সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পাশে দাঁড়াতে চারটি কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম রয়েছে। সেপ্টেম্বরে অস্ত্রের এই চালান পাঠানো হয়। ইয়েমেনে সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করছেন।
একাধিক পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, সৌদি আরব একটি তীব্র অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুথিদের আক্রমণের মুখে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে চলে গেছে এবং সেই আক্রমণ প্রতিহত করতেই এই প্রস্তুতি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার হুথিরা একটি সেতু ধ্বংস করে দেয়, যা তাইজ-সংলগ্ন সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোর সঙ্গে এডেনের সংযোগ স্থাপন করেছিল।
সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলাও বাড়িয়েছে। হুথিদের দাবি, এক দিনে সৌদি বাহিনী ৯৪টি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রিয়াদ জানিয়েছে, সানা, সাদা ও তাইজে তারা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও তুরস্কের সৌদি-সমর্থন বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এটিকে ওই চুক্তির প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত ও হুথিদের প্রতি তেহরানের সমর্থনের কারণে ইসলামাবাদকে সৌদি সম্পর্কের পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
এদিকে সৌদি আরব হুথিদের মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ইয়েমেন ইস্যুতে মতবিরোধ থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আরএ