ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াইয়ে এবার যেন আগেভাগেই সব হিসাব-নিকাশ চুকে গেছে। মৌসুম শেষ হতে এখনো কিছু ম্যাচ বাকি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, নাটকীয় কিছু না ঘটলে ট্রফিটি উঠতে যাচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের হাতেই। মৌসুমের শেষ ভাগে এসে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন কেইন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে আছেন ১৬ পয়েন্টে। এই ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা মৌসুমের এই সময়ে প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট পুরস্কারটি দেওয়া হয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ লিগগুলো মিলিয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে এই পুরস্কার চালু হয়। তবে ১৯৯৭ সাল থেকে এতে যুক্ত হয় পয়েন্টভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি, যেখানে লিগের মান অনুযায়ী প্রতি গোলের জন্য আলাদা পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ—ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা, ইতালির সিরি আ, জার্মানির বুন্দেসলিগা এবং ফ্রান্সের লিগওয়ানে প্রতি গোলের জন্য দেওয়া হয় ২ পয়েন্ট। ৬ষ্ঠ থেকে ২১তম অবস্থানে থাকা লিগগুলোতে প্রতি গোলের মূল্য ১.৫ পয়েন্ট এবং এর বাইরে অন্যান্য লিগে প্রতি গোলের জন্য দেওয়া হয় ১ পয়েন্ট।
এই পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ফুটবলার আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, যিনি ছয়বার এই সম্মান জিতেছেন। তার ঠিক পরেই আছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যার ঝুলিতে রয়েছে চারটি গোল্ডেন বুট।
চলতি মৌসুমে জানুয়ারির শেষ দিকে কেইন ও এমবাপ্পে দুজনই ২১টি করে গোল করে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে থাকলেও ফেব্রুয়ারি থেকে চিত্র বদলে যেতে থাকে। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হলান্ডও তাদের কাছাকাছি ছিলেন ২০ গোল ও ৪০ পয়েন্ট নিয়ে। এক পর্যায়ে ইনজুরি ও ফর্মহীনতার কারণে পিছিয়ে পড়েন এমবাপ্পে। এই সময়টাতেই দারুণ ছন্দে ছিলেন হ্যারি কেইন। ৩১ জানুয়ারি থেকে বায়ার্ন মিউনিখের নয় ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে মাঠে নেমে তিনি করেন ১০টি গোল। এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৩৬টি গোল করে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন কেইন।