হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

সুদানের দারফুরে ড্রোন হামলা, নারী-শিশুসহ শতাধিক নিহত

আলজাজিরা

ছবি: এএফপি

সুদানের দারফুর অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি বাজারে সামরিক ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১১৩ জন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স।

সোমবারের এ হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) যোদ্ধাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা কয়েকজন বেসামরিক ব্যবসায়ীও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী নিয়ালায় এ হামলা হয়। শহরটি আরএসএফের কার্যত রাজধানী হিসেবে পরিচিত। সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধে দেশটিতে চরম দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।

বুধবার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এক সিগারেট বিক্রেতা জানান, হামলার দিন সন্ধ্যায় বাজারে আরএসএফের শত শত যোদ্ধা জড়ো হয়েছিলেন। তাদের জমায়েতের ফাঁকে ফাঁকে নিজের দোকান সরিয়ে সিগারেট বিক্রি করতেন তিনি। রাত ৮টার দিকে একটি ড্রোন হামলা চালায়। এতে অসংখ্য যোদ্ধা ও খাবার বিক্রি করা নারী নিহত হন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী এপিকে বলেন, বিস্ফোরণটি ছিল ভয়াবহ। এতে অনেক যোদ্ধা নিহত হন।

তার ধারণা, নারী-শিশুসহ প্রায় ১৪ জন বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই চা ও খাবার বিক্রি করতেন।

প্রতিশোধের আশঙ্কায় দুই প্রত্যক্ষদর্শীই নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

এখনো নিখোঁজ অনেকে

দারফুরে ত্রাণকর্মী হিসেবে কাজ করা মুবারক বেখেইত বুধবার জানান, হামলার পর এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। হামলাটি একটি বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানায় ওই এলাকার কিছু বাড়ি থেকে এখনো লাশ উদ্ধার করা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, যুদ্ধে কোনো নৈতিকতা নেই। কিন্তু প্রতিদিন আমরা যে বাস্তবতা দেখি, তাতে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় বেসামরিক মানুষকে। তারা প্রাণ হারান, প্রিয়জন ও ঘরবাড়ি হারান। একই সঙ্গে পরবর্তী বোমা হামলার আতঙ্কে তাদের দিন কাটে।’

সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেসের মুখপাত্র মোহাম্মদ দিদান ফেসবুকে লিখেছেন, নিয়ালার পশ্চিমে দুমায়া শিবিরে এক বিমান হামলায় দেড় শতাধিক ‘মিলিশিয়া বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি’ নিহত হয়েছেন। তিনি হামলাটিকে ‘নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে চালানো বিমান হামলা’ বলে বর্ণনা করেন।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য

সোমবারের হামলায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। শহরটি থেকে সীমিত তথ্য পাওয়া যাওয়ায় স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী আরেকটি সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক বুধবার এক বিবৃতিতে প্রাথমিকভাবে ২১ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, গোলাবর্ষণে বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘নিয়ালায় চলমান সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের উৎসগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে হতাহত ব্যক্তিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বিবৃতি প্রকাশে দেরি হয়েছে।’

দ্বিতীয় হামলায় হাসপাতালে ৩৬ জনের লাশ

মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, বাজারে হামলার পর একটি বেসামরিক এলাকায় দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। নিয়ালায় সংস্থাটির সহায়তায় পরিচালিত একটি হাসপাতালে হামলার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৬ জনের লাশ নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের পরনে ছিল বেসামরিক পোশাক। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে সংস্থাটির কর্মীরা দেড় শতাধিক আহত মানুষকে দেখেছেন।

এমএসএফ হামলাগুলোকে ‘ভয়াবহ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘বাজার, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিতে হবে।’

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সুদানে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে ড্রোন হামলা। চলমান যুদ্ধে দেশটির কয়েকটি এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক হিসাব অনুযায়ী, আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিয়ালায় তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের মধ্যে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের হার জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৫ শতাংশ, আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ শতাংশে।

ইথিওপিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় ৬০ খ্রিষ্টান নিহত

লুলার জয়ে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন, ভোট বাতিলের দাবি বলসোনারোর

নাইজেরিয়ায় গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১০

ইথিওপিয়ায় দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ, প্রাণ বাঁচাতে কেনিয়ায় পালালেন ১৪ হাজার মানুষ

সুদানে ড্রোন হামলায় কয়েক দিনে ১৬০ জনের বেশি নিহত

ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ বাড়াবেন না সিসি, ২০৩০ সালেই বিদায়

এক বছরে আমাজনে বন উজাড় কমেছে ৪২ শতাংশ

গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১২

ইবোলা ঠেকাতে তৎপর কেনিয়া, রাজধানীর বাইরে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

এক দ্বীপেই কচ্ছপ ১ লাখ ৮০ হাজার