হোম > খেলা > ক্রিকেট

ছয় নম্বরে আফিফ কি তাহলে ‘মিসফিট’?

স্পোর্টস রিপোর্টার

সবশেষ বিসিএলে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে এক সেঞ্চুরিতে ১২৮ রান করেছিলেন আফিফ হোসেন। সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকায় তিন ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৬৪! ওই এক সেঞ্চুরি ছাড়া সবশেষ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট কিংবা বিপিএলে বলার মতো ছন্দে ছিলেন না আফিফ হোসেন। তবু তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তান সিরিজ স্কোয়াডে। খেলেছেন ম্যাচও। ওই সিরিজের ধারাবাহিকতায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ স্কোয়াডেও আছেন আফিফ। গত পরশু খেলেছেন প্রথম ওয়ানডেতেও। ৪৯ বলে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। এমন ধীরগতির ইনিংসে দল পড়েছে বিপদে। সেই বিপদে ম্যাচও হেরেছে বাংলাদেশ দল।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৪৯ বল খেলা আফিফ হাঁকাতে পারেননি কোনো বাউন্ডারি। ৫৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করা আফিফ সব রানই করেছেন রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে। ১০ রান এসেছে ডাবল থেকে আর বাকি ১৭ রান করেছেন সিঙ্গেলস নিয়ে। অর্থাৎ, তার ইনিংসের ২৭ বল থেকেই আসেনি কোনো রান। তার খেলা প্রথম বল থেকে ব্যাটিংয়ে একটা শব্দই শুধু ফুটে উঠছিল—স্ট্রাগল!

ব্যাটিংয়ে সেই সংগ্রাম নিজের পুরো ইনিংসেই করে গেলেন আফিফ। ৪৯ বলে ২৭ রান তোলে যখন আউট হলেন তখন নিজের ভবিষ্যতের সঙ্গে সেই ম্যাচের বিপদও বাড়িয়ে গেলেন বহুগুণ। অথচ দলের সংকট দূর করতেই ব্যাটিংয়ে এসেছিল তিনি।

আফিফ ব্যাটিংয়ে যখন নামেন তখন বাংলাদেশ ইনিংসের ২৮ ওভার চলছে। সে সময় জয়ের জন্য ১৩৬ বলে বাংলাদেশের দরকার ১১৬ রান। উইকেট হয়ে উঠেছিল স্পিন-সহায়ক। খানিকটা দেখেশুনে খেলে দলকে সামনে টেনে তোলার কাজটাই করার কথা ছিল তার। সেটা তো করতেই পারেননি, বরং বিস্ময়কর ভঙ্গিতে ধীর কায়দায় ব্যাটিং করে ৪১ নম্বর ওভারে আউট হলেন। তার আউটে প্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ।

ম্যাচের যে পরিস্থিতিতে আফিফ ব্যাট করতে নেমেছিলেন তখন স্লগের প্রয়োজন ছিল না। শুধু বলে বলে রান করলেই চলত। কিন্তু তিনি ৪৯ বলে ২৭ রানের টেস্ট স্টাইলের ব্যাটিং করে শেষের হিসাব আরো কঠিন এবং জটিল করে তোলেন। উইকেট যতই আনইভেন থাকুক না কেন, ৪৯ বল খেলেও একজন ব্যাটার কেন একটা বাউন্ডারিও হাঁকাতে পারবেন না?

এর উত্তর একটাই—সামর্থ্যের ঘাটতি।

৪২ বলে ৫৬ রান চাই, হাতে জমা ৫ উইকেট। উভয় প্রান্তের ব্যাটার তখন পুরো সেট। এমন সহজ সমীকরণের ম্যাচ জিততে না পারলে সামর্থ্য এবং স্কিল যোগ্যতার প্রশ্ন তো উঠবেই!

আফিফ হোসেন পাকিস্তানের বিপক্ষেও জ্বলে উঠতে পারেননি। প্রত্যাবর্তনের ওই সিরিজে দুই ম্যাচে ব্যাটিং করে করেছিলেন মোটে ১৯ রান। ওই সিরিজে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা করতে পারেননি আফিফ। আর তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামেন একদম শেষ মুহূর্তে। তখন আসলে তার ব্যাট হাতে কিছুই করার ছিল না।

বারবার ব্যর্থ হওয়া আফিফ হোসেন টানা তিন ম্যাচ খেলেছেন ছয় নম্বরে। প্রতিটিতেই ভীষণ মামুলি পারফরম্যান্স। এমন ব্যর্থতা সত্ত্বেও অনেকেই আফিফের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ছয় নম্বরে ফিনিশিং রোলের জন্য নয় তিনি যথাযথ নন, তবু তাকে নামানো হয় ছয় নম্বরেই। প্রশ্ন হলো, তিনি যদি সেই পজিশনে ব্যাটিংয়ের জন্য কমফোর্ট অনুভব না করেন বা যদি তার আত্মবিশ্বাস না থাকে তাহলে সেটা তো টিম মিটিংয়েই জানাতে পারেন। তাকে নিশ্চয়ই জোর করে সেই পজিশনে খেলানো হচ্ছে না। বা ম্যাচের মাঝপথে এসে বলা হয় না যে, আপনি ছয় নম্বরে ব্যাট করবেন! সহজ কথা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত মেনে নিজের ইচ্ছাতেই ছয় নম্বরে ব্যাটিং করছেন আফিফ।

