পলাশবাড়ীর জনসভায় শফিকুর রহমান
১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফের জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মে ধর্মে কোনো সংঘাত সৃষ্টি হবে না।’ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কাউকে ভাতা নয়, কাজ দেব। চাঁদাবাজদের হাতকে কর্মের হাতে রূপান্তর করব। তাদের মন্দ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’ তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই শহীদদের ঋণ শোধ করার আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সুতি মাহমুদ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত ১০ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনি সফরের দ্বিতীয় দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে শনিবার সকালে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে এ জনসভায় যোগ দেন। পরে পর্যায়ক্রমে দুপুর ১২টায় বগুড়া শহরে, বেলা আড়াইটায় বগুড়ার শেরপুরে, ৩টায় সিরাজগঞ্জ শহরে, ৪টায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পাবনা শহরে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। এছাড়া কয়েকটি পথসভায়ও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।
পলাশবাড়ীর জনসভায় যোগ দিতে গতকাল ভোর থেকেই জেলা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি আসনগুলোর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ নেতাকর্মীদের ঢল নামে। এ সময় দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বলেন, আমরা কারো লাল চোখকে ভয় করি না। আমরা কারো ওপর খবরদারি করতে চাই না। আবার আমাদের দেশের ওপর কেউ খবরদারি করুক, সেটাও সহ্য করব না। সব দেশ এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে সম্মানের।
উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থনে আল্লাহর রহমতে সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করে যাব। নদীর জীবন ফিরে এলে উত্তরাঞ্চলের মানুষেরও জীবন ফিরবে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, গোটা দেশের মরা নদীগুলো সচল করব। নদীর জীবনকে সামনে রেখে নর্থ বেঙ্গলকে একটি কৃষিভিত্তিক রাজধানী গড়ে তুলতে চাই। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য এ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
তিনি নারীদের ব্যাপারে বলেন, তারা মায়ের জাত। তাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা তাদের জন্য একসঙ্গে বাসা-অফিসসহ সব ক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করব। আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। তিনি বলেন, এই পাঁচজনকে আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে গেলাম। এই আমানত আপনারা আমাদের উপহার দেবেন।
প্রার্থীরা হলেন—গাইবান্ধা-১ আসনে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনে আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনে মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৪ আসনে ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ।
গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকারের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন—দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত
জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকাল আটটায় জিয়ারতের সময় সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করেন তিনি। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের বাবা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে শহীদের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে প্রবেশ করেন।
এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরো ছিলেন- দলটির সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।
জামায়াত আমির বলেন, আবু সাঈদেরা জীবন দিয়ে দেশের আমানত আমাদের কাছে রেখে গেছেন। আমরাও জীবন দিয়ে এসব আমানত রক্ষা করব। তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত স্বাধীন ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার। আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই। তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। তাদের স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ করব।
বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে
গতকাল দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী। শহরের সাতমাথা সমগ্র উত্তরবঙ্গকে একীভূত করেছে। আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা ঐতিহ্যবাহী বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব। এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করব।
তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করে আনব। রাষ্ট্রীয় তহবিল চোরদের হাত কেটে দেওয়া হবে। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। বেকারমুক্ত যুবসমাজের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করতে চাই। তারা দেশে বিদেশে মর্যাদার সঙ্গে কাজ করবে।
জামায়াতের আমির আরো বলেন, শহীদদের রেখে যাওয়া কাজ আমরা করব। মহান আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, সর্বস্তরের দুর্নীতিকে আমরা মাটির নিচে গেড়ে দেব। পরিচ্ছন্ন হাতের ছোঁয়ায় দেশ গড়ে উঠবে। আল্লাহর কসম, জনগণের একটা টাকার ওপরেও আমরা হাত বসাব না। চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ওপর সহ্য করা হবে না। চাঁদা, দুর্নীতি, মামলা জামায়াত করেনি। ভবিষ্যতেও করবে না। এসবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা, নিরাপদ সমাজ গঠনের দায়িত্ব সরকারের। আমরা সরকারে গেলে বগুড়াকে চাঁদামুক্ত করে ইনসাফের ভিত্তিতে জনগণের পাওনা বুঝিয়ে দিতে চাই।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের বেকার তকমা দিয়ে রাখা হবে না। যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য, রাষ্ট্র সেখানেই তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কোনো ভুয়া সার্টিফিকেটের বোঝা বইতে হবে না। তিনি আরো বলেন, জামায়াতের পক্ষে বিজয় আসবে ইনশাল্লাহ। দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। আপনারা দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবেন।
