বুদাপেস্টের স্বপ্ন এবার আর কেবল দূর কল্পনা নয়, এটি এখন আর্সেনাল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য একেবারে বাস্তব লড়াই। আজ রাত ১টায় লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট। প্রথম লেগের ১-১ সমতায় দুদলই এখন ফাইনালের খুব কাছে, আর সেই শেষ ধাপ পেরোনোর লড়াইয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
গত সপ্তাহে মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগে ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। তিনটি পেনাল্টি, ভিএআর বিতর্ক এবং শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায় ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ সমতায়। ভিক্টর গিওকেরেস ও জুলিয়ান আলভারেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন। তবে আর্সেনালের আরেকটি সম্ভাব্য পেনাল্টি রিভিউর পর বাতিল হওয়ায় বড় বিতর্ক তৈরি হয়, যা ম্যাচ শেষে কোচ মিকেল আর্তেতার অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও অ্যাওয়ে ম্যাচে হার না মানা আর্সেনালের জন্য এটি কাগজে-কলমে ইতিবাচক ফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এবার ঘরের মাঠ এমিরেটসে ফিরেছে আর্সেনাল, যেখানে তাদের আত্মবিশ্বাস আকাশছোঁয়া। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনো অপরাজিত দলটি ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। জয় বা ড্র—যেকোনো ইতিবাচক ফলই তাদের দুই দশক পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় মঞ্চের ফাইনালে পৌঁছে দিতে পারে। শুধু তা-ই নয়, টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকলে ক্লাব ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড গড়বে তারা।
প্রিমিয়ার লিগেও আর্সেনালের পারফরম্যান্স দারুণ। ফুলহ্যামের বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয়ে তারা শীর্ষে অবস্থান আরো শক্ত করেছে। এই ম্যাচে দলটির আক্রমণভাগ ছিল অত্যন্ত ফ্লুইড, যা অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে। বিশেষ করে বুকায়ো সাকা দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, যিনি সাম্প্রতিক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট দুটোই করেছেন। তবে তার সামান্য ইনজুরি সমস্যা থাকায় তাকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোচিং স্টাফ।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও কম যায় না। ডিয়েগো সিমিওনের দল সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমের মাঝপথে ভয়াবহ পারফরম্যান্সে ধস নামলেও শেষ কয়েক সপ্তাহে তারা আবার জয়ের ধারায় ফিরেছে। লা লিগায় শীর্ষ লড়াই থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ইউরোপে তারা এখনো ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। তবে অ্যাটলেটিকোর জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো জুলিয়ান আলভারেজের ফিটনেস। প্রথম লেগে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেও তিনি গুরুতর ইনজুরির বাইরে আছেন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত। চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২৫ গোল করা আর্জেন্টাইন হিসেবে তিনি ইতোমধ্যেই লিওনেল মেসির রেকর্ড ভেঙে আলোচনায় আছেন।
দুদলের লড়াইয়ে ইতিহাসও আছে। চলতি মৌসুমেই অ্যাটলেটিকোকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল আর্সেনাল, যা এখন প্রতিশোধের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোও ইউরোপে বড় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, বিশেষ করে দুই লেগের টুর্নামেন্টে তারা বহুবার চাপ সামলেছে।
ইনজুরি নিয়েও দুদল কিছুটা সমস্যায় আছে। আর্সেনালের হয়ে ওদেগার্ড ও হাভার্টজের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোর জোসে গিমেনেজ অনিশ্চিত এবং কয়েকজন মিডফিল্ডার ইনজুরির কারণে বাইরে আছেন। সব মিলিয়ে এমিরেটসে এই ম্যাচ শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই। একদিকে আক্রমণাত্মক, তরুণ ও দ্রুতগতির আর্সেনাল; অন্যদিকে অভিজ্ঞতা, কৌশল ও রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলায় গড়া অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ফাইনালের টিকিট কার হাতে যাবে—তার উত্তর মিলবে আজ রাতেই।