ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা অর্থাৎ “গোল্ডেন বুট” কে জিতবেন?। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য মিরর–এর এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকা ও বিশ্লেষণ উঠে এসেছে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে কঠিন প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে বড় নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। এদের পাশাপাশি ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র, স্পেনের লামিনে ইয়ামাল এবং আর্জেন্টিনার তরুণ সেনসেশন জুলিয়ান আলভারেজকেও সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এমবাপ্পে ও কেইন তাদের আগের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স এবং ক্লাব ফর্মের কারণে এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরগুলোর একটি, কারণ এবারই প্রথম ৪৮ দল অংশ নিচ্ছে। এর ফলে টুর্নামেন্টে ম্যাচ সংখ্যা বাড়বে, যা শীর্ষ ফরোয়ার্ডদের জন্য গোল করার সুযোগও বাড়িয়ে দেবে। তবে একই সঙ্গে শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যেও গোল ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এককভাবে কাউকে এগিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান সময়ের ফর্ম বিবেচনায় কিলিয়ান এমবাপ্পে সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যেই আগের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে ছিলেন এবং ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছিলেন। অন্যদিকে হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যেখানে তার পেনাল্টি এবং সেট-পিস দক্ষতা তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
নরওয়ের আর্লিং হালান্ডও এই তালিকায় অন্যতম শক্তিশালী নাম হিসেবে উঠে এসেছে। ক্লাব ফুটবলে তার গোল করার ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বকাপের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকারে পরিণত করেছে। যদিও নরওয়ের টুর্নামেন্ট পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করবে দলগত সাফল্যের ওপর।
এছাড়া ভিনিসিউস জুনিয়র, যিনি ব্রাজিলের আক্রমণভাগে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত, তিনিও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন। তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালও অনেকের নজরে রয়েছেন, যিনি ইতোমধ্যেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গোল্ডেন বুট জয় সাধারণত সেই খেলোয়াড়দের পক্ষেই যায় যাদের দল অন্তত সেমিফাইনাল বা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়। কারণ বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ মানেই বেশি গোল করার সম্ভাবনা। ফলে কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতা নয়, দলগত পারফরম্যান্সও এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং ব্যক্তিগত গৌরবের লড়াইও হতে যাচ্ছে। আর সেই লড়াইয়ে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকাররা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।