নেইমার জুনিয়র কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নেইÑএমন আশঙ্কাই করা হচ্ছিল। সেই শঙ্কাটা একটু একটু করে আরো জোরালো হচ্ছে দিন দিন। বিশ্বকাপ মিশনে ব্রাজিল দলে নাও থাকতে পারেন এই মেগাস্টার। বৈশ্বিক আসরের প্রস্তুতি হিসেবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এ দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল ঘোষণায় পুরোনো সেই আশঙ্কাটা আরো বেড়ে গেল।
প্রস্তুতি ম্যাচের দলে নেই নেইমার। তবে বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার দরজাটা এখনো খোলা রয়েছে তার সামনে। তবে তার আগে নেইমারকে শতভাগ ফিট হতে হবে। এ নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার শতভাগ ফিট থাকলে বিশ্বকাপে খেলতে পারে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো থাকতে হবে। এখন এ তালিকায় কেন নেই? কারণ, সে এখনো পুরোপুরি ফিট নয়। চূড়ান্ত দল এক বিষয়, আর এ মুহূর্তের প্রীতি ম্যাচগুলো আরেক বিষয়। এখন আমার দরকার পুরোপুরি ফিট খেলোয়াড়। নেইমারকে নিয়মিত খেলতে হবে, কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং ভালো শারীরিক অবস্থায় নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুতে চোট পেয়ে হলুদ জার্সিটা আর গায়ে জড়াতে পারেননি নেইমার। তবে এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। দল ঘোষণার পর সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান নেইমার। নিজের হতাশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘দলে ডাক না পেয়ে কষ্ট পেয়েছি। তবে আমার লক্ষ্য অপরিবর্তিত আছে। প্রতিদিন অনুশীলন করে, ম্যাচ খেলে আমি আবার ফিরতে চাই। স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে।’
নেইমারের নাম না থাকলেও ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচের দলে ডাক পেয়েছেন এনদ্রিক। অলিম্পিক লিওঁতে ধারে খেলে ১৯ বছরের এই ফরোয়ার্ড ফিরেছেন চেনা রূপে। সঙ্গে দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো ও বোর্নমাউথের ১৯ বছরের তরুণ ফুটবলার রায়ান ভিতর।
বাংলাদেশ সময় ২৬ মার্চ রাতে বোস্টনে ফ্রান্সকে মোকাবিলা করবে ব্রাজিল। আর ১ এপ্রিল সকাল ৬টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে অরল্যান্ডোতে। ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের মহারণে ব্রাজিল নামবে ১৩ জুন, প্রতিপক্ষ মরক্কো। গ্রুপ ‘সি’তে ব্রাজিলের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
ব্রাজিল দল
গোলরক্ষক : আলিসন, বেন্তো ও এদেরসন।
রক্ষণভাগ : অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, দগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, ইবানিয়েজ, লিও পেরেইরা, মারকিনিওস ও ওয়েসলি।
মাঝমাঠ : আন্দ্রে সান্তোস, দানিলো বারবোসা, ফাবিনিও, ক্যাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল সারা।
আক্রমণভাগ : এনদ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, জোয়াও পেদ্রো, লুইজ হেনরিক, মাতেউস কুনিয়া, রাফিনিয়া, রায়ান ভিতর ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।