ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালের টিকিটের দাম হঠাৎ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি।
ফিফার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি-১’ হিসেবে এই টিকিটগুলো বিক্রির জন্য তোলা হয়। এর আগে একই শ্রেণির টিকিটের দাম ছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার। অর্থাৎ নতুন মূল্য আগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ।
২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার। সেই তুলনায় এবারের দাম ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও আকাশছোঁয়া। ১৪ জুলাই ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১১ হাজার ১৩০ ডলার পর্যন্ত। আর আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ১৫ জুলাইয়ের সেমিফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ১০ হাজার ৬৩৫ ডলার।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের কিছু টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার ৭৩৫ ডলার পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের বিপক্ষের ম্যাচগুলোতেও কয়েক হাজার ডলারের টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই মূল্যবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেভারলি হিলসে মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজারের বাস্তবতা দেখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বিনোদন শিল্প বিশ্বের সবচেয়ে বড়গুলোর একটি, তাই বাজারদরের ভিত্তিতেই মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, কম দামে টিকিট বিক্রি করলে সেগুলো পুনরায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়ে যায়। তার দাবি, ফিফার নির্ধারিত দামও পুনর্বিক্রয় বাজারে দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাচ্ছে।
তবে ইনফান্তিনোর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রে এনবিএ প্লে-অফসহ অনেক বড় ক্রীড়া ইভেন্টের টিকিট এখনও ৩০০ ডলারের কমেও পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ফিফার রিসেল মার্কেটপ্লেসে ফাইনালের টিকিটের দাম আরও বিস্ময়কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানে কিছু টিকিটের মূল্য চাওয়া হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ডলারেরও বেশি। যদিও ফিফা জানিয়েছে, এসব মূল্য তারা নির্ধারণ করে না। তবে প্রতিটি পুনর্বিক্রিত টিকিট থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে ফি নেয় সংস্থাটি।
এদিকে, টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কংগ্রেস সদস্য ফ্র্যাঙ্ক প্যালোন ও নেলি পো। তারা ফিফার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, অবিক্রিত টিকিটের সংখ্যা এবং অতিরিক্ত ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, ফিফা কৃত্রিমভাবে টিকিটের সংকট তৈরি করে চাহিদা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং ধাপে ধাপে টিকিট ছাড়ার মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি আসন বিন্যাসের তথ্য নিয়েও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।