টানা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে বুকায়ো সাকার একমাত্র গোলে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে বুদাপেস্টের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিকেল আর্তেতার দল। এর মাধ্যমে ২০ বছর পর আবারও ফাইনালের স্বাদ পেল ইংলিশ ক্লাবটি।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে আর্সেনাল। চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পর টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল করে নিজের ফর্মের জানান দেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে তার সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে শেষ মুহূর্তে আলেকজান্ডার সরলথ নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করলে ম্যাচে আর ফেরা হয়নি তাদের। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের মাঠে শক্তিশালী রক্ষণভাগের পরিচয় দেওয়া আর্সেনাল এদিনও ছিল অটুট—৭ ম্যাচে মাত্র ৩ গোল হজমের পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।
আর্সেনালের জন্য এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৬ সালে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে প্রথমবার ফাইনালে খেলেছিল দলটি। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও সেই মঞ্চে ফেরার কৃতিত্ব গেল কোচ মিকেল আর্তেতার ঝুলিতে।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় আর্তেতা বলেন, “অবিশ্বাস্য এক রাত। আমরা একসাথে আবার ইতিহাস তৈরি করেছি। আমি সবার জন্য অত্যন্ত গর্বিত। স্টেডিয়ামের পরিবেশ এবং সমর্থকদের সমর্থন ছিল অনন্য।”
তিনি আরও যোগ করেন, “স্টেডিয়ামের বাইরে আমাদের যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, তা ছিল বিশেষ এবং অনন্য। এখানকার পরিবেশ এবং আমাদের সমর্থকদের তৈরি করা এনার্জি আমি আগে কখনও এই স্টেডিয়ামে অনুভব করিনি। আমরা জানতাম এই জয়টি সবার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছেলেরা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে এবং ২০ বছর পর আমাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ফিরেছি।”
এদিকে ঘরোয়া লিগেও ভালো অবস্থানে রয়েছে আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটি এভারটনের সঙ্গে ড্র করায় শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে গেছে গানার্সরা। ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখন বাস্তবের কাছাকাছি।
চলতি মাসের শেষ দিকে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেখানে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজির মধ্যকার লড়াইয়ের বিজয়ী দল।