রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কেউ যদি এক দিনে একশত বার ‘সুবহানাল্লাহ’, পড়ে তাহলে এতে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং তার এক হাজার গুনাহ মাফ করা হবে। (সহিহ মুসলিম: ২২৯৯)
সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ ٱللَّٰه) অর্থ হলো, ‘আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তিনি সব ধরনের অপূর্ণতা ও দোষ থেকে পবিত্র’। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করে, তার পবিত্রতা, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেয়।
আল্লাহর প্রিয় জিকির সুবাহানাল্লাহ
‘সুবাহানাল্লাহ’ জিকিরটি আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জিকির। ওপরে বর্ণিত হাদিসটি ছাড়াও বিভিন্ন হাদিসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় জিকির চারটি। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। এগুলোর যে কোনোটি দিয়ে তুমি শুরু করতে পারো। (সহিহ মুসলিম: ৫৪১৬)
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার পাঠ করা আমার কাছে ইহজগতের সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৫)
একবার কয়েকজন দরিদ্র সাহাবি নবীজিকে গিয়ে বলেন, সম্পদশালী সাহাবিরা দান-সদকার মাধ্যমে নেক কাজে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তো দান-সদকা করার মতো সামর্থ্য নেই। তখন নবীজি (সা.) তাদেরকে প্রতি নামাজের পর ‘সুবাহানাল্লাহ’ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করার পরামর্শ দেন।
আবু জর বলেন, নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসুল! বিত্তবান লোকেরা সওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। আমরা যা বলি, তারাও তা বলে এবং তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কিন্তু আমরা তা পারি না।
নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি আপনাদের এমন আমল বলে দিচ্ছি, যা করলে আপনারা আপনাদের অগ্রবর্তীদের ধরতে পারবেন এবং আপনারা যাদের অগ্রবর্তী তারা আপনাদের অতিক্রম করতে পারবে না।
প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর আলহামদুল্লিাহ, সুবহানাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, ৩৩বার এবং ৩৪ বার পাঠ করুন। (সুনানে ইবনে মাজা: ৯২৭)