টানটান উত্তেজনা আর রক্ষণাত্মক কৌশলের বিপক্ষে লড়াই করে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা। ম্যাচে সমতাসূচক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোলটি এসেছে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর পা থেকে, যা দলকে নকআউট পর্বের টিকিট এনে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি এবং দলের কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্যাসেমিরো দলের ধৈর্য এবং ঐক্যকে এই জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাপানের রক্ষণভাগ ভাঙা কতটা কঠিন ছিল, তা ম্যাচ শেষেই অকপটে স্বীকার করেন ক্যাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই জয়ের পেছনে আমাদের শান্ত থাকা, ধৈর্য ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জাপান খুবই লো ব্লকে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে।’
ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভেদ করা সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করেছিলাম যে সঠিক সময়টি আসবে। আমাদের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষের ওপর ধরে রাখা চাপই ছিল এই ম্যাচের মূল চাবিকাঠি।’
ম্যাচের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে পেরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে অনেক আবেগ অনুভব করছি। আপনি যখন গোল করবেন, তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবেন যেন তিনি সেই মুহূর্তে আপনাকে সঠিক পথ দেখান। সত্যিই একসঙ্গে অনেকগুলো আবেগ কাজ করছে।’
স্কোয়াডের গভীরতা এবং দলের তরুণদের অবদানের কথা বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাকে অবশ্যই পুরো দলটিকে মূল্যায়ন করতে হবে। মার্তিনেল্লি জয়সূচক গোলটি করেছে। বিশ্বকাপ জিততে হলে এটাই একমাত্র পথ—আপনাকে পুরো দলের শক্তিকে মূল্যায়ন করতে হবে।’
ক্যাসেমিরোর চমৎকার পারফরম্যান্স, মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোল এবং পুরো দলের লড়াকু মানসিকতার ওপর ভর করেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের এই ধারাবাহিকতা নকআউট পর্বেও বজায় থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা কোটি ব্রাজিল ভক্তের।