সমালোচনার চাপ আর ইউরোপীয় ব্যর্থতার ধাক্কা—সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটা ছিল একধরনের মানসিক পরীক্ষা। কিন্তু সেই চাপের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে যেন নিজের জবাবটা মাঠেই দিয়ে দিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। লা লিগায় দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচের শুরুটা ছিল ধীরগতির, এমনকি কিছুক্ষণ ধরে আলাভেসও আক্রমণ তৈরি করে রিয়ালকে চাপে রাখে। গ্যালারিতে অস্থিরতা বাড়তে থাকে, সমর্থকদের একাংশ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকে। তবে ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ম্যাচে এগিয়ে যায় রিয়াল। তার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৫০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন তিনি। গোলের পর মুহূর্তেই বদলে যায় বার্নাব্যুর আবহ—যে গ্যালারি কিছুক্ষণ আগে দুয়োধ্বনি দিচ্ছিল, সেখানেই শুরু হয় করতালির ঝড়। এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের জন্য বিশেষ এক জবাব, কারণ ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে আগের কয়েকটি ম্যাচে তিনি ছিলেন গোলহীন। কিন্তু এই গোল যেন তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে এবং সমর্থকদের মনও বদলে দেয়।
শেষদিকে টনি মার্টিনেজ আলাভেসের হয়ে একটি গোল শোধ দিলেও জয় হাতছাড়া হয়নি রিয়ালের। তবে ম্যাচে আরেক দুশ্চিন্তার খবর আসে ডিফেন্ডার এদের মিলিতাওয়ের চোটে মাঠ ছাড়ার ঘটনায়। ম্যাচ শেষে কোচ আলভারো আরবেলোয়া ভিনিসিয়ুসের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ভিনি কঠিন সময়ে সবসময় নিজের সেরাটা দেয়। সে লুকিয়ে থাকে না, সাহস নিয়ে লড়াই করে এবং আজ সে দুয়োধ্বনিকে করতালিতে পরিণত করেছে।
সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ব্যর্থতার পর এই জয় রিয়ালের জন্য শুধু তিন পয়েন্ট নয়, ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—আর তার কেন্দ্রে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি দুয়োধ্বনিকে পরিণত করলেন গ্যালারির করতালিতে।