শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লক্ষ্যটা বড় হলেও শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে দুই উদ্বোধনী ব্যাটারের আউট হওয়ার পর ট্র্যাকচ্যুত হয়ে পড়ে দেশের মেয়েরা। মিডল অর্ডার ব্যর্থতার গল্প লেখায় লড়াই থেকেই ছিটকে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে একাই লড়াই করেছেন স্বর্ণা আক্তার। কিন্তু তার দারুণ হাফসেঞ্চুরি শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। শ্রীলঙ্কা প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছে ২৫ রানে। এ জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল লঙ্কান কন্যারা।
সিলেটে আজ টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১৬১ রানের পুঁজি গড়ে শ্রীলঙ্কার নারীরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
টার্গেট চ্যালেঞ্জিং হলেও ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার খেলেন ঝোড়ো ইনিংস। ১২ বলে ১৬ রান করে জুরাইয়া ফেরদৌস ফিরে গেলে ভাঙে ৩৯ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ। এরপরই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।
ওয়ানডাউনে নেমে ৫ বলে মাত্র এক রান পেয়েছেন শারমিন আক্তার। দলের প্রয়োজনের সময়ে অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলতে পারেননি নিগার সুলতানা জ্যোতিও। অফ ফর্মে থাকা অধিনায়ক রানের দেখাই পাননি। দুই বল খেলে মেরেছেন ডাক।
দুর্দান্ত শুরু করেও দিলারা বিদায় নিয়েছেন ১৪ বলে ২৩ রান যোগ করে। তার আউটে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল। এখান থেকে বাঘিনীদের টেনে তোলার চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি স্বর্ণা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। দুজনে মিলে ভালো পার্টনারশিপ গড়লেও অনেক বল নষ্ট করেছেন দুজনে।
দলীয় স্কোরে ২৬ বলে ১৬ রান যোগ করে সাজঘরের পথ ধরেছেন সোবহানা। আর ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রান রেট চলে যায় সাধ্যের বাইরে। পরে স্বর্ণা একা ব্যাট হাতে লড়াই করেও পেরে উঠেননি। যে কারণে মেলেনি কঠিন হয়ে পড়া জয়ের সমীকরণ। ৪৫ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় হাঁকানো তার ৬০ রানের দুর্বার ইনিংসটি হারের ব্যবধান কমিয়েছে আরকি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা : ১৬১/৪, ২০ ওভার (হর্ষিতা ৬১, ইমেশা ৫৫, চামারি ৩২; সুলতানা ২/২৯, নাহিদা ১/২৬, মারুফা ১/৩৭)।
বাংলাদেশ : ১৩৬/৭, ২০ ওভার (স্বর্ণা ৬০, দিলারা ২৩, জুয়াইরিয়া ১৬, সোবহানা ১৬; চামারি ২/১৯, মালকি ২/৩১, মিতালি ২/৩৩)।
ফল : শ্রীলঙ্কা ২৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : হর্ষিতা সামারাবিক্রমা।