হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

লুক ইস্ট পলিসি করিডোর ও সম্ভাবনার দুয়ার

মেহেদী হাসান

ভারতের ওপর বাণিজ্যনির্ভরতা কমাতে চারদলীয় জোট সরকার ২০০২ সালে লুক ইস্ট পলিসি গ্রহণ করে। লুক ইস্ট পলিসির অধীনে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ আসিয়ানসহ পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছিল। চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, লাওস, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুরসহ সবগুলো দেশের সঙ্গে শক্তিশালী আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ছিল লুক ইস্ট পলিসি বা পুবে তাকাও নীতির লক্ষ্য।

লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে মিয়ানমারের তৎকালীন সেনা সরকারপ্রধান জেনারেল থান শোয়ে বাংলাদেশ সফর করেন। এর মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করে। পাল্টা সফর হিসেবে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মিয়ানমারে ঐতিহাসিক সফরে যান। এই সফরে দুদেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথমে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের মংডু সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একটি সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। পরে এই সড়ক বুথিডং হয়ে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ড ও চীন পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এই রুট চালু হলে বাংলাদেশ ভারতের ট্রানজিটের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারত। ২০০৪ সালে মিয়ানমারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেনারেল খিন নিউন্ট বাংলাদেশ সফরে আসেন। এ সময় দুদেশের মধ্যে সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে আরো একটি চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ফ্রেন্ডশিপ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে ১০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ।

লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়িত হলে ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমত, ভারতের বাণিজ্য স্বার্থ নস্যাৎ হতো এবং বাংলাদেশের ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণও কমত। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবে ভারত বাংলাদেশের লুক ইস্ট পলিসির বিরুদ্ধে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের তীব্র চাপের কারণে মিয়ানমার জান্তা সরকার পরে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়ন থেকে সরে যায়। আর এভাবেই তখন অস্তমিত হয় বাংলাদেশের পূর্বদিগন্তে সম্ভাবনাময় নতুন সূর্যোদয়ের।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী চির বসন্তের শহর কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের পূর্বের লাশিও-প্রাচীন রাজধানী মান্দালয়-আরাকানের রাজধানী আকিয়াব হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে।

ভারত অতীতে যে কারণে মিয়ানমারের মাধ্যমে পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ স্থাপনের বিরোধী ছিল, তা এখনো বিদ্যমান এবং বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো অনেক বড় ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা । চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়। ওয়াশিংটন একে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি এবং চীনের ওপর বাণিজ্যনির্ভরতা কমাতে প্রকাশ্যে ও গোপনে ঢাকার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধেও তীব্র চাপ ছিল ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে। ভারতও বড়মাত্রায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নয়া এ উদ্যোগের খবরে। ভারতের অনেকে প্রকাশ্যে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। চীনের প্রস্তাবিত করিডোরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে চীন-বাংলাদেশ আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন একটি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম নেবে, যা পুরোমাত্রায় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। একইভাবে নতুন এ বাস্তবতা ভারতের জন্য বাণিজ্যিক স্বার্থ নস্যাতের পাশাপাশি নিরাপত্তাসহ বহুমাত্রিক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

প্রস্তাবিত এ রুট বাস্তবায়িত হলে চীন বাংলাদেশের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হতে পারবে বঙ্গোপসাগরে। চীন-ভারত ও চীন-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, আঞ্চলিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় চীনের পক্ষে যুক্ত হবে নতুন অনেক পয়েন্ট। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চীনকে ভারতের নাকের ডগায় মোংলা এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছে, যা নয়াদিল্লির ঘুম হারাম করে দিয়েছে। চীন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন করে গোয়াদর বন্দরের মাধ্যমে আরব সাগরে প্রবেশের ব্যবস্থা করেছে। এখন চীন যদি বাংলাদেশের মাধ্যমে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার পায়, তাহলে ভারতকে স্থল ও সমুদ্রের মাধ্যমে ঘিরে ফেলার ক্ষেত্রে চীন আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

চীনের উত্থান মোকাবিলায় কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বিশাল সামরিক আয়োজন করে রেখেছে। তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতে বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য এ যুদ্ধ সামনে রেখে কয়েক দশক ধরে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক প্রস্তুতি, আধিপত্যবাদ নীতি, এরও বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হবে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রস্তাবিত করিডোর।

চীনকে প্রতিরোধ ও আধিপত্যবাদ নীতির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের ওপরও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে তা ফলপ্রসূ হয়নি। মিয়ানমারে ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বারবার বাংলাদেশকে পাশে চেয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত এ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। ফলে মিয়ানমার ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বার্মা অ্যাক্টসহ যেসব পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবে খাতা-কলমেই বন্দি।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ যদি চীনের প্রস্তাবিত করিডোরে যোগ দেয়, তাহলে আরাকানসহ পুরো মিয়ানমারের সব গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় যা কিছু করার দরকার, এর সবই করতে হবে চীনকে। রোহিঙ্গা সমস্যারও সমাধান করতে হবে। কারণ মিয়ানমারে দীর্ঘকাল ধরে যে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ চলছে, তা বজায় রেখে প্রস্তাবিত এ রুট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আর মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শুধু চীনের পক্ষেই কার্যকর ভূমিকা পালন সম্ভব। কারণ দীর্ঘকাল ধরে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর যেমন প্রভাব রয়েছে চীনের, তেমনি সীমান্তবর্তী সব বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপরও রয়েছে চীনের নিয়ন্ত্রণ। অতীতে ভারতের চাপ, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাসহ বিভিন্ন কারণে মিয়ানমার বাংলাদেশের লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়ন থেকে সরে দাঁড়ালেও এবার সেটা সম্ভব নয়, কারণ এ প্রস্তাব এসেছে সরাসরি চীনের পক্ষ থেকে। ফলে বাংলাদেশ চীনের এ প্রস্তাবে সাড়া দিলে সেটি বাংলাদেশের জন্য শুধু নতুন সোনালি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে তা-ই নয়, বরং চির বৈরী মিয়ানমারের সঙ্গেও স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর ভারতের আধিপত্যের অবসান ঘটবে। তিনদিকে ভারতবেষ্টিত সীমানাজনিত বাংলাদেশের যে সীমাবদ্ধতা, তাও দূর হয়ে যাবে।

