হোম > খেলা > ক্রিকেট

ভোটে বিতর্ক, ভেতরে ভাঙন-বিশৃঙ্খল বিসিবি!

এম. এম. কায়সার

বিসিবির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি কাজ শুরুর পরপরই বিসিবি একটি পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে। সে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমার দেশ বিসিবি পরিচালকদের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল। টেলিফোনের ওপর প্রান্তে পাওয়া গেল পরিচালক ফায়াজুর রহমান মিতুকে।

প্রশ্ন : এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়ে বিসিবি যে বিবৃতি দিয়েছে, সে বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাচ্ছিলাম…

ফায়াজুর রহমান মিতু যা বললেন, তা ঠিক এমন- ‘আমরা কেউ এ বিষয় সম্পর্কে জানি না। মিঠু ভাই (আরেক পরিচালক) আমাকে সকালে এ বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন। উনি জানতে চাইলেন, আমি এ সম্পর্কে কিছু জানি কি-না। আমি বললাম, না, আমি কিছু জানি না। তিনিও বললেন কিছু জানেন না। বিষয়টি হলো উনি (বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল) তার পঞ্চপাণ্ডব বা সপ্তপাণ্ডবদের নিয়ে কথাবার্তা বলেন। বাকিদের সম্ভবত এসব বিষয়ে জানানোর মতো মনেই করেন না। তিনি বিসিবির হয়ে যে বিবৃতি দিলেন, সেটা তো আমরা কেউ জানিই না। তিনি এটা আমাদের সঙ্গে শেয়ারই করেননি। তার নিজের কয়েকজন লোক আছে, তাদের সঙ্গে শুধু শেয়ার করেন। এই যে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত (বিসিবির বিবৃতি) নিলেন তিনি, অথচ সেটা নিয়ে আমাদের কারো সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন মনে করলেন না। বিবৃতিটা দেখে আমার মনে হয়েছে এটা একটি থ্রেট দেওয়া হলো যেন! শুধু এটাই নয়, এই যে নারীদের বিপিএল শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সেটাও আমরা পত্রিকায় পড়ে জেনেছি। এভাবেই তিনি (বুলবুল) সবকিছু কুকিং করছেন; কিন্তু আমরা বোর্ড পরিচালক হিসেবেও কিছুই জানছি না। এ সমস্যা শুরু থেকেই ছিল, এখন আরো বেড়েছে।’

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বিসিবিতে যে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ উঠছে, তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। পরিচালকদের একাংশ বলছেন, তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের খবরই জানেন না। বোর্ডের ভেতরে এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ কোনো সুস্থ প্রতিষ্ঠানের লক্ষণ হতে পারে না। বরং এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত—এখানে সমন্বয় নেই, আস্থা নেই, নেতৃত্বের স্বচ্ছতাও নেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজ যেন এক অদৃশ্য সংকটে আটকে থাকা প্রতিষ্ঠান, যেখানে নেতৃত্বের চেয়ে বিভাজন, পরিকল্পনার চেয়ে বিশৃঙ্খলাই বড় হয়ে উঠেছে।

এক সময় যাকে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখেছিল ক্রিকেট মহল, সেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন নিজেই হয়ে উঠছেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। অভিযোগ উঠছে, তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বোর্ডের অন্য পরিচালকদের অন্ধকারে রেখে। এই একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতা বিসিবির ভেতরের ভাঙনকে নগ্ন করে দিয়েছে। অনেক পরিচালকই প্রকাশ্যে তার (বুলবুলের) সিদ্ধান্ত অস্বীকার করছেন। সাফ জানিয়েছেন- এনএসসির তদন্ত কমিটি নিয়ে বোর্ডের হুমকিমূলক বিবৃতিতেও তারা একমত নন। প্রশ্ন উঠছে, বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের মতোই কি বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলেরও একই পরিণতি হচ্ছে? ফারুক আহমেদের সময়ের বিসিবির মতোই এখনো একই চিত্র—ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা, আর চারপাশে বিচ্ছিন্নতা। ফারুকের দুর্ভাগ্য কি বুলবুলকেও বহন করতে হচ্ছে!

