হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

‘ওরা ভালো খেলেছে, আমি দুঃখিত হার মেনে নিচ্ছি’

অশ্রুসিক্ত চোখে মেসির স্বীকারোক্তি

স্পোর্টস ডেস্ক

"স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, তা ভুলে যাব। আমি আমার দেশের মানুষ, আমার সতীর্থ ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাই।"

বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর গলায় রানার্সআপের মেডেল, চোখে অশ্রু আর কণ্ঠে প্রতিপক্ষের প্রতি অকপট স্বীকৃতি—লিওনেল মেসির প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল একই সঙ্গে সৌজন্য ও বেদনা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার রাতে নিজের ব্যর্থতার অজুহাত না খুঁজে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বই মেনে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হার মানে আর্জেন্টিনা।

ফাইনালে বহু প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং, নিখুঁত মার্কিং ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে তিনি ছিলেন অস্বাভাবিকভাবে নিস্প্রভ। ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটে মেসি মাত্র দুবার বলে স্পর্শ করার সুযোগ পান। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটিও শট নিতে পারেননি তিনি। বল পায়ে তার স্বাভাবিক প্রভাব, ড্রিবল কিংবা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সেই পরিচিত জাদুও দেখা যায়নি।

আসলে স্পেন এমনভাবেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল যে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ, বিশেষ করে মেসি, কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বল দখল, পাসিং, সুযোগ সৃষ্টি—প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আধিপত্য দেখায় লা রোজা। পুরো ম্যাচে মিনিটে শটের হিসাব ছিল স্পেন২০- আর্জেন্টিনা ২। এই দুটো শটও আবার আর্জেন্টিনা নেয় ম্যাচের ১১৭ মিনিটের পর। প্রথম নব্বই মিনিট স্পেনের পোস্টে কোনো অন টার্গেট শটই নিতে পারেনি তারা। শুধু শটে নয় পাসেও বড় ব্যবধান। পাসে স্পেন এগিয়ে ছিল ৮৪৫-৪৩৩ ব্যবধানে।

ম্যাচ শেষে কান্না ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমি দুঃখিত। তবে আমি জানি, আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।"

ফাইনালে ব্যর্থ হলেও পুরো বিশ্বকাপে মেসির অবদান ছিল অসাধারণ। ছয় ম্যাচে তিনি করেছেন ৭ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪টি গোল। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণ ছিলেন তিনি। নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচে তার গোল ও সৃজনশীলতাই দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। তবে শেষ মঞ্চে স্পেনের কৌশলী ফুটবলের সামনে সেই জাদু আর দেখা যায়নি।

তারপরও হারকে মর্যাদার সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

"ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু তাই বলে আমরা এই বিশ্বকাপে যা অর্জন করেছি, তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়," বলেন মেসি।

বিশ্বকাপ ট্রফি এবার হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু পরাজয়ের মুহূর্তেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে, নিজের দেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং চোখের জলে সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে মেসি আবারও দেখিয়ে দিলেন—মহানত্ব শুধু জয়ের মধ্যেই নয়, পরাজয়কে গ্রহণ করার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।

বোলারদের বধ্যভূমি রাঁচিতে রেকর্ড ও ছক্কার বৃষ্টি

ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে ফিফার সঙ্গে অসহযোগিতার হুমকি বিরোধীদের

বিশ্বকাপ কুইজে বিজয়ীদের পুরস্কার দিল ইউএস-বাংলা ও ঢাকা ফ্ল্যাশ

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা

আর্জেন্টিনার জালে সিডনি ক্যাব্রালের গোলই বিশ্বকাপ সেরা

মার্কিন কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে তলব

আর্জেন্টিনা হারিয়েছে আভিজাত্য আর মর্যাদাও

বিশ্বমঞ্চ থেকে ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের বিদায়

বিশ্বকাপ জিতেই অস্ত্রোপচারের টেবিলে রদ্রি

জার্মানির নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