টি-টোয়েন্টির ডামাডোলে বিশ্বজুড়ে এখন কমেছে ওয়ানডে ম্যাচ। সংখ্যায় কমলেও ওয়ানডে ম্যাচ মানেই এখন ৩০০ ছাড়ানো স্কোর! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অবশ্য তেমন কিছু দেখা মেলেনি। শুরুর দুই ম্যাচেই নিউজিল্যান্ড টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেয়। দুবারই মামুলি স্কোরÑ২৪৭ ও ১৯৮। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোর আরো কাহিল, ২৪৮-এর জবাবে তারা গুটিয়ে যায় মাত্র ২২১ রানে। ধীরগতির উইকেটের কারণেই কি এই সিরিজে রান হচ্ছে না? প্রথম ম্যাচ শেষে সাইফ হাসানের কণ্ঠে থাকা অস্বস্তি এ প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলছে। সেই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া সাইফ বলেছিলেন, আন-ইভেন বাউন্সের উইকেটে ব্যাট করা সহজ ছিল না। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে শরিফুল ইসলাম অবশ্য উইকেট নিয়ে কোনো সমালোচনা করেননি, তবে মিরপুরের উইকেটের আচরণ যে এখনো দল ঠিকঠাক বুঝতে পারেনি, সেটা স্পষ্ট ছিল তার কথায়।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের উইকেটে অবশ্য কিছুটা বদল আসে। আন-ইভেন বাউন্সের বদলে দেখা মেলে দারুণ বাউন্সের। অর্থাৎ পাকিস্তান সিরিজে যেমন উইকেট ছিল, সেটারই দেখা মেলে মিরপুরে। সে সুবিধাটা দারুণ কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানেই গুঁড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। সহজে জিতে নেয় ম্যাচ। তবে কোনো ম্যাচে ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান করতে না পারার কি আক্ষেপ আছে ম্যানেজমেন্টের?
এ প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় দলের নির্বাচক হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আমরা আগে ব্যাট করলে ৩০০-এর বেশি করতাম। আমরা সুপার বোলিং করছি। ওরা যেহেতু ৩০০-এর বেশি করতে পারেনি, সেখানে তো আসলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে এই উইকেটে আমরা সহজে ৩০০ করতে পারতাম।’
আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন হরহামেশাই দেখা মেলে ৩০০ রানের। অন্তত অতীত পরিসংখ্যান সেটাই বলে। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০ দল মিলে খেলেছে ২৩৫ ওয়ানডে ম্যাচ। এর মধ্যে ১৭ দল ৪৫ ম্যাচ আর ৪৮ ইনিংসে ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান করেছে। তালিকায় বাংলাদেশ মোটে একবার ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান করেছে। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটে ৩২১ রান তুলেও ম্যাচ হেরেছিল। অর্থাৎ, এরপর টানা ১৬ ম্যাচে ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি করতে ব্যর্থ লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এ সময় দুবার ৩০০ রানের কাছাকাছি গিয়েছিল বাংলাদেশ। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে করেছিল আট উইকেটে ২৯৮ রান। আর পরের সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছিল পাঁচ উইকেটে ২৯০ রান।
এসব রেকর্ডে স্পষ্ট, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের সামনে ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রানের লক্ষ্য এলে সেটা হয়ে উঠতে পারে পাহাড়সম। হুট করে ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রানের লক্ষ্য যেন পাহাড়সম না হয়ে ওঠে, সে প্রস্তুতিটা চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে কি না, সে প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটপাড়ায়। রানের জন্য ‘পারফেক্ট উইকেট’খ্যাত চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দলীয় সংগ্রহের ৩০০-এর ওপরে নিতে পারে কি না লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা- সেটাই এখন দেখার পালা।
চট্টগ্রামের সাগরপাড়ের এই স্টেডিয়াম বড় রানের জন্য পরিচিত। দুবছরের বেশি সময় পর ওয়ানডে ক্রিকেট ফিরছে এ ভেন্যুতে। এখানেও এবার ৩০০ বা বড় আশা কতটুকু পূর্ণ হবেÑসেটা নিয়ে একটু সন্দিহান থাকতেই হচ্ছে। কারণ, এ মাঠে ওয়ানডেতে সবশেষ ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান হয়েছিল ২০২৩ সালে। সেবার আফগানিস্তান বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৩৩১ রান তুলেছিল। এরপর এ মাঠের বাকি চার ওয়ানডেতে হয়নি কোনো ৩০০ রানের ম্যাচ। আর এখানে সব শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে তিনবার হয়েছিল ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান। যার একটির কৃতিত্ব বাংলাদেশের। ২০২২ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল চার উইকেটে ৩০৬ রান। আর একই বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রামের এ মাঠে আট উইকেটে ৪০৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ম্যাচ জেতে ভারত।
এসব রেকর্ড জানাচ্ছে, চট্টগ্রামের মাঠে বড় রান হওয়ার সুযোগটুকু আছে। ক্রিকেটাররা কীভাবে সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান করার প্রস্তুতি নেবেÑসেটাই দেখার অপেক্ষা।