ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে ১৩ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে ৮ জন জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রী, একজন জুলাই শহীদের মা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেত্রী, এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন করে মনোনয়ন পেয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই নাম ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী শেষ দিনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। পরে সেখানে প্রেস ব্রিফিং করবেন ১১ দলের নেতারা।
জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনীন প্রার্থীরা হলেন-দলের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নী, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সিলেট মহানগরীর সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা সাজেদা সামাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম এবং নারী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও প্রার্থী হয়েছেন জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম।
এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহিলা বিভাগের (মহিলা মজলিস) সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম মনোনয়ন পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা একসঙ্গে আন্দোলনে ছিলাম, নির্বাচনেও ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করি এবং জাতীয় সংসদেও বিরোধীদল হিসেবে ভূমিকা রাখছি। আগামীতেও সবাই একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকা সত্ত্বেও ১১ দলীয় ঐক্যের রাজনীতির কারণে জাগপাকে একটি সংরক্ষিত নারী আসন দেওয়া হয়েছে। আবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৬টি আসন না থাকলেও তারা একটি আসন পেয়েছে। আর এনসিপি আনুপাতিকহারে একটি আসন পেলেও আমরা দুটি মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছি। এখানে একটি ব্যতিক্রম হচ্ছে, দলের বাইরে সম্মান ও শ্রদ্ধার জায়গা থেকে জুলাই শহীদের একজন প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলোর মধ্য থেকে জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিসের একজন প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন সহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমপি