হোম > খেলা

এশিয়ান গেমস, নাকি ‘চায়না গেমস’!

বিদায় নাগোয়া, দেখা হবে দোহায়

এম. এম. কায়সার, জাপান থেকে

সন্ধ্যায় নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামের সামনে শাটল বাস থামতেই চারধারের ঝলমলে আলো যেন আমন্ত্রণ জানাল। আজ এখানে গেমসের সমাপ্তি। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা শেষে রাতে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় পথের আলো ছাড়া চারধার যেন আঁধার!

দুটি সময়ের হিসাব মেলালাম। যা মিলল, তা ঠিক এমনÑ

একটি শহর ধীরে ধীরে আলো নিভিয়ে দিচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে ছিল হাজারো ক্রীড়াবিদের পদচারণ, উল্লাস আর শেষ মুহূর্তের লড়াই; সেখানেই এখন বিদায়ের আবহ। স্টেডিয়ামের গ্যালারি ফাঁকা হচ্ছে, জাপানের পতাকার পাশে উড়ল কাতারের পতাকা।

১৯ সেপ্টেম্বর যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল, ৪ অক্টোবর তা এসে থামল সমাপনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের মশাল এবার পাড়ি দেবে কাতারের দোহায়। চার বছর পর আবার দেখা হবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে। তবে নাগোয়া সাক্ষী হয়ে থাকল অন্যতম স্মরণীয় এক আসরের। একদিকে চীনের নিরঙ্কুশ আধিপত্য, অন্যদিকে তরুণদের বিস্ময়কর উত্থান, বাংলাদেশের একটি মাত্র ব্রোঞ্জ, গেমসের অসংখ্য রেকর্ড আর কিছু সাংগঠনিক বিতর্ক মিলিয়ে ২০তম এশিয়ান গেমস হয়ে থাকল স্মরণীয় এক অধ্যায়।

গেমসের সমাপ্তি হলো সংক্ষিপ্ত, সুন্দর ও সাবলীল কায়দায়। বেশি তোড়জোড় ছিল না অনুষ্ঠানে। ঘণ্টাখানেকের এ আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর অংশটি ছিল ঘোড়ায় চড়ে জাপানের স্টেডিয়ামে এসে গেমসের পতাকা কাতারে নিয়ে যাওয়ার বাস্তবতার সঙ্গে দুর্দান্ত কায়দায় মিল রেখে বড়পর্দায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের সিকোয়েন্সের সমাহার।

এবার জাপান এশিয়ান গল্পে ফিরি। নাম এশিয়ান গেমস; কিন্তু পদক তালিকার দিকে তাকালে মনে হতে পারে এটি বুঝি চীনেরই কোনো একক প্রতিযোগিতা! চার দশক ধরে এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে যে আধিপত্য তৈরি করেছে চীন, নাগোয়ার আসরেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বরং এবারের পারফরম্যান্স সেই পুরোনো প্রশ্নটাকেই আরো জোরালো করেছে—এশিয়ান গেমসকে কি তবে ‘চায়না গেমস’ বলাই বেশি যথার্থ?

নাগোয়ার গেমসের শেষ দিন পর্যন্ত চীন পদকের হিসাবে অন্যদের থেকে এতটাই এগিয়ে ছিল যে, বাকি দেশগুলোর লড়াই অনেকটাই হয়ে দাঁড়ায় দ্বিতীয় স্থান দখলের প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে চীনের স্বর্ণসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৯, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের স্বর্ণ ৮৩টি। মোট পদকেও ব্যবধান ছিল চোখে পড়ার মতো—চীনের ৩৪১টির বিপরীতে জাপানের ২৬৯টি। চীনের ১৬৯ স্বর্ণের সঙ্গে ছিল ৮৯ রুপা ও ৮৩ ব্রোঞ্জ; জাপানের ৮৩ স্বর্ণের সঙ্গে ৯৫ রুপা ও ৯১ ব্রোঞ্জ।

এশিয়ার ক্রীড়াশক্তিগুলোর মধ্যে চীনের এই আধিপত্য নতুন কিছু নয়। চার দশক ধরে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে দেশটি। নাগোয়াতেও সেই ধারাবাহিকতা আরো একবার প্রমাণ করেছে ক্রীড়ার অবকাঠামো, প্রতিভা বিকাশ, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রস্তুতিতে চীন এখনো এশিয়ার বাকিদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে।

এবারের আসরে অংশ নিয়েছেন অন্তত ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ। সংখ্যাটি দুবছর আগে অনুষ্ঠিত প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ হাজার ৭০০ অ্যাথলেটের চেয়েও বেশি। কিন্তু এত বড় আসরের মধ্যেও পদকবণ্টনে বৈষম্যটা স্পষ্ট। একদিকে চীনের মতো দেশগুলো স্বর্ণের পর স্বর্ণ জিতেছে; অন্যদিকে কয়েকটি দেশকে একটি পদকের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘদিন।

