টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ মিস করছে ইতালি। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চের বাছাই পর্বের বৈতরণী পেরোতে ব্যর্থ হওয়ার দুদিন বাদেই পদত্যাগ করলেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। পদত্যাগের চাপ থাকলেও শুরুতে ‘না’ করে দিয়েছেন অবশ্য। তবে আজ বৃহস্পতিবার মত পাল্টে গ্রাভিনা সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
২০১৮ সালে গ্রাভিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে পারেনি আজ্জুরি শিবির। তার আগের সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ইতালি নাম লিখতে না পারায়। মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগাভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ফুটবলের বৈশ্বিক আসরে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হারের পর ইতালির ফুটবল-কর্তারা দেশের অভ্যন্তরে তীব্র চাপে পড়ে যান। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা ডিম ছুড়ে নিজেদের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এফআইজিসি–প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও শেষমেষ সরে দাঁড়ালেন গ্রাভিনা।
ফেডারেশন বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ২২ জুন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটি হবে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরো আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে ইতালি। তার চোখে ইতালির স্টেডিয়াম ‘ইউরোপের অন্যতম বাজে’।
সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক’।