বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা আমাদের যাওয়ার সময় বলে গেছে- হে জাতি! তোমাদের জন্য আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জীবন দিয়ে গেলাম। আমাদের লাশ তোমাদের কাঁধে, আমাদের রক্ত তোমাদের হাতে। আমাদের লাশের সঙ্গে বেইমানি করো না।
এসময় তিনি জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বলেন, রাজনীতির নোংরা রাস্তা দিয়ে আর হাঁটা যাবে না। রাজনীতির পরিষ্কার সদর রাস্তা দিয়ে, হাইওয়ে-মোটরওয়ে দিয়ে হাঁটতে হবে। আমরা জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের কথা দিচ্ছি- ইনশাআল্লাহ আমরা তোমাদের সঙ্গে বেইমানি করব না। আমরাও তোমাদের মতো জীবন দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে দেব না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ২৪ না হলে কি ২৬ পাওয়া যেত কি? তো ২৪-কে যারা স্বীকার করে তারাই তো ২৬-এর উত্তরসূরি। আর যারা ২৪ স্বীকার করে না, তাদের জন্য কোনো ২৬ আছে? তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ ২৬-এ লাল কার্ড।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ১২ তারিখ পথ খুঁজে পাবে। বাংলাদেশের মানুষ ইনশাআল্লাহ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না। যে যুবকদের নেতৃত্বে আমাদের বিপ্লব সফল হয়েছে, সেই যুবকরাই বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু, জাকসুতে এসে আপাতত থেমেছে। সব জায়গায় একই চিত্র।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ যে যুবকরা বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে জীবন দিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলিকে পরোয়া না করে লড়াই করে বাংলাদেশকে হাতে ধরে রাস্তায় তুলে দিয়েছে, এই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে দেবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, ২৪-এর গণবিপ্লবে একটিবারের জন্য একজন যুবকও বলেনি যে, আমরা বেকার ভাতার জন্য আজকে লড়াই করছি। তারা বলেছিল, আমাদের মেধা-যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। মেধা-যোগ্যতা অনুযায়ী আমার হাতে কাজ তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি যুবকদের হাতে, যুবতীদের হাতে আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমানিত করব না। তাদের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তারাই গড়ে দেবে নতুন বাংলাদেশ। আর গর্ব করে বলবে- আমি বাংলাদেশ। এটা আমার বাংলাদেশ। গর্বের সঙ্গে সেদিন যুবকরা পরিচয় দেবে ইনশাআল্লাহ।