প্রথম তিন ঘণ্টার পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তিন ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রেফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
জুবায়ের বলেন, সকালে ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশের ভোটের চমৎকার পরিবেশ দেখেছি। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় গেছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে তরুণ যুবক ও নারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, এবারের এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, জনগণ এই ভোটের মধ্য দিয়ে ২৯৯ জন সংসদ সদস্য পাবেন, একই সঙ্গে গণভোট হচ্ছে, সেখানে হ্যাঁ বিজয়ী হলে সংস্কারকাজ সফল হবে। মুসিবতমুক্ত কল্যাণমূলক নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য হ্যাঁ বিজয়ী হওয়া অপরিহার্য। হ্যাঁ বিজয়ী করতে হবে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরো বলেন, এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ জাতীয় নেতারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মনিপুর স্কুলে ভোট দিয়েছেন। পরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে এজেন্ট ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া জামাতের অন্যান্য নেতা ও প্রার্থীরা তাদের নিজ এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সব দিক বিবেচনায় এবারে ভোট স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সব থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্ম ভোটের নতুন ইতিহাস দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে তারা ভোট ডাকাতি, রাতের ভোট আমি ডামি ভোট দেখেছে। এবার তারা ভোট উৎসব দেখছে। তিনি আগামীর বাংলাদেশের জন্য সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে কিছু জায়গায় দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে জামাতের এই নেতা বলেন, ভোলায় ব্যাপক হামলা হয়েছে, সেখানে এজেন্টদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভোলা-২ আসনে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, প্রশাসন খুব ভালো সহযোগিতা করছে না। কুমিল্লা ৮ আসনের বিভিন্ন জায়গায় এজেন্টের বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১ দল সমর্থিত এনসিপির প্রার্থীর পক্ষের ভোটারদের আঘাত করা হয়েছে।
তিনি বলেন এগুলো যারা করছে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে করছে। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে আমরা আশা করি। তারা যেন কোনো দিকে হেলে না পড়ে। এর ব্যত্যয় হলে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
আরো উপস্থিত ছিলেন— জামাতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন উদ্দিন খালেদ, অলিউল্লাহ নোমান, জাহিদুর রহমান প্রমুখ।