গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে ভিন্ন বাস্তবতার সামনে জার্মানি ও ইকুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপ থেকে এক ম্যাচ বাকি থাকতে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে জার্মানি। কুরাসাওকে ৭-১ আর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি জার্মানির জন্য নিছক আনুষ্ঠানিকতার। অন্যদিকে জার্মানি ম্যাচটি ইকুয়েডরের জন্য দাঁড়িয়েছে ‘বাঁচা-মরা’র লড়াই হিসেবে। এ ম্যাচ হারলেই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেবে ইকুয়েডর। আর জিততে পারলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে তারা। তবে শর্ত হলো, গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে আইভরি কোস্টকে ড্র কিংবা হারতে হবে। তাহলেই বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেবে ইকুয়েডর।
গত ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ড্র করায় জটিল সমীকরণের মুখে পড়েছে ইকুয়েডর। ২৭ শট নিয়েও কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি তারা। ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচে জার্মানি শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও আশাবাদী ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার নাদিম আমিরি। তিনি বলেন, ‘আমরা মোমেন্টাম ধরে রাখতে চাই। জয় আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।’ অন্যদিকে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ হলেও ইকুয়েডরের বিপক্ষে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাবেন না জার্মান কোচ জুলিয়ান নিগলসম্যানÑএমনটাই প্রত্যাশা করছেন নাদিম, ‘স্টেডিয়ামে জার্মানির অনেক ভক্ত থাকবেন। অনেকে ঘরে গিয়ে খেলা দেখবেন। আমরা জয় চাই। এজন্য সবকিছু উজাড় করে দেব। জুলিয়ানকে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখছি না। আমরা ফাইনাল মনে করেই খেলব।’
ইকুয়েডর ম্যাচে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ‘ম্যাচ টাইম’ দেওয়ার চিন্তা থাকবে জার্মান কোচ নিগলসম্যানের। নকআউট ম্যাচের আগে গতিময় ফুটবলের এই ছন্দ ধরে রাখতেই মাঠে নামবে জার্মানি। নিগলসম্যান আভাস দিয়েছেন, ম্যাচে বেঞ্চের খেলোয়াড়রা বেশি সুযোগ পেতে পারেন। গোলবারের নিচে দেখা যেতে পারে ওলিভার বুম্যাসকে। জার্মান দলে আরেকটি পরিবর্তন অবশ্যই যাবে। গোড়ালির লিগামেন্ট চোটের কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে নিকো শ্লটারবেকের। এই সেন্টার ব্যাকের জায়গায় অ্যান্তনিও রুডিগার জায়গা নিতে পারেন। রক্ষণভাগে বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য জনাথন টহকে আরেকটি সুযোগ দিতে পারেন কোচ। একাদশে ফিরতে পারেন ডেভিড রাওমও। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে দেখা যেতে পারে লিওন গুরেটজকাকে। আইভরি কোস্ট ম্যাচে সুপার-সাব ডেনিজ উদনাভ জোড়া গোল করেছেন। শুরুর একাদশেই উদনাভ থাকছেন। ছন্দ ধরে রাখতে জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান উইর্টজকেও খেলার মধ্যে রাখতে চান জার্মান কোচ।
এ পর্যন্ত দুই ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে জার্মানি ও ইকুয়েডর। সর্বশেষ ২০১৩ সালে প্রীতি ম্যাচে জার্মানরা ৪-২ গোলে হারায় ইকুয়েডরকে। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল ইকুয়েডর।