এ নিয়ে নির্বাচক হাসিবুল হোসেন শান্ত আমার দেশকে বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। এখানে নির্বাচকদের কোনো হাত নেই। ওটা সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন ম্যানেজমেন্ট অধিনায়ক ও কোচ; সম্পূর্ণটাই ওদের ওপর।’

তবে যেহেতু দল নির্বাচনের ব্যাপারটি নির্বাচকদের ওপর, তাহলে আফিফ কি এই পজিশনে পারছেন না, এমন সিদ্ধান্তে আসার সময় কি হয়ে এলো? এ প্রশ্নের জবাবে খানিকটা কূটনীতিক উত্তর দেন নির্বাচক হাসিবুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘এখনো আসলে ওভাবে আলাপ হয়নি। খেলাটাতে (প্রথম ওয়ানডে) তো আসলে ভাগ্য পক্ষে ছিল না।’ তবে তার কথায় খানিকটা স্পষ্ট, আফিফকে আরো সুযোগ দেওয়ার পক্ষে নির্বাচকরা। এ নিয়ে হাসিবুল শান্ত বলেন, ‘আফিফ তো তিনটি খেলা (ইনিংস) খেলছে। এর মধ্যে দুটি সুযোগ পাচ্ছে মোটামুটি। এখনো ওভাবে কোনো আলোচনা হয়নি।’

২০২০ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৩৮ ওয়ানডে খেলেছেন আফিফ হোসেন। এর মধ্যে পেয়েছেন মোটে তিন ফিফটির দেখা। যার সবশেষটি এসেছে ২০২২ সালে ১৭ ইনিংস আগে। এ সময়ের মধ্যে তার ইনিংসগুলোয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৩৮ রান। ক্যারিয়ারে ৩৩ ইনিংস ব্যাটিং করা আফিফ হোসেন সবচেয়ে বেশি সাত নম্বরে ব্যাটিং করেছেন। এ সময় প্রায় ২৮ গড়ে করেছেন ৪১৯ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয় বার ব্যাট করেছেন পাঁচ নম্বরে। এ পজিশনে তার মোট রান ৬০ গড়ে ১৮০। গড় বেশি হলেও স্ট্রাইক রেটের অবস্থা করুণ। ফিনিশিং রোলে থাকা ক্রিকেটারদের সাধারণত ১০০ কিংবা তার চেয়ে বেশি থাকলেও এ দুই পজিশনে তার ব্যাটিং গড় ৯০-এর কম। এতেই স্পষ্ট, ফিনিশিং রোলে খুব একটা সুবিধা কখনই করতে পারেননি আফিফ।

তার ব্যাটিং নিয়ে ক্রিকেট কোচ রাজিন সালেহ বলেন, ‘আফিফ আসলে ছয় কিংবা সাত নম্বরে ব্যাটিং করার মতো ব্যাটার নয়। ওইভাবে ওই জায়গার জন্য অনুশীলনও করেনি আগে। যদি তাকে সেখানে খেলাতে হয়, তাহলে আরো কিছুদিন সময় দিতে হবে। আরেকটি ব্যাপার, অনেকদিন পর আফিফ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছে। শেষ সিরিজে দলে জায়গা পেয়েছে, মানিয়ে নিতে তাকে আরো কদিন সময় দিতে হবে।’

লোয়ার মিডল অর্ডারে অর্থাৎ আফিফ যে পজিশনে খেলেছেন, সেখানে খেলা ক্রিকেটারদের মূল কাজ মূলত খেলা ফিনিশ করা। দলের পক্ষে ফল নিয়ে আসা। সেই কাজটাই কখনো ঠিকমতো করতে পারেননি আফিফ হোসেন। তবু তাকে বছরের পর বছর একই পজিশনে সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

আফিফ যখন টানা ব্যর্থ, তখন সাইড বেঞ্চে আছেন সৌম্য সরকার। টপ অর্ডারের পাশাপাশি ছয় কিংবা সাত নম্বরেও ব্যাটিং করতে পারেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও আছে লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট চারবার ছয় কিংবা সাত নম্বরে ব্যাটিং করেছেন সৌম্য সরকার। পর্যাপ্ত সুযোগ না পেলেও তার ওপর সে আস্থা আছে টিম ম্যানেজমেন্টের। কারণ, যেভাবে খেলা দরকার, লোয়ার অর্ডারে সেই দক্ষতাটা আছে বলে মনে করে টিম ম্যানেজমেন্ট। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিততে না পারলে সিরিজ হারবে বাংলাদেশ। তাই সিরিজ বাঁচানো এই ম্যাচে সব পজিশনে সেরাদের নিয়েই খেলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ দল। সোমবারের ম্যাচের একাদশে আফিফের জায়গায় সৌম্য সরকারের নাম থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

টিভিতে ম্যানসিটি-আর্সেনাল ম্যাচসহ ক্রিকেটের যত খেলা

পরিবর্তন হবে পূর্বাচল স্টেডিয়ামের নকশা

মাহমুদউল্লাহকে দলে ভেড়াল প্রাইম ব্যাংক, বিজয়কে মোহামেডান আর মমিনুলকে লিওপার্ডস

চার নতুন মুখ নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান

কোনো অজুহাত দিয়ে বাঁচার উপায় নেই: সাইফ

ডিপিএলের দলবদল শুরু আজ

তপ্ত গরমে শরিফুল শো

টানটান লড়াই শেষে ফাইনালে এনআরবিসি ও সিটি ব্যাংক

ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের দরকার ২৪৮