আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাঁদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে।
খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন খেলায় তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে দল-মতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া আয়োজন খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ায়। এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার প্রতি মানুষের ভালোবাসা একটি ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গঠনের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাঁদের জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।