হোম > পাঠকমেলা

শিশুদের বিকাশে আপনজন

ওমর শাহেদ

সুলতানা রাজিয়া

সুলতানা রাজিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স। থিসিস শিশু মনোবিজ্ঞানে। শিশু মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শিশু বিকাশে। ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল কাকরাইল, মুগদা ও শাহজাহানপুর শাখায় চাইল্ড সাইকোলজিস্ট ছিলেন। এখান থেকেই কাজ করতে করতে উপলব্ধি হলো শিশু বিকাশ-সম্পর্কিত কাজটি কীভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় ছড়িয়ে দেওয়া যায়। ফলে ২০১৬ সালে আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশন কার্যক্রম শুরু করে। তখন নির্দিষ্ট কোনো অফিস ছিল না। যেহেতু একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন, সেই সুবাদে অনেকে চিনতেন, খুব পরিচিতি ছিল। তারা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিশুদের বিকাশ নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে তাকে দাওয়াত করতেন। এভাবে ধীরে ধীরে কাজ শুরু করার প্রায় দুই বছর পর আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশন সরকারি অনুমোদন লাভ করে। রেজিস্ট্রেশন লাভের পর প্রথম অফিসটি তারা নিলেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। যেহেতু তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করেছিলেন গ্রামের শিশুদের সেবা দেওয়ার জন্য, সেজন্য দ্বিতীয় অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে। তৃতীয় শাখাটি হলো মাইজদী শহরে।

আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম

এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রধানত সেবামূলক। জাতীয় দিবসগুলোয় তারা শিশুদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সভা, সেমিনার, র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে। বাবা-মায়ের প্যারেটিংয়ের বিষয়ে তারা গুড প্যারেন্টিং স্কিলের প্রশিক্ষণ দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষক ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ধরনের এনজিও কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও সমাজসেবা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেন। তাদের কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রি-স্কুলিং সেবা কার্যক্রম, থেরাপি সেন্টার, চাইল্ড কেয়ার হোম ও ডে কেয়ার সেন্টার।

গ্রামের সাধারণ লোকজন অজ্ঞতা ও কুসংস্কার থাকায় এবং সচেতনতার অভাবে শিশুদের বিকাশে তেমন কোনো গুরুত্ব দিতে পারেন না। শিশুর দেরিতে কথা বলা, মানসিক বিকাশে পিছিয়ে থাকা, অটিজম, ডাউন সিনড্রোম ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাকে তারা গুরুত্ব দিতে জানেন না। তারা মনে করেন আছর লেগেছে, ভূতে ধরেছে, জিনে ধরেছে। এই বিরাট জনগোষ্ঠীকে সচেতন করতে আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশন নিয়মিত ও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। বিভিন্ন ধরনের সেবা কার্যক্রম আছে। প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত বা বিশেষ শিশুদের জন্য রয়েছে স্পিচ থেরাপি, ডেভেলপমেন্ট থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, গ্রুপ থেরাপি, প্লে থেরাপি, স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং, প্যারেন্টস কাউন্সেলিং, কাপল কাউন্সেলিং প্রভৃতি। এসব শিশুকে বিশেষ শিশু নামে অভিহিত করেন তারা। সেভাবেই তাদের গড়ে উঠতে সাহায্য করেন। যারা বয়স অনুযায়ী কথা বলছে না, যেকোনো বিষয়ে রেসপন্স কম থাকে, দেরিতে কথা বলে, কথার ভেতর তোতলামো আছে, উচ্চারণজনিত সমস্যায় ভোগে, মুখ দিয়ে লালা পড়ে—এ ধরনের শিশুদের আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশন স্পিচ থেরাপি দেয়। অন্যান্য প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত রোগীদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সাহায্য করা হয়। এই রোগীরা নিয়মিত সেবাটি গ্রহণ করতে পারলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হয়।