সে বৈষম্যের তলানিতে ছিল বাংলাদেশও। চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ, ব্রুনেই, লাওস ও সিরিয়ার ঝুলিতে ছিল মাত্র একটি করে ব্রোঞ্জ। মঙ্গোলিয়া অবশ্য একটি স্বর্ণ, একটি রুপা ও ১৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৫টি পদক নিয়ে শেষ করেছে। বাংলাদেশের সেই একমাত্র ব্রোঞ্জই হয়ে থাকে জিন্নাত আক্তারের উশু পদক। চূড়ান্ত পদক তালিকায় বাংলাদেশ ৩৭তম অবস্থানে আছে কেবল একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে।

চীনের আধিপত্যের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ছিল সাঁতার। ছয় দিনের প্রতিযোগিতায় চীন জিতেছে ৩০ স্বর্ণ। এর মধ্যে ঝাং ঝানশুও একাই জিতেছেন সাতটি। ২০০, ৪০০, ৮০০ ও ১৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের মতো চারটি ব্যক্তিগত ইভেন্টের পাশাপাশি তিনটি রিলেতেও স্বর্ণ জিতে তিনি হয়ে ওঠেন আসরের অন্যতম বড় তারকা।

তবে চীনের সবচেয়ে আলোচিত নাম ১৩ বছর বয়সি ইউ জিদি। বয়স যেখানে অন্যদের তুলনায় তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, সেখানেই পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি নিজেকে পরিণত করেছেন বিশ্বমঞ্চের সম্ভাবনাময় তারকায়। ২০০ মিটার বাটারফ্লাই এবং ২০০ ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে স্বর্ণ জিতেছেন তিনি। আগামী বছর বুদাপেস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ এবং পরের বছর লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে এ দুই চীনা সাঁতারুর দিকে যে আলাদা নজর থাকবে, তা বলাই যায়। তবে চীনের এমন আধিপত্যের মাঝেও সাঁতারে একমাত্র বিশ্বরেকর্ডটি গেছে জাপানের ঘরে। ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে শিন ওহাশি সময় নিয়েছেন দুই মিনিট ৪.৮৩ সেকেন্ড, গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ড।

আর এশিয়ান গেমসের সৌন্দর্য এখানেই। অলিম্পিকের পরিচিত খেলাগুলোর পাশাপাশি এই আসরে এমন অনেক খেলা রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বিশ্বের বড় অংশের দর্শকের পরিচয় খুব সীমিত। সেপাক তাকরো, কুরাশ, জুজিৎসু, প্যাডেল, সফট টেনিস, তেকবলের মতো খেলাগুলো এশিয়ান গেমসকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।

তবে সমালোচনাও ছিল। আয়োজকদেরও পড়তে হয়েছে নানা সমালোচনার মুখে। আলাদা অ্যাথলেটস ভিলেজ নির্মাণ না করে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় ক্রুজ জাহাজ, হোটেল এবং অস্থায়ী কাঠের আবাসনে। কোথাও বিছানা ছোট, কোথাও ছাদ চুইয়ে পানি পড়েছে, এমনকি কক্ষ বরাদ্দের ভুলে নারী ও পুরুষকে একই কক্ষে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

পরিবহন ব্যবস্থাও ভুগিয়েছে আয়োজকদের। নাগোয়া শহর থেকে দূরে থাকা কয়েকটি ভেন্যুতে যাতায়াত নিয়ে অভিযোগ ছিল। কিছু ভেন্যুতে দর্শক উপস্থিতিও ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম। শেষ পর্যন্ত আয়োজক কমিটিকেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। আয়োজক কমিটির মহাসচিব সাতোশি মুরাতে স্বীকার করেছেন, আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ভুল হয়েছে এবং এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এসব বিতর্কের মধ্যেও মাঠের লড়াইয়ে চীনের শ্রেষ্ঠত্বই হয়ে থাকল এবারের এশিয়ান গেমসের সবচেয়ে বড় গল্প। নামটি এশিয়ান গেমস হলেও পদকের রাজ্যে চীন এতটাই এগিয়ে যে, প্রশ্নটা থেকেই যায়—এটি কি সত্যিই এশিয়ার সবার গেমস, নাকি ক্রমেই হয়ে উঠছে ‘চায়না গেমস’?

ছোট পর্দায় উয়েফা নেশন্স লিগের যত ম্যাচ

প্রস্তুতি ম্যাচে ২৩৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ

জয়ের সেঞ্চুরি, রুয়েলের ৫ উইকেট

লিটনের যুক্তিকে 'অযুহাত' বলছেন খালেদ মাহমুদ

মেসিকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব, অনেক চুমু দেব: মার্তিনেজ

গণপরিবহনে ছাড় পাবেন ক্রীড়া কার্ডধারীরা

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার কারণ খুঁজবে কমিটি

রোনালদোই পর্তুগালের জাতীয় দল, আমাদের ফুটবল এবং দেশের সবচেয়ে বড় প্রতীক: ফার্নান্দেজ

মনুমেন্তালে এক অবিস্মরণীয় দিনের অপেক্ষায় স্কালোনি

চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে স্পেনের হ্যাটট্রিক জয়