সনাতন ধর্মে দেবী দুর্গাকে দশভুজা হিসেবে রূপায়িত করা হলেও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দুর্গার আদলে নিজের একটি আটভুজা (আট হাতবিশিষ্ট) ছবি পোস্ট করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ছবিটি কেউ একজন তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিভাজন আর ঘৃণা উসকে দিতে।’
‘যারা ঘৃণার চাষকে ধর্ম ভাবেন’, পোস্টে তাদের উদ্দেশে ২২টি ব্যঙ্গাত্মক বচন তুলে ধরেছেন তিনি। এসব বচনের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা সমাজের বিভিন্ন অপকর্ম, নৈতিক অবক্ষয় ও অসংগতির কথা উল্লেখ করে বোঝাতে চেয়েছেন— সমাজে নানা রকম অপরাধ ও অপকর্ম সংঘটিত হলেও মানুষের ধর্ম বিপন্ন হয় না, কিন্তু কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখালেই যেন ধর্ম চলে যায়!
স্ট্যাটাসে তিনি ২২টি পয়েন্ট উল্লেখ করেন:
১. বলাৎকারে ধর্ম যায় না
২. ঘুষ খেলে ধর্ম যায় না
৩. শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতনে ধর্ম যায় না
৪. মানুষ খুনে ধর্ম যায় না
৫. নারীর ওপর সহিংসতায় ধর্ম যায় না
৬. নারীকে কুৎসিত অপবাদ দিলে ধর্ম যায় না
৭. অন্যের সম্পদ লুট করলে ধর্ম যায় না
৮. প্রতারণা আর মানুষ ঠকালে ধর্ম যায় না
৯. সারাবেলা মিথ্যার চাষে ধর্ম যায় না
১০. নোংরামি করে ধরা পড়ে মুতা বিয়া বললে ধর্ম যায় না
১১. মুনাফেকিকে জীবনের মূল মন্ত্র বানালে ধর্ম যায় না
১২. ধর্মকে ব্যবসা বানালে ধর্ম যায় না
১৩. বোনের হিস্যা ভাই মারলে ধর্ম যায় না
১৪. বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে ভাগাড়ে ফেললে ধর্ম যায় না
১৫. অন্যের হক মেরে খেলে ধর্ম যায় না
১৬. মিথ্যার বেসাতিতে ধর্ম যায় না
১৭. ধর্মকে ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম যায় না
১৮. ওজন বা মাপে কম দিলে ধর্ম যায় না
১৯. খাদ্যে ভেজাল, এমন কি বিষ মেশালেও ধর্ম যায় না
২০. ব্যভিচারে ধর্ম যায় না
২১. দুর্বলের ওপর অত্যাচারে ধর্ম যায় না
২২. দুষ্টের লালন-পালনে ধর্ম মজবুত হয়; ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।
পোস্টের শেষে একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য যোগ করে রুমিন ফারহানা লেখেন, ‘মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কী আর করা।’
তার এই ব্যতিক্রমী স্ট্যাটাস ও ছবিটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।