প্রি-স্কুলিং কার্যক্রম

একটি সুস্থ-স্বাভাবিক শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় পরিবার থেকে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ছয় বছর বয়সের আগে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার নিয়ম নেই। শিশুদের জন্ম থেকে প্রথম পাঁচ বছর তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত সুস্থ শিশুদের জন্য প্রি-স্কুলিং কার্যক্রম চালু করেছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক জ্ঞান, বুদ্ধির বিকাশ ও মূল ধারার স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য যোগ্য করে তোলা হয়। এই কার্যক্রমটি ২৬টি শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রায় ৫০০ ছেলেমেয়ে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিক্ষা লাভ করছে। প্রায় ৫০ শিক্ষক ও কর্মী আছেন। আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশনের স্কুলগুলো থেকে বিকাশে বৈজ্ঞানিক সাহায্য পেয়ে তারা ভালো স্কুলগুলোয় ভর্তি হচ্ছে। আর এসব শিশুর মা-বাবাদের বেশিরভাগ নিম্নবিত্ত শ্রেণির। আবার কারো বাবা নেই, কারো মা নেই, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ সবজি বিক্রেতা। ৫০০ টাকা ফি হলেও ৩০০, ২০০, ১০০ বা সুবিধাবঞ্চিত হওয়ায় বিনা মূল্যে শিশুরা প্রি-স্কুলে আসছে। যারা আর কোনোদিন স্কুলে যাবে না, এমন শিশুদেরই এই বিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি করানো হয়। সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী আছে মাইজদী ও সোনাইমুড়ীতে—প্রায় ১০০ জন। বিদ্যালয়গুলোয় হাতের নখ কাটা, নিয়মকানুন ও আদবকায়দা শেখানো হয়। অক্ষরজ্ঞান শেখানো হয় না, সেটি বিদ্যালয়ের কাজ। এই বিদ্যালয়গুলো থেকে বেরিয়ে যে শিশুরা মূলধারার বিদ্যালয়গুলোয় যায়, তারা যেকোনো বিষয়ে রেসপন্স ভালো করে। অনেক কিছু পারফর্ম করতে পারে, তাদের মোবাইল আসক্তি কম থাকে। এখনকার শিশুদের মোবাইল আসক্তিই অন্যতম সমস্যা বলে জানালেন তাদের ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা রাজিয়া।

আছে নানা সমস্যা

সুলতানা রাজিয়া বললেন, ‘আমার এই কাজটি খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল প্রথমে। এখনো তাই অনেকটা। কারণ মানুষকে বোঝানোর কাজটি অধিকতর কঠিন। তার শিশুর যে বিকাশজনিত সমস্যা আছে, তা বোঝাতে অনেক বেগ পেতে হয়। কোথাও থেকে আমরা কোনো অনুদানও পাই না। একটি প্রতিষ্ঠানের সামান্য আয় থেকে আরেকটি শাখা খুলছি। আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মাসে ৫০ টাকা চাঁদার ২০ টাকা ওঠে। আবার ছয় মাসেও পাওয়া যায় না। মাইজদীর প্রাইম হাসপাতালে এখনো আমি রোগী দেখি, ঢাকার উত্তরার ২২ নম্বর সেক্টরে প্রাইম স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি বিশেষ ও প্রি-স্কুল চালু আছে। এখানেও আমি রোগী দেখি। এই আয় থেকে শাখাগুলো চলছে। আবার প্রি-স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা যারা সামর্থ্যবান তারা কিছু ফি দেন। এভাবেই চলছে। গত ৯ বছরে একশর বেশি বিশেষ শিশু ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে।’ এই কাজটি চালিয়ে নিতে গেলে আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশনের আর্থিক অনুদানের প্রয়োজন। অনেক সমাজসেবী থাকেন, ব্যবসায়ী সমিতি আছে—তারা সাহায্য করতে পারেন। তাদের অনেক প্রযুক্তি প্রয়োজন পড়ে, তার কিছু তিনি নিজে বানিয়ে নিয়েছেন। খুব মূল্যবান কিছু নিজের টাকায় কিনেছেন। আরো অনেক কিছুর প্রয়োজন, তা হলে প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবে চলতে পারবে। প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা কমে আসবে এবং গরিবের ছেলেমেয়েরা ভালোভাবে সমাজে ও বিদ্যালয়ে মিলে যেতে পারবে। তিনি সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে শিশুদের বিকাশে শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের নানা প্রতিবন্ধিতা থেকে বাঁচানোর জন্য আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশন গড়ে তুলতে চান।

রাবি পাঠকমেলার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাবনা

হাদির জন্য ভালোবাসা

বিজয় দিবসে ঢাকা আলিয়ায় পাঠচক্র ও দোয়া মাহফিল

হাদির সুস্থতা কামনায় রাজারহাটে ‘আমার দেশ পাঠক মেলা’র দোয়া

কবি নজরুল সরকারি কলেজের নতুন কমিটির পরিচিতি সভা

আমার দেশ পাঠক মেলার রংপুর মহানগর, জেলা ও বিভাগীয় কমিটি গঠন

সমাজের উন্নয়নে তোমাদের কাজ করতে হবে

ফররুখ উৎসব চলছে