হোম > রাজনীতি > জামায়াত

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব অদ্ভুত বিষয়: সাইফুল আলম খান এমপি

আইএফইএস প্রতিনিধি দলের মতবিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের যে প্রস্তাব সরকারি দল নিয়ে এসেছে, সেটি অদ্ভুত একটি বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি।

তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনা করেই এটা করা হয়েছে। এই ঐকমত্যের বিষয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন করা সব রাজনৈতিক দলের জন্য জরুরি। এখান থেকে ফিরে এলে সবাই মনে করবে এই জাতি দ্বারা আসলে কিছু হবে না ‘

তিনি শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর ও শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও মাহবুব আলম সালেহী এমপি উপস্থিত ছিলেন।

সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, ‘দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা ঠিক হবে না। জনগণই তো সব ক্ষমতার মালিক। তারা তো রায় দিয়েই দিয়েছে। সংবিধান মেনে তো জুলাই আন্দোলন হয়নি। সংবিধান মেনে তো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান মেনে ১৭ বছর তারেক রহমানকে দেশের বাইরে রাখা হয়নি। জুলাই আন্দোলন না হওয়া পর্যন্ত তো তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে আসতে পারেননি। তাই জাতির জন্য বেদনাদায়ক ইতিহাস সৃষ্টির আগেই সবার যেন সুমতি হয়, সেই আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরেই এটির সমাধান চাই। রাস্তায় তো অনেক হাঁটলাম। অনেক জেল, গুম, খুন হয়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ আছে। এত ত্যাগের পর জাতি যদি সঠিক পথে না হাঁটতে পারে, তাহলে তা দুঃখজনক হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমা পাবে কি না, অনিশ্চিত।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী একটি সংসদ হিসেবে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা চাইব সংসদই হোক জাতীয় জীবনের সমস্ত সমস্যা সমাধানের আলোচনার কেন্দ্র। সে ক্ষেত্রে সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী দল সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেসব বিষয় নিয়ে আমরা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলেছি, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

অনেকগুলো জটিলতা আছে, কারণ সরকারি দল বড় মেজরিটি নিয়ে আছে। সে ক্ষেত্রে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই তারা সরকারি দলের ওপর নির্ভর করছে। সে ক্ষেত্রে আমরা রুলস অব প্রসিডিউর পরিবর্তনের বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছি, তারা কিছু পরামর্শ দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সংসদের সামনে সবচেয়ে বড় বিষয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। কারণ প্রথম দিন থেকেই ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকার সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। তারা গণভোটের অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। কারণ, এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে জাতির জন্য হতাশাজনক হবে। এসব বিষয়ে আলোচনায় আমাদের পরামর্শ রেখেছি ‘

সাইফুল আলম খান বলেন, ‘সংসদীয় অনেক কমিটিতে বিরোধী দল থেকে প্রধান করার কথা, কিন্তু সেগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া আমাদের বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি সংসদে সরকারি দলের ওপর নির্ভর করছে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আমরা বলেছি, সংসদ সদস্যদের আরো প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, যাতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তারা আমাদের আলোচনার সঙ্গে একমত হয়েছেন। তারা একটা রিপোর্ট তৈরি করবেন। আমরা আশা করি, এভাবে ত্রয়োদশ সংসদে যাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারি। পুরোনো ধারায় কিছু হলেই রাস্তায় নেমে আসার সংস্কৃতি বন্ধ করতে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি যে, সংসদে ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেম ফলো করি। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো বিরোধীদলীয় নেতা কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করলে তার জবাব দেবেন সংসদীয় নেতা বা প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রথম দুই দিনে আমরা তা দেখিনি। প্রধানমন্ত্রী কিছুই বলছেন না, চুপচাপ থাকছেন। অন্য কেউ কথা বলছেন। এটা সংসদের প্র্যাকটিস নয়। আমরা সেই প্র্যাকটিস প্রত্যাশা করছি।’

সাইফুল আলম খান বলেন, ‘সংসদে ভালো ভূমিকা পালন করতে চাইলে ছায়া মন্ত্রিসভা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে সেটার কোনো বৈধতা নেই। জামায়াত প্রথম থেকেই এটা চাইছে, যাতে আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করতে পারি এবং সংসদে প্রয়োজনীয় আলোচনা করতে পারি। কারণ অন্ধভাবে কোনো কিছু আলোচনা করা যায় না।

আমরা সংসদীয় সিস্টেমে সামনের দিকে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমরা আশা করছি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা একটি সুন্দর প্র্যাকটিস গড়ে তুলবে। কারণ আমরা ভালো কিছু রেখে যেতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ ও সংসদের জন্য ভালো কৃতিত্বের স্বাক্ষর হবে।’

তিনি বলেন, ‘মতবিনিময়ে আসা ‘আইএফইএস’ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি দলসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গেও কথা বলেছে। তারা একটি রিপোর্ট এবং সুপারিশ করবে। এতে ভালো কিছু গড়ে উঠবে বলে আশা করি।’

বিএনপি জনরায়কে ভয় পায়: গোলাম পরওয়ার

যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় সমাধান খোঁজার আহ্বান জামায়াত আমিরের

জামায়াত নায়েবে আমিরের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে ছড়ানো সংবাদ ভিত্তিহীন

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

অহিংস মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা বিরোধীদলীয় নেতার

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা

দৌলতদিয়া দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত

কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের পাশে থাকবে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন

পাটগ্রাম পৌর আমির গ্রেপ্তারের ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির