ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলেছে। শনিবার রাতে আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা হয় বলে জানিয়েছে দখলদার দেশটি। পাশাপাশি দেশটি ত্রাণসহায়তার জন্য মানবিক করিডর খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। খবর বিবিসির।
রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে, ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে যে ‘গাজা উপত্যকায় সাহায্য প্রবেশের অনুমতি এবং সুবিধার্থে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা বিমান থেকে মানবিক সাহায্য ফেলেছে।’
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি গাজায় অনাহার সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে। এ দাবি খণ্ডন করতেই আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা হচ্ছে।
তারা বলেছে বিমান থেকে ময়দা, চিনি এবং টিনজাত খাবারসহ সাতটি প্যাকেজ সাহায্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফিলিস্তিনি এ ভূখণ্ডে খাদ্যসংকট ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল এ কথা জানাল।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এখনো এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
এদিকে, সাহায্য সংস্থাগুলো গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলাকে ‘অদ্ভুত বিভ্রান্তিমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে এ সমালোচনা করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি, নরওয়েজিয়ান শরণার্থী কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ফেডারেশন।
এরআগে ১০০ টিরও বেশি সাহায্য সংস্থা সতর্ক করে দেয়, উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক অনাহার ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে যে গাজার প্রায় তিনজনের মধ্যে একজন কয়েকদিন ধরে না খেয়ে আছেন।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অপুষ্টিতে ১২৭ জন মারা গেছে।
পশ্চিমা সরকারগুলো ইসরাইলের প্রতি চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলকে ‘অবিলম্বে ত্রাণ সরবরাহের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তারা গাজায় আবার আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা শুরু করবে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, দেশটি গাজায় ত্রাণ সরবরাহে জর্ডানসহ অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।
আরএ