সবুজ উইকেট-সেটা দেখে বলা হচ্ছিল স্পিনাররা খুব বেশি সফল হবেন না। বরং পেসার আর ব্যাটাররাই গড়ে দেবেন ম্যাচের পার্থক্য। কিন্তু মেহেদি হাসান মিরাজ ওই ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। ক্যারিয়ারের ১৪তম ফাইফার পাওয়া মিরাজের শিকার ছিল পাঁচ উইকেট। তাতেই মূলত লিড পাওয়া নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। তৃতীয় দিনে ভালো বল করে ৯ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশ, ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে শিকার করে মাত্র এক উইকেট। তাতে স্পষ্ট, বোলিংটা বেশ ভালোই করেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে এমন ভালো বোলিং করার রহস্য কী-এ প্রশ্নের জবাবে মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমরা প্রথম সেশনটি ভালো করতে পারিনি। অনেক রান দিয়ে দিয়েছি। কীভাবে রান আটকাতে পারি-এভাবেই আমাদের ফোকাস ছিল।’
সে লক্ষ্য নির্ধারণ করা মিরাজ জানান, মিরপুর সম্পর্কে সে সুযোগটাই নিয়েছেন তারা। তার কথায়, ‘আমাদের বোলারদের একটাই পরিকল্পনা ছিল-কীভাবে রান আটকানো যায় এবং সঠিক জায়গায় কীভাবে বল করা যায়। আমরা মিরপুর সম্পর্কে জানি। এখানে যেহেতু খেলি, আমাদের সে অভিজ্ঞতাটা আছে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘বোলাররা একটি জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছে এবং আমাদের ওই বার্তাটাই ছিল। প্রত্যেকে একই মেসেজ দিয়েছে বোলারদের। আমরা যদি ভালো জায়গায় নিয়মিত বল করতে পারি, তখন সুযোগ চলে আসবে। আমরা শুধু ওটাই করেছি।’
তবে যেখানে পেসারদের সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, সেখানে কীভাবে স্পিনার হিসেবে পাঁচ উইকেট পেলেন মিরাজÑসে প্রশ্নের জবাবে তার ভাষ্য, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মানসিকতার কারণে ফাইফার পেয়েছেন। মিরাজের কথায়, ‘বেশি স্পিন হচ্ছিল না। আমি যেটা চেষ্টা করেছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। একই সময় কিছু সুবিধা পেয়েছি। কিছু কিছু বল স্পিন করেছে। সো ওটা হয়তো ব্যাটারদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর জন্য হয়তো উইকেট পাওয়া সহজ হয়েছে।’
মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে ৩৮৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। তাতে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশের লিড এখন ৩৪। মিরপুর টেস্ট জিততে হলে লিড কত হওয়া জরুরিÑসে প্রশ্নের জবাবে মিরাজ জানান, ম্যাচ জিততে ২৯০-৩০০ রানের লিড দরকার।
তার কথায়, ‘ফল এখনো অবশ্যই ফিফটি ফিফটি পরিস্থিতিতে আছে। কারণ, আমরা অনেক বেশি লিড পাইনি। অবশ্যই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। কারণ, মিরপুরে কত রান নিরাপদ, এটা আপনি বলতে পারবেন না। আমার কাছে মনে হয় ২৯০ বা ৩০০ রান একটা ভালো স্কোর হতে পারে এ উইকেটে। কারণ, চার-পাঁচ নম্বর দিনে অনেক কঠিন হবে।’