকে বলেছিলেন, পুলিশ লোকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল (তদন্তের সময়) তাদের নাম উঠে আসছে।’
তার এই মন্তব্য দ্রুত তোলপাড় সৃষ্টি করে। কারণ এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করতে পারে এমন তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। যদি মমতার এই দাবি সত্য হয়, তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কী জানে এবং কেন তারা সেই তথ্য শেয়ার করতে অনিচ্ছুক, সে বিষয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তুলতে হবে। অন্যদিকে, যদি তার এই দাবি মিথ্যা হয়, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তার এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত একটি তদন্তকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরো বেশি রাজনৈতিকীকরণ করবে। মমতার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অমিত শাহ এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেননি।
বিবেচনার কাঠগড়ায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রায়ই ভারতীয় রাজনৈতিক নেতারা, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়, যা অনেক সময়ই বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অবস্থানে ফেলে দেয়। এই বিতর্ক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এমন একটি বিশেষ নাজুক সময়ে সামনে এসেছে।
বিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর কারণে বছরের পর বছর ধরে চলা উত্থানপতনের পর সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দুদেশের সরকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনাগুলোয় নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোই মূলত প্রাধান্য পেয়েছে।
হাদি হত্যা সম্পর্কে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের কাছে ভেতরের তথ্য রয়েছে—এমন দাবি বাংলাদেশের সেসব মহলের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দেবে, যারা ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক বা সন্দিহান। তারপরও, বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশে করা রাজনৈতিক মন্তব্যের মাধ্যমে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত দেখতে চায়।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা
হাদি মামলার রাজনীতিকীকরণ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির আরেকটি বাস্তবতাকে নির্দেশ করে। এ অঞ্চলের দেশগুলোয় প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রম, সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা, সেই সঙ্গে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবিগুলো নতুন কিছু নয়।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কানাডায় শিখ কর্মী হারদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যা এবং এ বছরের শুরুর দিকে আরেক শিখ কর্মীকে হত্যার চক্রান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের পর নিজেদের সীমানার বাইরে কাজ করা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নজরদারি বা চুলচেরা বিশ্লেষণ অনেকটাই বেড়ে গেছে।
তবে আমাদের যে বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখতে হবে তা হলো—সন্দেহ, রাজনৈতিক দাবি, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং আদালতে সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণিত যুক্তিসংগত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা যতটুকু জানি, বাজারে অসংখ্য তত্ত্ব বা অনুমান থাকার পরও তদন্তকারীরা প্রকাশ্যে মূলত অভিযুক্ত সন্দেহভাজন, অভিযুক্ত অর্থদাতা এবং চার্জশিটে বা অভিযোগে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যগুলোর ওপরই তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছেন।
স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা
শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড তদন্ত এখন সাধারণ কোনো অপরাধের চেয়ে বড় কিছুতে পরিণত হয়েছে। তার মৃত্যু এখন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো, এর বিচারব্যবস্থা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, নাগরিকদের প্রতিবাদ এবং ভারতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো নিশ্চিত করেছে, হাদির হত্যাকাণ্ড একটি ‘রাজনৈতিক ইস্যু’ হিসেবে জনগণের নজরে রয়েছে। সেই মৌলিক প্রশ্নটি কিন্তু বদলায়নি—কে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল এবং কেন? শুধু যদি একটি নির্ভরযোগ্য তদন্ত পরিচালনা করা হয়, কোনো বাধা ছাড়াই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং যাচাই করা সব প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়, তবেই আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমরা আমাদের উত্তর পেয়েছি। আর তা না হওয়া পর্যন্ত অনুমান বাড়তে থাকবে, রাজনীতি উত্তপ্ত হতে থাকবে এবং সাম্প্রতিক বাংলাদেশের ইতিহাসে হাদি হত্যাকাণ্ড অন্যতম একটি বড় ‘ওপেন অ্যান্ড শাট’ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে টিকে থাকবে।
তবে বাংলাদেশের জন্য শুধু বন্দুকধারীকে শনাক্ত করার চেয়েও আরো অনেক বেশি মূল্যবান কিছু এখানে রয়ে গেছে। আমাদের অবশ্যই জানতে হবে, কারা তার সঙ্গে মিলে চক্রান্ত করেছিল, তাকে অর্থ জুগিয়েছিল এবং এটি বাস্তবায়নের পেছনে কোন রাজনীতিবিদ বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ জড়িত ছিল, তা এটিকে ঘটতে দেওয়ার মাধ্যমে হোক, সমর্থন জোগানোর মাধ্যমে হোক কিংবা ধামাচাপা দেওয়ার মাধ্যমেই হোক।
লেখক : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাউথ এশিয়া জার্নালের প্রকাশক।