দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা শেষ করে আবারও ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে উত্তর লন্ডনের দলটি।
লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। লাল-সাদা জার্সিতে হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাস যেন দলটিকে বাড়তি প্রেরণা জোগায়। অন্যদিকে, বৃষ্টিভেজা রাতে হতাশায় ডুবে যেতে দেখা যায় অ্যাটলেটিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনেকে; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে যায় তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে তার করা একমাত্র গোলই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয় এবং দলকে পৌঁছে দেয় ৩০ মে’র ফাইনালে। গোলের পর সাকা হাঁটু গেড়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে উদযাপন করেন—যেন পুরো রাতের নায়ক তিনিই।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে এমিরেটস স্টেডিয়াম উৎসবে ফেটে পড়ে। খেলোয়াড়রা একে অপরের হাত ধরে সমর্থকদের দিকে ছুটে যান, আর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় গান, স্লোগান আর উচ্ছ্বাস। কোচ মিকেল আর্তেতাকেও দেখা যায় আনন্দে ভেসে যেতে, সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দিতে।
আর্সেনালের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বশেষ তারা এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলেছিল ২০০৬ সালে। ২০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও সেই মঞ্চে ফিরছে দলটি। এবার তাদের গন্তব্য বুদাপেস্ট, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাৎকারে সাকা বলেন, “এটা সত্যি অসাধারণ! আমাদের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, সমর্থকদের কাছে এর মানে কী—তা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। আমরা সবাই আজ ভীষণ খুশি।”
এদিকে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও শিরোপার লড়াইয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে আর্সেনাল। শেষ তিন ম্যাচ জিততে পারলে ২২ বছর পর লিগ শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। ফলে ইউরোপ ও দেশীয়—দুই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখন হাতছানি দিচ্ছে গানারদের।
ফাইনালে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজির মধ্যকার লড়াই থেকে। সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষে পিএসজি ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। আজ রাতেই নির্ধারিত হবে ফাইনালের আরেক দলের ভাগ্য।