টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ হয়েছে। চমক, রোমাঞ্চ আর অঘটনের ছড়াছড়ি দেখা গেছে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে। পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বাদ পড়া, গ্রুপসেরা হয়ে জিম্বাবুয়ের সুপার এইটে ওঠা কিংবা ইতালির কাছে নেপালের হার ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ২০ দলের লড়াই এসে থেমেছে আট দলে। এবার সুপার এইটেও মহারণ দেখার অপেক্ষা। বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সুপার এইট।
সুপার এইটের আট দলের মধ্যে গ্রুপ-১-এ আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ে। গ্রুপ-২-এ আছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড। দুই গ্রুপের ম্যাচগুলো দুই স্বাগতিক দেশে আয়োজিত হবে। গ্রুপ-১-এর ম্যাচগুলো ভারতে এবং গ্রুপ-২-এর ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্বে পাওয়া পয়েন্ট সুপার এইটে যোগ হবে না। শূন্য হাতেই সুপার এইট পর্ব শুরু করবে দলগুলো। জয়ী দল পাবে ২ পয়েন্ট। যদি বৃষ্টির কারণে কোনো ম্যাচ অন্তত ৫ ওভার করে খেলা না হয়, তাহলে ম্যাচটি ‘নো রেজাল্ট’ ঘোষণা হবে। সেক্ষেত্রে ম্যাচের দুই দলই ১ পয়েন্ট করে পাবে। কোনো ম্যাচ টাই হলে সুপার ওভার অনুষ্ঠিত হবে। সুপার ওভারেও যদি ম্যাচ টাই হয়, তাহলে ফল নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সুপার ওভার চলতে থাকবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে খেলবে। ৪ ও ৫ মার্চ সেমিফাইনাল দুটি অনুষ্ঠিত হবে। ৮ মার্চ ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে বিশ্বকাপ।
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে লড়বে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। দুই দলই আছে ফর্মের তুঙ্গে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ মাসে ২৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। এর মধ্যে ২০২২ সালে সিডনিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোর কোনোটিই ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, যতটা গুরুত্বপূর্ণ আজ কলম্বোর ম্যাচটি। গ্রুপ পর্বে দুই দলই অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষকে সহজে হারালেও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে। নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা আর পাকিস্তানকে একই ভাবে চাপে ফেলে ভারত।
নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেন্যু পরিবর্তন। তারা তাদের সব ম্যাচ খেলেছে চেন্নাই ও আহমেদাবাদে, যেখানে পেস ও স্পিনের ভারসাম্য ছিল। তবে পেসের দিকেই ঝোঁক বেশি। মূল স্পিনার ছিলেন মিচেল স্যান্টনার, মাঝে মাঝে সহায়তা করেছেন রাচিন রবীন্দ্র বা গ্লেন ফিলিপস। কিন্তু কলম্বোয় এসে সে ভারসাম্য উল্টে যেতে পারে, যেখানে স্পিনারদেরই দাপট থাকবে, যা পাকিস্তান ইতোমধ্যেই বেশ সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে।
স্যান্টনারের দল ব্যাটিং অর্ডারে খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি। দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফিন অ্যালেন, টিম সাইফার্ট, রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সহজ জয় এনে দেয়। বোলাররাও প্রতিপক্ষকে বেশি সুযোগ দেয়নিÑচার ম্যাচে নিউজিল্যান্ড হারিয়েছে মাত্র ১৪ উইকেট, যা টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। পাকিস্তান অবশ্য কলম্বোর পরিবেশের সঙ্গে বেশ পরিচিত। তাদের চার ম্যাচের তিনটি অন্য মাঠে হলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়েছিল এখানেই, একই ভাবে সন্ধ্যার ম্যাচ হিসেবে। ফলে পিচ ও কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছে তারা। এই ভেন্যুতে পাকিস্তান অন্য যেকোনো মাঠের তুলনায় বেশি স্পিন ব্যবহার করেছে। অধিনায়ক সালমান আলী আঘা জানিয়েছেন, সুপার এইটেও একই কৌশল থাকবে।
এই বিশ্বকাপে দুই দলই মাঝামাঝি শক্তির মধ্যে পড়ছে, যারা প্রমাণ করতে চায় তারা ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তার চেয়ে অনেক ভালো দল। শেষ পর্যন্ত শনিবারের লড়াইয়ের দিকে সবার চোখ। এবার দেখা যাক, কে নিজের সমমানের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।