আত্মশুদ্ধি, সংযম আর পবিত্রতার মাস রমজান। পাপ থেকে মুক্তি আর নেক আমল লাভের অনন্য সুযোগ পাওয়া যায় রমজান মাসে। শুধু রোজা রেখে কিংবা নামাজ পড়ে রমজানে আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়; বরং নিজের সাধ্যমতো গরিব-দুঃখীদের দান করাও আমাদের কর্তব্য আর সে জন্য সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার বিধান। ফিতরা রোজা ও ঈদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ওয়াজিব আমল। নিসাব পরিমাণ (সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সমমূল্য) সম্পদের মালিক হলে নিজের ও নির্ভরশীলদের পক্ষ থেকে ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব হয়। তবে যদি কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণের সম্পদের মালিক না ও হয়, তবু ফিতরা দিতে পারবেন, কারণ ফিতরা একটি সুন্নত আমল হিসেবেও পালন করা যায়। সাধারণত রমজানের শুরু থেকে ফিতরা দেওয়া যায়, তবে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বা ঈদের দু-একদিন আগে দেওয়া উত্তম।
ফিতরা সাধারণত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ বা পনিরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্থানীয় বাজার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে ফিতরার সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ইসলামি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, চলতি বছর আটা ও গম দিয়ে ফিতরা আদায় করলে সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং পনির, খেজুর দিয়ে ফিতরা আদায় করলে সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা দিতে হবে।
ইসলামে শুধু মুসলিমদের ফিতরা দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। আর চাইলেও নিজের বাবা-মা, সন্তানদের ফিতরা দিতে পারবে না। নিজের দরিদ্র আত্মীয়, প্রতিবেশী ও অভাবী মানুষদের ফিতরা দেওয়া উত্তম। মসজিদ, রাস্তা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ফিতরার টাকা দিয়ে যাবে না, কারণ ফিতরা দরিদ্রদের হক।
ফিতরা একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। কোনো মুসলিম চাইলেই ফিতরা বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রোজায় ভুলত্রুটি মাপের জন্য ফিতরা দেওয়ার বিধান হয়। অন্যদিকে ধনীরা গরিবদের মধ্যে ফিতরা দিয়ে ঈদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে তোলে। ফিতরা দিয়ে কাউকে ছোট করা হয় না; বরং ধনীদের সম্পদের ওপর যে দরিদ্রের হক আছে, তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সমাজে ধনী-গরিবের যে ব্যবধান তা কমিয়ে আনতে ফিতরা দেওয়া হয়। একটি সুন্দর বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ফিতরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই ফিতরা দিয়ে যেমন সম্পদের পবিত্রতা রক্ষা করে নিজের ঈমান দৃঢ় করা যাবে, তেমনি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সাহায্য করবে। তাই সব সামর্থ্যবান মুমিন মুসলমানদের উচিত নিয়ম মেনে নিজের সাধ্য অনুসারে ফিতরা প্রদান করা।