প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৭৭ রান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৮ উইকেটে ১০৬ রান। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিতে মাঝের ওভারে দারুণ খেলার বিকল্প ছিল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। মাঝের ওভারে দারুণ খেলার সেই সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। ৮ ওভারে ওই ১০৬ রান তুলে জয়টা নিশ্চিত করে ফেলে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, ওভারপ্রতি ১৩.২৫ রান করে তুলেছে স্বাগতিক ব্যাটাররা। তাতে স্পষ্ট মাঝের ওভারে কতটা আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। এটা নিয়ে গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাওহিদ হৃদয় বলেন, ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’ এই চিন্তা করেই মাঠে নেমেছিলেন।
সেই চিন্তা মাঠে কতটা প্রয়োগ করেছেন সেটা স্পষ্ট তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিংয়েও। ২৭ বলে ৫৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। যেখানে ছিল ২ চার ও তিন ছক্কা। ৭৭ রানে তিন উইকেট পতনের পর এমন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার কারণ নিয়ে হৃদয় বলেন, ‘আসলে পরিকল্পনা ছিল ওই পরিস্থিতিতে দলের চাহিদা কী ছিল, রান দরকার ছিল। রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল আক্রমণ করে খেলব। কারণ ওখানে যদি আক্রমণ না করতে পারি তাহলে হয়তো দলের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি শুধু চেষ্টা করেছি যতটুকু আক্রমণ করে খেলা যায়।’
মিডল অর্ডারে ভালো করলেও টপ অর্ডার এনে দিতে পারেনি ভালো শুরু। একরকম সেই ধ্বংসস্তুপ থেকে দলকে টেনে তুলেছেন হৃদয়। এমন ভুলে তিনি নারাজ টপ অর্ডারকে দায় দিতে। বরং, নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে, সেটাই মনে করিয়ে দেন। সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে দলকে নিয়ে এসেছেন জয়ের পথে। সে সময়ে তাওহিদ হৃদয়ের মনে হয়েছিল আগ্রাসী ক্রিকেটাটাই হতো দলের জন্য সেরা ক্রিকেট।
এটা জানিয়ে হৃদয় বলেন, ‘দুই ওভার যদি ভালো ব্যাটিং করি, ভালো বোলিং করি, দুই-তিনটা উইকেট নিই, তাতে টি-টোয়েন্টি খেলা এদিক-ওদিক যায়। আমি ওইটাই চেষ্টা করেছি ওই সময়টা যতটুকু আক্রমণাত্মক খেলা যায়। ওই সময়ে অ্যাটাকিং অপশনটাই সবচেয়ে সেরা ছিল দলকে জেতানোর জন্য।’
যে আত্মবিশ্বাস আর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গতকাল ম্যাচ জিতেছে, ঠিক তেমন পরিস্থিতিতে বহুবার হারার রেকর্ডও আছে। তবে অভিজ্ঞতার বিচারে এই ম্যাচগুলো জেতানো দরকার আছে। ম্যাচ জেতাতে না পারলে তা তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দিতো সেটা মনে করিয়ে হৃদয়ের ভাষ্য, ‘এরকম ম্যাচ যদি না জেতাতে পারি তাহলে এটা আমাদের জন্য ভালো দিক না। ব্যাটার হিসেবে এসব দায়িত্ব নিতে হবে। নিয়মিত টপ অর্ডার থেকে ভালো হবে না। এমনও ম্যাচ হতে পারে মিডল অর্ডারও ভালো হবে না, বাট লোয়ার অর্ডার থেকে ম্যাচ জেতাতে হবে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ জিতিয়ে খুব বেশি আনন্দে আত্মহারা হতে চান না হৃদয়। বরং সামনে তার চাওয়া আরও ভালো করার। ইতিবাচক থেকে চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলার প্রত্যয়টাই ছিল তার কণ্ঠে। পাশাপাশি গতকাল তার সঙ্গে ব্যাট করা শামীম পাটোয়ারি ও পারভেজ হোসেন ইমনের প্রশংসাও ছিল তার কথায়, ‘শামীম আজকে (গতকাল) যা করেছে, আমার মনে হয় ঐ ইনিংসটা একটা ফিফটির থেকেও অনেক বড় ইনিংস। শামীম এবং ইমন যেটা করেছে। এই জিনিসটা আমাদের নিজেদেরও বুঝতে হবে। ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসটা আসলে কোনটা।’
ব্যাটারদের নিয়ে অনেক কথা হলেও এই ম্যাচ জয়ের জন্য তাওহিদ হৃদয় কৃতিত্ব দিচ্ছেন দলের সবাইকে। সবাই নিজের কাজ সম্পর্কে ভালো জানতেন বলেই কাজ সহজ হয়েছে বলে জানান তাওহিদ হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত কৃতিত্বটা যে বোলার-ব্যাটার আর ফিল্ডার সবারই সেটা ভালো করেই জানেন হৃদয়। সেই কৃতিত্বটা নিয়ে নিজেকে টিমম্যান পরিচয়টা দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।