হোম > ইসলাম ও জীবন

পবিত্র মাসে ডিজিটাল ব্যস্ততা কমাই

ছোমাইয়া রফিক বর্না

বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলছে। এই মাস আমাদের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা দেখতে পাচ্ছি, রমজানেও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনেক সময় ব্যয় করছেন, যা তাদের পারিবারিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্বে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

ইফতার বা সাহরির সময় পরিবারে বসে একসঙ্গে সময় কাটানো, নামাজ, দোয়া বা আলাপচারিতা করা রমজানের অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু অনেকেই এই সময় ফোন বা ল্যাপটপে ব্যস্ত থাকায় পারিবারিক সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কমে যাচ্ছে। এতে শুধু সময় নষ্ট হয় না, বরং মানসিক প্রশান্তিও কমে যায়। তরুণ-তরুণীদের দেখা যায় সারা দিন ডিজিটাল ডিভাইসে সক্রিয় থাকতে। এর ফলে তারা ইফতার বা সাহরিতে পরিবারের সঙ্গে যথাযথভাবে সময় দিতে পারে না।

ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোয় মনোযোগ বিভ্রান্ত হয়; পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম এবং মানসিক সংযমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এর ফলে রমজানের মূল শিক্ষা—সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানসিক শান্তি পুরোপুরি অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়; পরিবারের বড়দেরও দায়িত্ব আছে। বড়রা শিশু ও তরুণদের উৎসাহিত করতে পারেন ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করার জন্য এবং ইফতার, সাহরি ও অন্যান্য সময়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। এতে পারিবারিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে এবং মানসিক শান্তিও বৃদ্ধি পাবে।

তরুণ সমাজকে সচেতন করার জন্য কিছু সহজ প্রস্তাব—

  • প্রতিদিন শুধু নির্দিষ্ট সীমিত সময় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা।
  • ইফতার বা সাহরিতে পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসে সময় কাটানো।
  • নামাজ, দোয়া ও আলাপচারিতাকে দিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা।
  • সামাজিক মিডিয়া ও মেসেজিং সীমিত করে প্রয়োজনীয় কাজ বা পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া।

যদি এই নিয়মগুলো অনুসরণ করা হয়, তাহলে তরুণ সমাজের মধ্যে ডিজিটাল ব্যস্ততার নেতিবাচক প্রভাব কমবে এবং পারিবারিক সময় ও আধ্যাত্মিক চর্চার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া মানসিক প্রশান্তি, সংযম এবং সামাজিক সম্পর্কও সুদৃঢ় হবে।

মনে রাখতে হবে, রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, মানসিক সংযম এবং পরিবারের সঙ্গে সময় ভাগাভাগির মাস। আমাদের উচিত এই সময়টি সঠিকভাবে ব্যবহার করা। ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত ব্যস্ততা কমিয়ে পরিবারে সময় দিলে এবং নামাজ ও আধ্যাত্মিক কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হলে, তবেই আমরা রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তব জীবনে অনুসরণ করতে পারব। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

সৌদি আরব গেছেন সিরাত অলিম্পিয়াডের ওমরাহ বিজয়ী নাজিফা খান

আবেগের পরিণতি অশুভ না হোক

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয়

একনজরে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)

সুরা কাহফ: ঢাল ও আলোকবর্তিকা

বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

১১০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ইউরোপে তৃতীয় বাংলাদেশি হাফেজ সাদ

জ্যোতির্বিজ্ঞান শাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ

একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

ইসলামে কথার সংযম