আজ চীন যে করিডোর প্রস্তাব দিয়েছে, তা মূলত বাংলাদেশেরই প্রায় তিন দশক আগে বৃহত্তর লুক ইস্ট পলিসির অংশ। ফলে বাংলাদেশের এ প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ার কোনো কারণ নেই । তবে বর্তমানে বড় সমস্যা অন্যখানে। সেটি হলো ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কারণে বাংলাদেশ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতা। প্রকাশিত তথ্য ও সার্বিক বিবেচনায় এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইবে না বাংলাদেশ চীনের এই করিডোর প্রস্তাবে সাড়া দিক। আর এখানেই আজ বাংলাদেশ কূটনীতি নামক এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। বাংলাদেশ কি মেরুদণ্ড সোজা রেখে নিজের স্বার্থ, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখবে, না কি অন্যের ভয়, হুমকি ও স্বার্থের কাছে নিজেদের অমিত সম্ভাবনাকে জলাঞ্জলি দেবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আজ। এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ কি চিরকাল ভারতের জুজুর ভয়ের কাছে নতজানু হয়ে থাকবে, না কি ভয়কে জয় করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের আজকের নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি অনাগত ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্যও বাংলাদেশকে ভারতের কাছে জিম্মি অবস্থায় রেখে যাবে, না কি তাদের বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলার পথ তৈরি করে দিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে সম্ভাবনাকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া নয়; বরং তাকে কাজে লাগানোর সাহসী সিদ্ধান্ত। একবার যদি বাংলাদেশ এ সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে আজ যারা বাংলাদেশকে ভয় দেখাচ্ছে, তারা একদিন বাংলাদেশকে সমীহ করে কথা বলতে বাধ্য হবে। তাই ১৯৪৭ সালের পর প্রথমে পাকিস্তানকে এবং ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের যে নীলনকশা আজও বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, তা চিরতরে ব্যর্থ করে দিতে বাংলাদেশের জন্য চীনের এ প্রস্তাব যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়া অপরিহার্য।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের এক হুমকি। এ হুমকি বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া চিকেন নেকস বা শিলিগুড়ি করিডোর ঘিরে। নয়াদিল্লির আশঙ্কা বাংলাদেশ যদি একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হয় এবং ভারতের শত্রুরা পাকিস্তান ও চীন বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করে, তাহলে একদিন তারা চিকেন নেক দখল করে সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে আলাদা করে দেবে। সে কারণে ভারত বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করার পরিকল্পনা করে এবং সে পরিকল্পনা সফল করার পর তারা বাংলাদেশকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার গভীর ষড়যন্ত্র করে। যে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের ভয়, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের নেতৃত্ব তার সেই শক্তিকে ব্যবহার করতে পারেনি ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝে চলার ক্ষেত্রে। অথচ ইরান বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে পরাশক্তির বিরুদ্ধে ভৌগোলিক অবস্থানগত কার্ড ব্যবহার করে তাকে মাথা নত করতে বাধ্য করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিপরীতে ইরানের সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি কোনো হিসাবের মাত্রার মধ্যে না। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। ইরানের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে আজ তার ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা কাজে লাগানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেই মহাসুযোগ আজ বাংলাদেশের দুয়ারে এসে হাজির।

তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে, একজনের ওপর নির্ভরতা কমাতে গিয়ে যেন অন্য আরেকজনের ওপর বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুরোমাত্রায় নির্ভরশীল করা না হয়। বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প যেন ধ্বংস না হয়, সেদিকটি সর্বোচ্চ বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য চীন-ভারত ও চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে বাংলাদেশ যেন উলুক্ষেত্রে পরিণত না হয় এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে এ-বিষয়ক দরকষাকষির ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের বিদ্রোহী বাহিনী আরাকান আর্মির বিষয়টি কীভাবে ডিল করতে হবে, সে বিষয়েও আলাদা করে ভাবতে হবে। একদা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের প্রতি কিছুটা সহনশীল আরাকান আর্মিও এখন মিয়ানমার আর্মির মতোই রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশবিরোধী একটি গণহত্যাকারী কুখ্যাত বিদ্রোহী সংগঠন।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ

মেডিকেল খাতে অস্থিরতা কেন

‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র আসল অর্থ যখন ‘মেড ইন চায়না’

রাজনীতিতে ব্যক্তি-বন্দনার অসুস্থ সংস্কৃতি

সৈনিক-জনতার স্বাধীনতা রক্ষার সম্মিলিত লড়াই

ভারতে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের সংকট

পলিথিন নিয়ন্ত্রণে দরকার উচ্চ শুল্কহার

জুলাই শুধু একটি মাস নয়, বিবেকের প্রতিচ্ছবি

পদ্মা বাঁধ পানির ন্যায্য হিস্যার বিকল্প নয়

সংসদে কি বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি?

অনৈক্যের সংকটে সাংবাদিকতা