থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভেজথানি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে গেলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। ব্যক্তিগত কাজে দেশটিতে অবস্থান করায় তিনি শুক্রবার হাসপাতালটিতে গিয়ে চিকিৎসাধীন জুলাইযোদ্ধাদের শারীরিক ও সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি আমার দেশকে বলেন, থাইল্যান্ডে প্রায় ৫৭ জন আহত জুলাইযোদ্ধা চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের সবাই ঢাকার মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, রংপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের অবস্থা খুব গুরুতর। একেকজনের ১৫-১৬টা পর্যন্ত অপারেশন হয়েছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের কারো হাত, কারো পা, কারো কোমর, কারো চার হাত-পা পুরোটাই অবশ হয়ে আছে। হাসপাতালটিতে তাদের যথেষ্ট চিকিৎসা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোটা অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় বাকি পড়েছে।
জামায়াতের এই এমপি আরো জানান, আহত জুলাইযোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদের পরিবার চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। সরকার থেকে তাদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও তাতে তাদের পরিবারের অনেক কষ্টে চলতে হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের পুনর্বাসন এবং চিকিৎসা অব্যাহত রাখা জরুরি, যা অসম্ভব কিছু না। মানবিক ইস্যু হিসেবে এ বিষয়ে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া আহত জুলাইযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানান এমপি মিলন। তিনি বলেন, আহতরা বলেছেন যে, তাদের এত ত্যাগের বিনিময়ের পরও জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক।
এর আগে গত ৯ মে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন আহত জুলাইযোদ্ধাদের খোঁজখবর নিতে যান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিলেন জামায়াত আমির।
এএস