বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ আসছেন জিয়া উদ্যানে। কবর জিয়ারত করে দোয়া করেছেন তারা। ফুল নিয়ে এসেছেন অনেকে। কবরের সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জানাজায় অংশগ্রহণ করে লাখ লাখ মানুষ। গ্রামে ফিরে যাওয়ার আগে প্রিয় নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে তাই ভিড় করছেন তারা। পুরুষের পাশাপাশি নারী, শিশুরাও আসছে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে। মাজার কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশে বসে কোরআন তেলেওয়াত করতেও দেখা যায় নেতাকর্মীদের।
২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যাওয়ার লেক রোড। জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। দুপুর ১২টার পর জিয়া উদ্যানে সর্বসাধারণের কবর জিয়ারতের অনুমতি দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন। বাবর বলেন, আমাদের নেত্রী জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় আপসহীন ছিলেন। তার নির্দেশনায় আমরা র্যাব গঠন করেছিলাম। কিন্তু, র্যাবকে দলীয় স্বার্থে এক ঘণ্টা বা একদিনের জন্যও ব্যবহার করেনি বিএনপি।
তিনি বলেন, র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছি- এটা কেউ বলতে পারবে না, প্রমাণ দেখাতে পারবে না। অন্যায় করলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হত না।
কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বৃহস্পতিবার সকালে জিয়া উদ্যান পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি কবর জিয়ারত করেন।
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করা হয়েছে। এ সময় পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচু বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা থেকে বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসায় জানাজায় অংশগ্রহণ করেছি। আগামী দিনে তার রেখে যাওয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শ বাস্তবায়নে তারেক রহমানের পাশে থাকব।’
গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া, সঙ্গে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরনো সমস্যা। হাসপাতালে ভর্তির পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) নেয়া হয়েছিল তাকে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আইসিউতেই ছিলেন তিনি।
এসআই