বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার মঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তার আরেকটি প্রদর্শনী করল ফ্রান্স। সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে অনায়াসেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ম্যাচের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির পাশে উঠে এসেছেন।
নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের দখলে। একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রথমার্ধে বারবার হতাশ হতে হয়। ২১ মিনিটে এমবাপ্পের করা গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর বারকোলা, রাবিও, অলিসে ও এমবাপ্পের একাধিক প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, দুটি শট ফিরে আসে গোলপোস্টে লেগে।
অবশেষে বিরতির ঠিক আগে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। অলিসের পাস থেকে বক্সের বাম প্রান্তে বল পেয়ে চমৎকার স্কিল দেখিয়ে মার্কারকে কাটিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে। গোল করার পর তিনি ছুটে গিয়ে সম্প্রতি মাকে হারানো কোচ দিদিয়ের দেশমকে জড়িয়ে ধরেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ফ্রান্সের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৫৩ মিনিটে অলিসের আরেকটি নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা। এরপর ৭৪ মিনিটে আবারও অলিসের অ্যাসিস্টে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। প্রথম গোলের মতোই বক্সের বাম দিক থেকে নিচু শটে সুইডিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
এই জোড়া গোলে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান উচ্চতায় পৌঁছেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার মোট গোলসংখ্যা হয়েছে ১৮, যেখানে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির রয়েছে ১৯টি।
সুইডেন অবশ্য পুরো ম্যাচেই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গোলরক্ষক জেটারস্ট্রমের একাধিক দুর্দান্ত সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। ফ্রান্স পুরো ম্যাচে ২৫টি শট নেয়, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে সুইডেনের আটটি শটের কোনোটিই ফরাসি রক্ষণকে বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় দেওয়া প্যারাগুয়ে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোয় এই দুই দলের দেখা হয়েছিল, যেখানে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স। প্রায় তিন দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল।