বিপিএল নিয়ে তো বিতর্ক কম নয়। প্রতি আসরেই থাকে নানা বিতর্ক। এবার বিতর্কমুক্ত এক বিপিএল আয়োজনে আশার কথা শোনান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কিন্তু সেই আশা নিরাশা, আগের সমস্যাগুলো ফিরে এসেছিল এবারের বিপিএলে। ফিক্সিং, পারিশ্রমিক বিতর্ক—সবকিছুকে সঙ্গী করেই শেষ হয়েছে এবারের বিপিএল। এমনকি এক বিসিবি পরিচালকের নামও শোনা গেছে বিপিএলের ফিক্সিং অভিযোগে। সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই বিসিবির।
বিপিএলে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না পাওয়ার ইস্যু নতুন নয়। আগের প্রত্যেকটি আসরে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার একটু উন্নতি হয়েছে এ জায়গায়। কোনো বিদেশি ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক বাকি রাখেনি দলগুলো। তবে দেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাকি রাখার ঘটনা ঘটেছে। ছয় দলের মধ্যে তিন দলই বাকি রেখেছে দেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক।
বিপিএল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্স। বিপিএল শুরুর আগের দিন মালিকানা বদল হয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের। মালিক প্রতিষ্ঠান দল চালাতে অপারগতা প্রকাশ করায় দায়িত্ব নেয় বিসিবি। চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করেনি বোর্ড। তবে ক্রিকেটাররা এই নিয়ে চিন্তিত নন, কারণ বোর্ডের কাঁধে ছিল দলটির দায়িত্ব।
তবে বাকি তিন দল অর্থাৎ নোয়াখালী এক্সপ্রেস, সিলেট টাইটান্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এখনো বকেয়া রয়েছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন ক্রিকেটাররা। টুর্নামেন্ট চলাকালে ৭৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ হওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগই পেয়েছেন ২৫ শতাংশ। এ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিসিবি থেকে ক্রিকেটারদের জানানো হয়েছে, তারা পারিশ্রমিক পেয়ে যাবে।
বিপিএলের এবারের আসর শুরুর আগে দলগুলোর কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা করে ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়েছে বিসিবি। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধ না হলে ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে তা পরিশোধ করবে বিসিবি। এমনটাই ক্রিকেটারদের জানিয়েছে বিসিবি। বড় অঙ্কের ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার পরও দলগুলো কেন পারিশ্রমিক দিতে গড়িমসি করছে তা এখনো জানা যায়নি।
অন্যদিকে ফিক্সিং কাণ্ড নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি গত বিপিএলে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবারের আসরের নিলামের আগে অন্তত ১০ জন ক্রিকেটারকে বাদ দেয় বিসিবি। এমনকি আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সাবেক প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে নিয়োগ দেয়। তার অধীনে হচ্ছে গত আসরের হওয়া ফিক্সিং কাণ্ডের তদন্ত। এমনকি এবারের আসরের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর হওয়ার কথা জানায় বিসিবি। তবে সেই কঠোরতার মাঝেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। আর সেখানে অভিযুক্ত হয়েছেন খোদ বিসিবি পরিচালক মুখলেসুর রহমান শামীম। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট।
বিসিবির এই পরিচালকের বিরুদ্ধে এবারের বিপিএলে বেশ কয়েকটি ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিসিবি যে স্বচ্ছ বিপিএল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই পথে হাঁটতে পারেনি বিসিবি। এই ব্যর্থতার দায়ভার কার, সেই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজেই এখন সবাই।