বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের রোজারিও মিকেল কিংবা ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের নাম দুটিই বেশি আলোচনায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ বদলে গেছে সব হিসাব-নিকাশ। এ দুজনকে ছাপিয়ে এখন বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। মূলত তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক আর সমৃদ্ধ কোচিং অভিজ্ঞতার কারণে মিকেল ও কোলম্যানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার পথে ৬৩ বছর বয়সি এই কোচ।
মিকেল ৩০ ও কোলম্যান ২৬ হাজার ডলার পারিশ্রমিক চেয়েছেন। তাদের চেয়ে অনেক কম, এমনকি বিদায়ী কোচ হাভিয়ের কাবরেরার প্রায় কাছাকাছি বেতন চেয়েছেন স্টর্ক। তাছাড়া ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়া অঞ্চলেও কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। ২০১৬ সালে হাঙ্গেরিকে ইউরো কাপের নকআউট পর্বে তুলেছিলেন এই কোচ। প্রায় দুই বছর মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন স্টর্ক। তাছাড়া বেলজিয়াম ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে তার কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের জন্য এই জার্মান কোচকেই সেরা পছন্দ বাফুফে কর্তাদের।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার স্টর্কের সাক্ষাৎকার নেন বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্যরা। বেতনসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দরকষাকষি হয়েছে। জানা গেছে, বেশি অর্থ খরচ করে মিকেল কিংবা কোলম্যানকে নিয়োগ না দিয়ে বরং স্টর্কের প্রতিই ঝুঁকছে বাফুফে। আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে ফুটবল দলের কোচ ঘোষণা দেবে বাফুফে। শেষ পর্যন্ত হামজা-শমিতদের নতুন কোচ হিসেবে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলা স্টর্কের নাম ঘোষণা করেন কি না বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জানা যায়, সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে বড় অংকের অর্থ খরচ করে কোলম্যানকে নিয়োগ দিতে পারে বাফুফে। তা না হলে অন্য পথেই হাঁটতে হবে।
গত এপ্রিলে হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে বাফুফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ফুটবল দলের কোচের পদটি শূন্য হয়। তাই নতুন কোচ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বাফুফে। এ বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রেকর্ড প্রায় ৩০০ কোচ আবেদন করেন। সেখান থেকে দফায় দফায় যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করে ফুটবল ফেডারেশন। সেখান থেকে আবার তালিকা ছোট করে ছয়জনে আনা হয়। শুধু পারিশ্রমিক কিংবা অভিজ্ঞতার বিষয়ই নয়, প্রো-লাইসেন্সসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই এবার কোচ নিয়োগ দিচ্ছে বাফুফে।