ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিততে শেষ ২৯ বলে ৫০ রান দরকার ছিল বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। বড় লক্ষ্যে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও সাদিয়া ইসলামের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে তখন ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছিল। তবে এমন সময় আম্পায়ারের এক সিদ্ধান্তে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
বাংলাদেশ ইনিংসের ১৬তম ওভারর দ্বিতীয় বলে চামুদি প্রবোদাকে সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে বলে করতে পারেননি সাদিয়া। বাঁহাতি স্পিনার প্রবোদার আর্ম বলটি লেগ স্টাম্পের আশেপাশে পিচ করে আরেকটু ভেতরে ঢুকে লাগে সাদিয়ার প্যাডে। লঙ্কানরা আবেদন করতেই সঙ্গে সঙ্গে আউটের ইশারা করেন পাকিস্তানি আম্পায়ার সালিমা ইমতিয়াজ।
তবে পরবর্তীতে অ্যাকশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটা লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল অনেক বেশি। রিভিউতে 'আম্পায়ার্স কল' হওয়ার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। তবে রিভিউ না থাকায় খানিকটা আক্ষেপেই পুড়তে হলো বাংলাদেশকে।
আউট হয়ে সাজঘরে যাওয়ার পথে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি সাদিয়া। তবে মাঠ ছাড়ার পর রিপ্লে দেখে নিশ্চয়ই আক্ষেপ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। হতাশাটা তার চোখে-মুখেও ফুটে উঠেছিল সেভাবে। ব্রডকাস্ট চ্যানেলের ধারাভাষ্যকাররাও সাদিয়ার ঘটনাটিকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সাদিয়ার ওই উইকেটটিই ম্যাচ শেষে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ১৫৯ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে মাত্র ৪ রানে। ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে শুক্রবার বাংলাদেশকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
বাজে আম্পায়ারিংয়ে সাদিয়ার আউটের প্রভাব যেমন ম্যাচে পড়েছে, তেমনি প্রভাব পড়েছে বাজে ফিল্ডিং এবং ক্যাচ মিসেরও। সেই বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগটা নিয়েছেন শ্রীলঙ্কান টপ অর্ডার ব্যাটাররা। শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৪১ রান তোলে লঙ্কানরা। পঞ্চম ওভারে সানাজানা কাভিন্দি ও বিমুকসা বালাসূরিয়ার ৪৯ রানের জুটি ভাঙলেও পাওয়ারপ্লেতে ৬২ রানের বড় সংগ্রহ তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
বালাসূরিয়া ২৩ রান করে ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে নিথমি উপেক্ষাকে নিয়ে ৫৩ রানের জুটি গড়েন টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটার সানজানা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ফিফটিও তুলে নেন। এই টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে এটি সানজানার তৃতীয় ফিফটি। শ্রীলঙ্কা জাতীয় নারী দলের হয়ে ৬ ম্যাচ খেলা এই ব্যাটার এই টুর্নামেন্টে সব মিলিয়ে রান করেছেন ৩০২।
ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা সানজানাকে ফেরান নিশিতা আক্তার নিশি। ৪৪ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। তবে ভালো বোলিং করেও রানের লাগাম টানতে পারেনি বাংলাদেশ। এর পেছনে ছিল বাজে ফিল্ডিং এবং ক্যাচ মিস। ২২ রান করা নিথমিকে ২ বার জীবন দিয়েছে বাংলাদেশ। আর ২৮ রান করা পেইরিস জীবন পেয়েছেন ৭ রানে থাকাবস্থায়। শেষদিকে সিউমিনিও করেন ১৫ রান। তাতে ৬ উইকেটে ১৫৮ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। এই টুর্নামেন্টে এটাই কোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় রান।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায়ত বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। শূন্য রানে আউট হওয়ার আগে মাইমুনা নাহের ২ ও আচেনা জান্নাত ৭ বল খেলে যানসুবিধা করতে পারেননি শিরিনা খাতুনও। ৭ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি।
অধিনায়ক সাদিয়া যখন ব্যাটিংয়ে আসেন, তখন ৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেট ২১ রান। জয়ের জন্য তখন ১৫ ওভারে ১৩৮ রান দরকার বাংলাদেশের অর্থাৎ ওভার প্রতি রান দরকার ছিল ৯ এর ওপরে।
এরকম পরিস্থিতি থেকে জুনিয়র নারী দল তো দূরের কথা, সিনিয়র নারী দলেরও জয়ের কোনো নজির নেই। তবে সেই 'অসাধ্য' সাধন করতেই নেমেছিলেন সাদিয়া। নিজের ইনিংসের প্রথম ৬ বলেই ২ বাউন্ডারি মেরে জানান দেন নিজের দুর্দান্ত ফর্মের।
চাপের মুখে নিশিতা আক্তার নিশিকে নিয়ে ৬৭ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন অধিনায়ক। ৩৩ বলে ৩২ রান করে নিশি রান আউট হয়ে ফেরেন। তবে ম্যাচে সেটার প্রভাব পড়তে দেননি সাদিয়া। সাদিয়াকে আক্তারকে নিয়ে ভালোভাবেই এগোতে থাকেন তিনি।
শেষ ১০ ওভারে জয়ের জন্য ১০৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। এর মধ্যে প্রথম ৫ ওভারে ৫২ রান করে বাংলাদেশ। মাঝে নিশির আউটেও রান রেট কমেনি। তবে বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সাদিয়া ইসলামের ওই আউটে। ৫ ছক্কা ও ৩ চারের অসাধারণ ইনিংসটি থামে আম্পায়ারের একটি 'বাজে' সিদ্ধান্তে।
প্রবোদার যেই ওভারে সাদিয়া আউট হন, সেই ওভারে রান আসে কেবল ৩। শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪৮ রান।
সাদিয়া আক্তার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও ম্যাচটা জেতাতে পারেননি। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৩৫ রান করেন সাদিয়া আক্তার। এছাড়া ফারজানা ১১ রান করেন।