বিসিবির নির্বাচন ঘিরে যে বিতর্ক, তা এখন বোর্ডের গলায় ফাঁস হয়ে ঝুলছে। স্বচ্ছতার অভাব, প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে বোর্ড এখন চরম বেকায়দায়। ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজন ব্যর্থতার এক দীর্ঘ তালিকায় পরিণত হয়েছে। ক্লাবগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লিগ অনিয়মিত, কাঠামো দুর্বল; ফলে বহু ক্রিকেটার কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন। একটি দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা যদি নিজের খেলোয়াড়দেরই মাঠে নামানোর সুযোগ দিতে না পারে, তাহলে সেই ব্যবস্থাপনার অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ।

ভয়াবহ বাস্তবতা হলো, এই বোর্ড পরিচালনায় থাকা অধিকাংশ ব্যক্তির যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিকল্পনা নেই, দূরদৃষ্টি নেই; শুধু অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের কাদা ছোড়াছুড়ি। দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও তারা এমনসব মন্তব্য করছেন, যা ক্রিকেটারদের সম্মানহানি ঘটাচ্ছে এবং পুরো ক্রিকেট পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে। খেলোয়াড়দের আস্থা হারিয়ে গেছে—এটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

বোর্ডের অদক্ষতা ও সিদ্ধান্তহীনতার আরেকটি উদাহরণ পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগ ইস্যু। মাসের পর মাস কেটে গেছে; কিন্তু বিসিবি এখনো তার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়—এটি যথাযথ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির প্রমাণও।

বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবির অবস্থান ছিল আরো করুণ। সিদ্ধান্তহীনতা, ভুল কৌশল এবং ক্রিকেট কূটনৈতিক ব্যর্থতায় বোর্ড নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে তাকে পরাজিত একটি প্রতিষ্ঠানের মতোই মনে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা হারিয়ে বিসিবি এখন যেন ক্রমশ হাস্যকর ও প্রহসনের চরিত্রে পরিণত হয়েছে।

আইসিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে গিয়ে হেরে এখন আবার তাদের কাছেই সমর্থন চাইছে বিসিবি। যেখানে বিসিবি প্রতিপক্ষ বানিয়েছে আবার খোদ নিজ দেশকে! এই দ্বিচারিতা কেবল দুর্বলতাই নয়, আত্মমর্যাদাহীনতারও প্রমাণ।

নাজমুল আবেদিন ফাহিম, ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলদের বোর্ডে আসার প্রক্রিয়াও কোনোমতেই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যেভাবে মনোনয়ন দিয়ে তাদের আনা হয়েছে, তা বোর্ডের স্বাধীনতা নিয়েই সন্দেহ তৈরি করে। যে প্রক্রিয়ায় আহমেদ সাজ্জাদুল ইসলাম ববিকে সরিয়ে এনএসসির কোটায় ফারুক/ফাহিমদের জন্য বিসিবিতে চেয়ার সাজানো হয়েছিল, সেটা কি প্রক্রিয়া মেনে হয়েছিল? নাকি তখন রঙবাজি করা হয়েছিল? এখন যারা নীতিনৈতিকতার বুলি কপচাচ্ছেন, সেদিন তারা কোথায় ছিলেন?

বিসিবি এখন সংকটেরই আরেক নাম হয়ে গেছে। নির্বাচন থেকে পরিচালনা—সব জায়গায় অস্বচ্ছতা, অযোগ্যতা আর বিভাজন। এই ধারা চলতে থাকলে বিসিবি শুধু একটি ব্যর্থ সংস্থাই নয়, বরং ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। বিসিবি আজ আর কেবল একটি ক্রিকেট পরিচালনাকারী সংস্থা নয়, বরং এটি ক্রমশ একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে। যে অব্যবস্থাপনা, বিভক্তি, দায়হীনতা এখানে চলছে—তা যেন দেশের চিরপরিচিত বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটেরই প্রতিচ্ছবি।

দেশের রাজনীতিবিদরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ নাকি ধীরে ধীরে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে। সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়—বিসিবির বর্তমান চিত্র দেখলে অন্তত এটুকু স্পষ্ট, এই সংস্থাটি নিজেই ব্যর্থতার দিকে দ্রুত হাঁটছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অস্বচ্ছ ও বিতর্কে ভরা। ছক সাজিয়ে নির্বাচন করে, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আসা কমিটির ভেতরেই এখন গভীর ফাটল—অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব আর দূরত্ব।

এই বিসিবি মাত্র পাঁচ মাসেই হেরে গেছে, ধসে পড়ছে!

র‌্যাঙ্কিংয়ে মিরাজ-নাহিদের উন্নতি

মোহামেডানের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী তামিম

জয়াসুরিয়ার সম্প্রীতির বার্তা

দাপুটে জয়ে শেষ আটে আর্সেনাল, লেভারকুসেনের বিদায়

আইসিসির কাছে এখন আশ্রয় খুঁজছে বিসিবি

পিএসএলে নাহিদের সতীর্থ শরিফুল

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

‘পাকিস্তান ও ইসরায়েলি শাসনে পার্থক্য করা খুব কঠিন’

প্রোটিয়াদের ধসিয়ে সমতায় কিউইরা

এনএসসির তদন্ত কমিটি নিয়ে বিসিবির উদ্বেগ