ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। ইংল্যান্ডের ব্যস্ত অফিস সময়ের পর যখন ফুটবলপ্রেমীরা ঘরে ফিরবেন, ঠিক তখনই আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই ঐতিহাসিক লড়াই। গ্রুপ ‘এল’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রেখেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। অন্যদিকে আফ্রিকার চমক ডিআর কঙ্গো সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে দুদলের শক্তির জায়গা, দুর্বলতা এবং পরিসংখ্যানের হিসাব-নিকাশ ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দুদল মাঠে নামছে আজ রাত ১০টায়।
শেষ ম্যাচে পানামাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রেখেছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে খেলা কিছুটা ম্যাড়মেড়ে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ‘থ্রি লায়ন্স’রা। দলের সেরা তারকা হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহ্যামের দ্রুতগতির দুটি গোল দলকে এনে দেয় এক সহজ জয়। এই গোলের মাধ্যমে হ্যারি কেইন বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।
গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের খেলা শতভাগ নিখুঁত না হলেও ইতিহাস বলে, নিখুঁত না খেলেও বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে, ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৭০ ও ২০০২ সালে ব্রাজিল ছাড়া কোনো দলই প্রতিটি ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারেনি। তাছাড়া কোচ টমাস টুখেলের অধীনে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এখনো অপরাজিত ইংল্যান্ড (১১ ম্যাচে ১০ জয় ও ১ ড্র)। রন গ্রিনউড (১৬ ম্যাচ) এবং রয় হজসনের (১৪ ম্যাচ) পর টুখেলই ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘতম অপরাজিত যাত্রার রেকর্ড গড়লেন।
ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ডিআর কঙ্গো। এর আগে ১৯৭৪ সালে ‘জায়ারে’ নামে তারা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল, যেখানে তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে এবার সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের অধীনে এক নতুন কঙ্গোকে দেখছে বিশ্ব। পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ৫-৩-২ ফরমেশনের ‘ডিফেন্সিভ ওয়াল’ তৈরি করে মাত্র একটি করে গোল হজম করেছে তারা।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত এক জয় ছিনিয়ে নেয় ‘দ্য লিওপার্ডস’রা। দলের প্রধান তারকা ইয়োয়ান উইসা জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েন। প্রিমিয়ার লিগের পুরো সিজনে মাত্র একটি গোল করা উইসা চলতি বিশ্বকাপেই ইতোমধ্যে দুটি গোল করে ফেলেছেন। চোটমুক্ত কঙ্গো শিবির এ ম্যাচেও ইংল্যান্ডের তারকাখচিত আক্রমণভাগকে রুখে দিতে তাদের রক্ষণাত্মক কৌশল কাজে লাগাবে।
ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ রাইট ব্যাক পজিশন। রিচ জেমসের পর পানামা ম্যাচে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়েছেন আরেক ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসাহ। টুখেল আশাবাদী হলেও জেমসের ফেরা অনিশ্চিত, যার ফলে আজ রাতে ডেড স্পেন্সের মূল একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিত। উইংয়ে বুকায়ো সাকা এবং মার্কাস রাশফোর্ড আক্রমণভাগের দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর কোচ দেসাব্রে ৪-৪-২ ফরমেশন থেকে সরে এসে আবার ৫-৩-২ ফরমেশনে ফিরতে পারেন, যেখানে আক্রমণভাগে অভিজ্ঞ সেড্রিক বাকাম্বু ও উইসার জুটি দেখা যেতে পারে।
এ ম্যাচে যে দলই জিতবে, শেষ ১৬তে তাদের মুখোমুখি হতে হবে মেক্সিকো অথবা ইকুয়েডরের। আর সেই বাধা পার হতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হতে পারে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সঙ্গে। কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভাঙা ইংল্যান্ডের জন্য সহজ হবে না, তবে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের মতো বিশ্বমানের তারকারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে প্রস্তুত। ফুটবলপ্রেমীরা তাই আজ রাতে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।