২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্সের পর দেশে ফিরেই বীরের সংবর্ধনা পেয়েছে মিসর জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছে নতুন ইতিহাস গড়া ফারাওদের ঘিরে এখন পুরো দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ।
গত শুক্রবার দেশে ফেরার পর রাজধানী কায়রোয় হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো হয়। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও জাতীয় দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। এরপর সোমবার আয়োজন করা হয় ‘১০০ মিলিয়ন ধন্যবাদ’ শীর্ষক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
কায়রো আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ছাদখোলা বাসে করে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন মোহামেদ সালাহ ও তাঁর সতীর্থরা। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থক করতালি আর উচ্ছ্বাসে বরণ করে নেন বিশ্বকাপের নায়কেদের। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল বর্ণিল আতশবাজি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৫ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইনে অনুষ্ঠানটি অনুসরণ করেছেন। শেষ পর্বে জনপ্রিয় মিসরীয় গায়ক ও অভিনেতা তামের হোসনির কনসার্ট অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
এবার ছিল মিসরের ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। তবে এই আসরেই তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পাশাপাশি বেলজিয়াম ও ইরানের বিপক্ষে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় দলটি।
শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফারাওরা।
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দুর্দান্ত লড়াই করেছিল মিসর। একসময় তারা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।
যদিও শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবু এবারের বিশ্বকাপ মিসরের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আর সেই সাফল্যের স্বীকৃতি দিতেই দেশের মানুষ ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দিলেন সালাহদের।