এ সময় তিনি জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-১ আসনে শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনে আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনে নূর মোহাম্মদ, বগুড়া-৪ আসনে মোস্তফা ফয়সাল, বগুড়া-৫ আসনে দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ আসনে আবিদুর রহমান এবং বগুড়া-৭ আসনে গোলাম রব্বানীকে পরিচয় করে দেন। সেই সঙ্গে তিনি প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হাতে তুলে দেন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং মাওলানা আবদুল হালিম। এছাড়া জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ স্থানীয় ১০ দলীয় জোটের নেতা ও জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আবদুল হক।
আধিপত্যবাদকে লালকার্ড
শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের সন্তানরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে। এ কার্ড সবুজ ও হলুদও হবে না। এইটা লালকার্ড হিসেবেই থাকবে।
সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা আমাদের দিকে খাড়া দৃষ্টি রাখুন। আপনারা ওয়াচডগ হিসেবে অত্যন্ত তির্যকভাবে দেখবেন। তবে সাদাকে সাদা বলবেন। কালোকে কালো বলবেন। তবে সাদার গায়ে কোনো কালো প্রলেপ লাগাবেন না। কোনো কালোকে গ্রহণ করবেন না। তাহলে দেশ ভালো চলবে এবং আপনাদের অবদানের জন্য দেশবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে। আমরা মিডিয়াকে সেই জায়গায় দেখতে চাচ্ছি।
চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজদের বিরুদ্ধে জনগণকে ভূমিকা রাখার এবং গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
এ সময় তিনি শেরপুর-ধুনট আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
খোঁচা দিলে যা আছে প্রকাশ করে দেব
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা খোঁচাখুঁচি পছন্দ করি না। আমাদের খোঁচা দিলে ভেতরে যা আছে সব প্রকাশ করে দেব। বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না। আমরা আগেই বলেছি, জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। যারা দেশকে বিভক্ত করে তারা কোনোদিন দেশের বন্ধু হতে পারে না। তারা নিজেদের সুবিধার জন্য দেশবাসীর মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেতে চায়। আমরা ন্যায়বিচার চাই। ন্যায়বিচার যেখানে কায়েম হবে, জাতি সেখানে বিভক্ত হবে না।
গতকাল শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি একথা বলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াত আমির আরো বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ জেলা ছিল তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ জেলা। তারপর ঘরে ঘরে গাভী লালন-পালন করা হতো। তাঁতের বাজার তৈরি করা, তাঁত শিল্পের উপাদান সরবরাহ করা এবং তাঁতের মান উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়নি। যার কারণে এই শিল্প আস্তে আস্তে মুখথুবড়ে পড়েছে। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি তাহলে তাঁত শিল্পকে আবার জীবন্ত করে তোলা হবে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের দুধ, সিরাজগঞ্জের আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় গুঁড়ো দুধ তৈরি করে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা হবে।
৫৪ বছর জাতিকে শোষণ নির্যাতন
শনিবার দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের বিচার ব্যবস্থা পয়সার বিনিময়ে প্রভাবিত হয়, ক্ষমতার গরমের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়। গরিবের কোনো বিচার নাই। নীরবে কেঁদে কেঁদে শেষ হয়ে যায়। ৯১ ভাগ মুসলমানের দেশে এটা তো হওয়ার কথা ছিল না। স্বাধীন বাংলাদেশে এটা হওয়ার কথা ছিল না।
তিনি বলেন, সুন্দর সুন্দর কথা বলে নির্বাচনের সময় যারা আপনার আমার ভোট পেয়েছিল, তারা ৫৪টি বছর জাতিকে এভাবে শোষণ করেছে, জাতির ওপর তারা নির্যাতন চালিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান।
চোরাবালিতে জাতিকে হারিয়ে যেতে দেব না
শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে মামলাবাজির জালে জড়িয়ে মানুষকে আর হয়রানি করতে দওয়া হবে না। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। বিচার কারো মুখ দেখে, কারো ধর্ম, কারো বর্ণ ও কারো প্রতিপত্তি দেখেও হবে না। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আমরা জাতিকে তুলে আনব, ইনশাল্লাহ। চোরাবালিতে এই জাতিকে হারিয়ে যেতে দেব না।
জনসভায় নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি
দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসভাগুলোতে জনতার ঢল দেখা গেছে। সরব উপস্থিতি দেখা গেছে নারীদেরও। তাদের সঙ্গে ছিলেন শিশুরাও। জনসভার মাঠগুলোতে তাদের পৃথক জায়গা নির্ধারণ করা হয়। বিশেষ করে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জনসভাগুলোতে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
চাঁদাবাজ-দুর্নীতিমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চাই
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। জনগণের রায় পেলে আধিপত্যবাদবিরোধী সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইনসাফ, ন্যায় ও মানবিক কল্যাণভিত্তিক সরকার গঠন করা হবে। গতকাল শনিবার রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকাল থেকে শুরু হওয়া জনসভা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কেউ চাঁদাবাজির শিকার হবে না, দুর্নীতির কারণে কেউ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। রাষ্ট্র হবে জনগণের সেবক, জনগণের ওপর শাসক নয়।
তিনি আরো বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল। আগামী দিনে আর কোনোভাবেই এই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
জামায়াতের আমির বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা চাঁদাবাজ, দখলদার ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকে আর গ্রহণ করবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ মো. আবদুল্লাহ, এসএম সোহেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম।
আজকের কর্মসূচি
জামায়াত আমির আজ রোববার রাজধানীর তিনটি নির্বাচনি এলাকায় দলীয় প্রার্থীদের জনসভায় বক্তব্য দেবেন। বেলা ১১টায় কাজলায় ঢাকা-৫, দুপুর ২টায় খুপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ এবং বিকাল চারটায় ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে ঢাকা-৭ আসনে নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন—রংপুর অফিসের বাদশাহ ওসমানী ও মেজবাহুল হিমেল, বগুড়ার স্টাফ রিপোর্টার সবুর শাহ্ লোটাস, পলাশবাড়ী প্রতিনিধি অমলেশ কুমার মালাকার, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম ইন্না, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাফায়াত জামিন ও পাবনা প্রতিনিধি]