জাপানে নাগরিক সংবর্ধনায় বিরোধীদলীয় নেতা
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাতচল্লিশ, একাত্তর ও চব্বিশ-প্রতিটি অধ্যায়ে বাংলাদেশের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছেন। সেই আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের দায় হলো-একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
তিনি শহীদদের স্মরণ করে আরো বলেন, দেশের ইতিহাসে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সবার অবদান সমানভাবে স্মরণ রাখতে হবে। জুলাই বিপ্লবের সময়ে গণহত্যার ঘটনায় হাসিনাসহ সব অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার বিকেলে টোকিওর কামিনাকাযাতো তাকিনোগাওয়া হলে ইসলামিক মিশন জাপানের আয়োজনে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রবাসীদের উদ্দেশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। প্রথমত, জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে নিজেদের উন্নত করে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা এবং দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশে ফিরে কিংবা প্রবাসে থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ৬৫ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের আস্থা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সংসদে ও রাজপথে আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, জোট থেকে যে ৭৭ জন ব্যক্তিকে আপনারা নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমরা সেই ৭৭ জন জনগণের দারোয়ান- আমরা দেশে আর দুর্নীতি হতে দেব না।
জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, জাপানের আইন-কানুন মেনে চলা এবং জাপানি জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি প্রবাসীর দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করে বলেন, দূর প্রবাসে এসে নিজেদের শিকড় ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের সন্তানদের মাঝেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে হবে।
ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।
ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রবাসী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বাংলা, আরবি ও জাপানি ভাষায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিরোধীদল হিসেবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলন বাংলাদেশকে একটি নতুন ধারায় নিয়ে গেছে। এই অগ্রযাত্রা সফল করতে দেশে-বিদেশে সব বাংলাদেশির সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তিনি প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এটিএম মিছবাহুল কবির চৌধুরী, আব্দুল মালেকসহ অনেকে।