দেশের আট জায়গায় নির্বাচনি সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সবাইকে আচরণবিধি মেনে প্রচার এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে সরকার ও নির্বাচন কশিনের প্রতি আহবান জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই আহ্বান জানান।
ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় তিনি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেন।
জুবায়ের বলেন, নরসিংদী-৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহায়মেন আল জিহানের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতসহ ১০ দলের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং নির্বাচনি কর্মীদের জোর করে বিএনপির প্রচার মিছিলে যেতে বাধ্য করছে। এই আসনে পিভিসি বিলবোর্ড ব্যানার বড় সাইজের করছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াতের নারী কর্মীদের নির্বাচনি প্রচারে বাধা দিচ্ছে, হামলা করছে এবং যানবাহন ভাঙচুর করছে ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। নারী কর্মীদের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছে এবং ‘চোর ধরা পড়েছে’ বলে মব তৈরি করছে।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্যান্য প্রয়াত রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার করছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতের ফেস্টুন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর-১ আসনের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে জামায়াতের নারী কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর-৩ ড. রেজাউল করিমের নির্বাচনি প্রচারসামগ্রী বিতরণ ও ফেস্টুন লাগানোর সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয় এবং জামায়াতের কর্মীদের আহত করে।
তিনি আরো বলেন, এছাড়া কুমিল্লা-৯ আসনের মৈশাতুয়া ইউনিয়নের শমসেরপুর গ্রামে গণসংযোগ চলাকালে জামায়াতকর্মী খলিলুর রহমান লিটনকে আহত করা হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ জানুয়ারি। অথচ অনেক জায়গায় এখনো পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া ২১ তারিখে প্রার্থীদের প্রতীক পাওয়ার পর কিউআর কোড পাশ্চাত্য ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অ্যাক্টিভ হতে পরের দিন লেগেছে। এর মধ্যে ২৩ ও ২৪ তারিখ অনেক দেশে বন্ধ। এতে পোস্ট অফিস ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে ভোট দিয়ে তা পাঠানো নিয়ে উদ্বেগে আছেন প্রবাসীরা ভোটাররা। এই সময় বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।